বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
শহীদ সাব্বির আলম খন্দকারের ১৪ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে খুনিদের গ্রেফতার ও বিচার এবং নারায়ণগঞ্জকে সন্ত্রাস ও মাদক মুক্ত করার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১০ টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বিএনপি’র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এড্যাভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার বলেন, সাব্বির আলমকে কোন ব্যক্তিগত কারণে হত্যা করা হয়নি। শুধু মাত্র সমাজসেবায় মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে এবং আইনশৃঙ্খলার মিটিংয়ে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজীদের নাম উল্লেখ্য করে ,তারা কে কত টাকা পায় এসব বলার কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে। আজও আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার পাইনি শুধু টাকার কাছে হেরে গেছি। সাব্বির আলম খন্দাকার গার্মেন্ট মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এর সাবেক সহ সভাপতি ও ব্যবসায়ী নেতা ছিলেন। হত্যাকারীরা বাচাঁর জন্য টাকা দিয়ে মিথ্যে চার্জশীট তৈরি করিয়েছে। খনিরা এখনো আমাদের পরিবারকে ঢাকায় বসে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। পরিশেষে আজকের এই শোক সভায় আমাদের দাবি ১৮ই ফেব্রুয়ারিকে সন্ত্রাস প্রতিরোধ দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হউক। সাব্বির আলম খন্দকারের স্মরণে ও খুনিদের গ্রেপ্তার এবং বিচার দাবিতে নারায়ণগঞ্জ সর্বস্তরের সন্ত্রাস বিরোধী জনগণ ব্যানারে মানববন্ধন করে বিএনপির নেতারা। মানববন্ধন থেকে হত্যাকারীদের ফাঁসি ও নারায়ণগঞ্জকে সন্ত্রাস ও মাদক মুক্ত করার দাবি জানান। পরিশেষে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে থেতে শহীদ সাব্বির আলম খন্দকার ফাউন্ডেশন এর পক্ষ থেকে শোক র্যালি বের করে চাষাড়া হয়ে মাসদাইর কবরস্থান গিয়ে শহীদদের কবর জিয়ারত ও দোয়া করা হয়। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খান এর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের আহবায়ক কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, মিনিয়ন যুগ্ম আহবায়ক সানোয়ার হোসেন, সাবেক মহানগর সহ-সভাপতি হাজী মো. শাহীন, আইনজীবী সমিতির সাধারন সম্পাদক আ্যড. ভাষানী, জেলা মহিলা দলের সাধারন সম্পাদক রহিমা শরীফ মায়া, মহানগর যুবদল যুগ্ম আহবায়ক সরকার আলম, মহানগর ছাত্রদল যুগ্ম আহবায়ক রাশেদুজ্জামান রশু, মহানগর যুবদল যুগ্ম আহবায়ক রানা মুজিব, বন্দও উপজেলা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক শাহদুল্লা মুকুল, বন্দও উপজেলা ছাত্রদলের নেতা আরাফাত প্রমুখ।
উল্লেখ্য, যে ২০০২ সালের ২২ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জকে সন্ত্রাস, চাঁদা ও মাদক মুক্ত করারকালে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাসে অনুষ্ঠিত জেলার ৩২ টি ব্যবসায়ী সংগঠনের সাথে সেনাবাহিনীর মত বিনিময় সভায় শহীদ সাব্বির আলম খন্দকার বলেছিলে “আমার জানাযায় অংশ গ্রহন করার আহবান জানিয়ে বক্তব্য শুরু করছি বলে নারায়ণগঞ্জের সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের নাম, ঠিকানা ও তাদের গডফাদারদের নাম প্রকাশ করেন এবং সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করে নারায়ণগঞ্জবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করেন। তখন শহীদ সাব্বিরের ব্যাপক তৎপরতায় ঝুট সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের হাতে জিম্মি গার্মেন্টস ব্যবসায়ী, চুন ফ্যাক্টরী ও নারায়ণগঞ্জবাসী নিস্তার লাভ করে। চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীরা কোনঠাসা হয়ে পরলে তাদের গডফাদারদের ষড়যন্ত্রে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজরা প্রাতঃকালীন ভ্রমনকালে শহীদ সাব্বির আলম খন্দকারকে গুলি করে হত্যা করে। তৎসময়ে সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের গডফাদাররা প্রভাবশালী হওয়ায় মামলা দায়ের থেকে শুরু করে তদন্তসহ সকল ক্ষেত্রে অবৈধ হস্তক্ষেপ করে। ফলে দীর্ঘ ১৪ বছরেও একটি গ্রহন যোগ্য চার্জশীট প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাওয়া যায়নি।
