বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ঈদকে সামনে রেখে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদক ব্যবসায়ীরা। ফতুল্লার প্রতিটি স্পটে মাদক দ্রব্য মজুত করছে ব্যবসায়ীরা। হেরোইন, ফেনসিডিল, গাঁজা ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন পণ্য প্রতিদিন বিভিন্ন স্পটে টুকছে। মাঝে মধ্যে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদকসহ দু-একজন আটক হলেও গডফাদাররা থাকছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। যারা ধরা পড়ছে তারাও আইনের ফাঁকফোকর গলিয়ে বেরিয়ে আসছে। স্থানীয় পুলিশ প্রসাশনের কঠোর নজরদারি থাকার পরেও মাদক ব্যবসায়ীরা হয়ে উঠছে আরো বেপরোয়া। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, মাদক সিন্ডিকেট ও গডফাদারদের সঙ্গে স্থানীয় প্রসাশনের কিছু কর্মকর্তার যোগাযোগ থাকায় মাদকের বড় বড় চালান ঢুকে পড়ছে ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায়। এ কারণে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না পুলিশ।
সূত্র জানায়, ফতুল্লায় মাদকের গডফাদাররা প্রভাবশালী ও তাদের হাত অনেক লম্বা থাকায় পুলিশ তাদের কর্ণ স্পর্শ করার সাহসও পায় না। ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশের মাদকের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করলেও পুলিশ সোর্সদের সহযোগিতায় মাদকের গডফাদাররা আগের চেয়ে বেশি সক্রিয় হয়ে গোটা নেটওয়ার্ক বিস্তার করেছে। সন্ধ্যা হতে না হতেই বিভিন্ন স্থানে গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা ও হেরোইনসহ মাদক দ্রব্য সেবনকারী ও ব্যবসায়ীদের শুরু হয় আনা গোনা। পুলিশের অভিযানে একাধিক মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার হলেও অসাধু গুটি কয়েক পুলিশ কর্মকর্তা এবং পুলিশ সোর্সদের যোগসাজসে ফতুল্লায় মাদক প্রবেশ করছে। আর মাদকের ভয়াবহ ছোবলে যুব সমাজ ধ্বংস হতে চলেছে। অপর দিকে স্কুল কলেজ পড়–য়া ছেলে মেয়েদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে অভিভাবকরা।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ফতুল্লার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে কমপক্ষে ৫০টি মাদকের স্পট। এসব স্পট থেকে পুলিশ সোর্সরা নিয়মিতভাবে মাসোহারা নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আর পুলিশ সোর্সদের মাসোয়ারা প্রদান না করা হলে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীদের। আর যে সকল মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশ সোর্সদের মাসোয়ারা দিচ্ছে তারা অনেকটা নির্বিঘেœ মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মাদক ব্যবসায়ী বলেন, মাঝে মধ্যে লোক দেখানো অভিযান চালিয়ে ২-১ জনকে আটক করলেও মোটা টাকার বিনিময়ে পরক্ষণেই তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। দেশের বর্ডার অধ্যুষিত এলাকা এবং টেকনাফের মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে ফতুল্লার মাদক ব্যবসায়ীদের গভীর সখ্যতা থাকার কারনে ফতুল্লায় পুলিশের ব্যাপক অভিযানের পরেও এলাকাটি হয়ে উঠেছে মাদকের স্বর্গরাাজ্য।
এ ব্যাপারে সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনের নিষ্কিয়তার কারণে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না।
ফতুল্লা থানা যুবলীগের সভাপতি মীর সোহেল আলী বলেন, মাদক রোধে ইতোপূর্বে ফতুল্লার বিভিন্ন স্পটে ব্যক্তি উদ্যোগে যুবলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে অভিযান চালিয়েছি। দুই একজনকে হাতেনাতে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছি।
ফতুল্লা মডেল থানার ওসি কামাল উদ্দিন বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পুলিশি অভিযানের পাশাপাশি প্রতিটি এলাকায় অপরাধ দমন বিষয়ক সভা পরিচালিত হচ্ছে। ঈদ উপলক্ষে এ অভিযান আরো জোরদার করা হচ্ছে। ঈদকে সামনে রেখে মাদক ব্যবসায়ীরা যাতে বেপরোয়া হয়ে না উঠিতে পারে এ জন্য পুলিশকে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
