বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
সিদ্ধিরগঞ্জে পুলিশের নামে মাসোহারা তুলতে গিয়ে পুলিশ সোর্স ও মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে অন্ততপক্ষে ৭জন আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে পুলিশের সোর্স আওলাদ, মাদক সম্রাজ্ঞী নাজমার ছেলে আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী রাজুর সহযোগী মাদক বিক্রেতা ইমরান ও মালেকের নাম জানা গেছে। এদের মধ্যে আশংকাজনক অবস্থায় ইমরান ও মালেককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শনিবার দুপুরে মুক্তিনগর এলাকায় ঘটনাটি ঘটে । এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুক্তিনগর এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীরা কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়ায় এলাকায় উত্তজনা ছড়িয়ে পড়ে। দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে দেখা যায় মাদক সন্ত্রাসীদের। আতংঙ্ক হয়ে পড়ছে মহল্লাবাসী। তবে এ ঘটনায় বিকেল ৫টা পর্যন্ত কোনো পুলিশ ওই এলাকায় যায়নি। এর আগেও এ এলাকায় মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রন নিয়ে একাধিকবার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মাদক স¤্রাজ্ঞী নাজমা ও তার ছেলে রাজু স্থানীয় থানা শ্রমীক লীগ নেতাদের ছত্রছায়ায় মুক্তিনগর এলাকায় খুচরা বিক্রয়সহ সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় পাইকারী সরবারহ করে থাকে। তাদের রয়েছে বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী। এ বাহিনীর হাতে প্রতিনিয়ত অনেকেই লাহ্নিত ও নির্যাতিত হচ্ছে।
জানা গেছে, সিদ্ধিরগঞ্জের মাদক সম্রাট রাজুর মাদক আস্তানায় কয়েক দিন আগে ডিবি পুলিশ দিয়ে মুন্নাকে ৪শ’ পিছ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করায় সোর্স আওলাদ। এ ঘটনায় কেন্দ্র করে রাজু ও মুন্না গ্রুপের মধ্যে উত্তজনা দেখা দেয়। এ উত্তজনাকে কেন্দ্র করে মুন্নার সহযোগীরা আওলাদকে যেখানে পাবে সখানেই মারধোর করবে বলে ঘোষনা করা হয়।
অপরদিকে রাজু তার সহযোগীদের দিয়ে আওলাদের মাধ্যমে পুলিশকে ম্যানেজ করে মাদক ব্যবসা চালাচ্ছে। শনিবার দুপুরে পুলিশের সোর্স আওলাদ মাদক স¤্রাট রাজুর কাছ থেকে মাসোহারা আনতে গেলে উভয় গ্রুপ সুযোগ বুঝে আওলাদকে মারধোর করে। খবর পেয়ে আওলাদের সন্ত্রাসীরা মাদক সন্ত্রাসীদের ধাওয়া দিলে ধাওয়াপাল্টা ধাওয়ার ঘটনাসহ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে মুন্না গ্রুপ’র সেকেন্ডইন কমান্ড শাহ আলম ও অন্যান্য সহযোগীরা সোর্স আওলাদকে দেশীও অস্ত্রদিয়ে আঘাত করে। এসময় সোর্স আওলাদ তার সাথে চাকু দিয়ে এলোপাথারী আঘাত করলে ইমরান ও মালেকের পিটে, পেটে, গলায়ও হাতে আঘাত করে পালিয়ে যায়। আহতদের উদ্ধার করে এলাকাবাসী শিমরাইলে সাজেদা হাসপাতালে নিলে মালেক ও ইমরানের অবস্থা আশংঙ্কাজনক হওয়ার কর্তব্যরত ডাক্তার তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়।
সাজেদা হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার রাকিবুল ইসলাম জানান, আহতদের পিঠে মারাতœকভাবে ছুরিকাঘাতসহ বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাদেও উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন তাই দ্রুত ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে মালেকের অবস্থা আশংকাজনক।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মুঃ সরাফত উল্লাহ মাসোহারর বিষয়টি জানেন না বলে জানান, মাদক ব্যবসা নিয়ে মারামারি ঘটনা হয়েছে। কয়েকজন আহত হয়েছে শুনেছি। এ ঘটনায় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। তবে কিছুক্ষন আগে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
