বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান বলেছেন, আমার বড় ভাই নাসিম ওসমান নারায়ণগঞ্জ ও বন্দরের মানুষের প্রাণপ্রিয় নেতা ছিলেন। ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল ভারতের দিল্লীর দেরাদুন শহরে হঠাৎ করেই তার মৃত্যু হয়। তার লাশ দেশে আনতে আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়ে ছিল। দিল্লীর দেরাদুন শহরে হযরত নিজামউদ্দিন আউলিয়ার দরগাহ শরীফে আমার ভাইয়ের প্রথম জানাজার নামাজ হয়ে ছিল। আমার বড় ভাইয়ের কারনেই আজকে আমার এখানে আসা। হয়তো বা আমার বড় ভাইয়ের কোন ভুলত্রুটি থাকতে পারে। নিজের অজান্তে কারো মনে কষ্ট দিয়ে থাকলে আপনারা তাকে ক্ষমা করে দিবেন। আজকে তার কারনেই আমি এই নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য হয়েছি। আমার যত কর্মকান্ড আছে শুধুমাত্র আমার ভাইয়ের আত্মার শান্তির জন্য। আমি জানি আমি আপনাদের নাসিম ওসমান হতে পারবো না। তারপরও আপনাদের পাশে থেকে আপনাদের সেবা করে যাচ্ছি। বিগত দিনে কতটুকু শান্তি আপনাদের এনে দিতে পেরেছি তা জানি না। আমি শিক্ষাখাতকে সব থেকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। দীর্ঘদিন আমার বন্দরের মানুষ অবহেলিত ছিল। কিন্তু বন্দরের মানুষ এখন আর অবহেলিত থাকবে না। পাশাপাশি নাসিম ওসমান নারায়ণগঞ্জ ও বন্দরকে নিয়ে যে সকল স্বপ্ন দেখে ছিল যেগুলো সে সম্পূর্ন করে যেতে পারেনি। তার সব গুলোই স্বপ্ন আপনাদের সাথে নিয়ে আপনাদের সহযোগীতায় তা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবো। মানুষের ভুল ত্রুটি হতেই পারে। আমাদের কোন ভুল ত্রুটি থাকলে আপনারা ক্ষমা করে দিবেন। আমার ভাই নাসিম ওসমান যেন বেহেস্ত বাসী হতে পারে তার জন্য আপনারা সকলে আল্লাহ কাছে দোয়া করবেন।
শনিবার ২৯ এপ্রিল বাদ আছর বন্দর সমরক্ষেত্র মাঠে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের পরিবারের আয়োজনে তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মিলাদ ও দোয়ার পূর্বে উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উক্ত দোয়া অনুষ্ঠানে দোয়া পাঠ করেন ভারতের দিল্লীর দেরাদুনে অবস্থিত হযরত নিজাম উদ্দিন আউলিয়ার দরবার শরীফের খাদেম সৈয়দ ফিদা নিজামী। নাসিম ওসমানের মৃত্যুর পর তিনি তার মরদেহের প্রথম নামাজের জানাজা পড়িয়ে ছিলেন।
দোয়া অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য এ.কে.এম শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা, জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের, বন্দর থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি এম এ রশিদ, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, মহানগর জাতীয় পার্টির আহবায়ক সানাউল্লাহ সানু, সদস্য সচিব আকরাম আলী শাহীন, মহানগর শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান মুন্না, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকু, ১৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফয়সাল সাগর, ২৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুদ্দিন আহম্মেদ দুলাল প্রধান, ২৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আফজাল হোসেন, গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নওশেদ আলী, আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতি, কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান, বন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন, মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন, ধামগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুম আহম্মেদ, মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম, বন্দর থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হাসান কমল সহ আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ সহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা।
