বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে র্যাব-পুলিশের সোর্স পরিচয়দানকারী আনিস(৩৮)সহযোগীদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হওয়ার ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতেই নিহতের বড় ভাই জামান বাদী হয়ে শাহ আলম,পারভেজ,সজল ও রুবেলসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ্য করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনার পর পরই পুলিশ মামলার ৪ নম্বর আসামী রুবেল(২৪)কে গ্রেফতার করেছে। ৩দিনের রিমান্ড চেয়ে শুক্রবার দুপুরে তাকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হয়। অপরদিকে শুক্রবার দুপুরে ময়না তদন্ত শেষে আনিসের মরদেহ তার নিজ এলাকা বন্দরের কলাগাছিয়াস্থ সাবদী বাজারে নিয়ে যায়। বাদ জুম্মা জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। নিহত আনিস সাবদী আইসতলা এলাকার আমিনউদ্দিনের ছেলে এবং বন্দর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মহিউদ্দিন শিশিরের ছোটভাই।
স্থানীয়রা জানান,সাবদী কলাবাগ এলাকার দিদার হোসেনের ছেলে পারভেজ,তার ভাই ফয়সাল,শামীম একই এলাকার হাজী আবদুল আউয়ালের ছেলে কথিত জাপা নেতা শাহ আলম,হারুন মিয়ার ছেলে সজল,সাবদী এলাকার পালকিওয়ালার ছেলে রুবেলসহ তার আরো কয়েক সহযোগীর সঙ্গে বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার সময় কথা কাটাকাটি হলে এক পর্যায়ে পাশর্^বর্তী মন্দিরের ভেতরে নিয়ে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে পালিয়ে যায়। এ সময় আশ পাশের লোকজন আনিসকে ধরাধরি করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। তার হাত ও পায়ের রগ কাটা পাওয়া যায়।
এদিকে আনিসের হত্যাকান্ডকে ঘিরে সাবদী এলাকায় নানা গুঞ্জন বইতে শুরু করছে। তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত রুবেল পুলিশের কাছে স্বীকার করে ড্রেজার ব্যবসার দেনা-পাওনার জের ধরে সহযোগীরা তাকে হত্যা করা হয়েছে। অন্যদিকে এলাকার বিভিন্ন জনের মুখে মুখে রটছে ভিন্ন কথা। পারভেজ-শাহ আলম গ্রুপ মূলতঃ পূর্ব পরিকল্পিতভাবেই এ হত্যাকান্ড ঘটনায়। ঘটনার দিন বেলা সাড়ে ১১টায় সাবদী বাজারে কালি মন্দির সংলগ্ন সাইদুরের কনফেকশনারী দোকান থেকে স্পীড কিনে নিয়ে তাতে নেশাজাতদ্রব্য মিশিয়ে আনিসকে পান করায় পারভেজের ছোটভাই ফয়সাল। পরবর্তীতে কালি মন্দিরের ভিতরে নিয়েই প্রথমে পারভেজ রড দিয়ে আনিসের মাথায় আঘাত করে। প্লাস দিয়ে জিহবা ধরে রাখে শাহ আলম। পরবর্তীতে অন্যান্যরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে হাতে পায়ের রগ কেটে ফেলে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি কোপায়। এ সময় আনিস বাঁচার জন্য ডাক চিৎকার করলে আশ পাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে গেলেও সন্ত্রাসীদের ভয়ে তারা আনিসকে উদ্ধারে এগিয়ে যায়নি। এ ঘটনার পর পরই শাহ আলম-পারভেজ গং বীরদর্পে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে উপস্থিত লোকজন আনিসকে ধরাধরি করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
