আনিসুজ্জামান অনু,বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়নগঞ্জের ফতুল্লায় স্পিনিং মিলে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে শ্রমিকদের গনধোলাইয়ের শিকার হয়েছেন তিতাস গ্যাসের জিএম শফিকুর রহমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তা। এক পর্যায়ে তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তাদের মিলের ভেতরে নিয়ে আটকে রাখলে সংবাদ পেয়ে ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা গিযে তাদের উদ্ধার করে। এ নিয়ে মিলের শ্রমিকদের মাঝে ব্যাপক উত্তজনা বিরাজ করছে।
বৃহস্পতিবার বিকালে ফতুল্লার নন্দলালপুরে প্রাইম টেক্সটাইল মিলে এ ঘটনা ঘটে।
তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন ফতুল্লা অঞ্চলের ম্যানেজার মফিজুল ইসলাম জানান, ফতুল্লার নন্দলালপুর এলাকার প্রাইম টেক্সটাইলের কাছে তিতাস গ্যাস দীর্ঘদিন যাবত গ্যাস বিল বাবদ প্রায় ৫০ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে। এ ব্যাপারটি মিল কর্তৃপক্ষ অবহিত থাকলেও পরিশোধ না করায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষনিক নির্দেশে বৃহস্পতিবার বিকালে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্যে নন্দলালপুর এলাকায় যাই। বিকাল সাড়ে ৪টায় গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সময় মিলের কর্মচারী ও শ্রমিকেরা গ্যাস কর্তৃপক্ষের কমৃকর্তাদের উপরে হামলা চালায়। এ সময় মারধরে নারায়নগঞ্জ অঞ্চলের জিএম শফিকুর রহমান ও ডিজিএম মকবুল আহমেদ মারাতœক আহত হন। পরে তাদের সবাইকে মিলের ভেতরে নিযে আটকে রাখে।
পরে সংবাদ পেয়ে প্রায় সাড়ে ৬টায় র্যাব ও ফতুল্লা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিতাস গ্যাস কর্মকর্তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এরপরে উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি স্বীকার করেন, কোন প্রস্তুতি ছাড়াই এ ধরনের বড় অভিযানে যাওয়া তাদের ঠিক হয়নি।
আপরদিকে প্রাইম টেক্সটাইলের সহকারী ব্যাবস্থাপক (প্রশাসন) ফরহাদ হাসান দাবী করেন, তাদের কারখানায় তুলা থেকে সূতা তৈরীসহ বিভিন্ন উৎপাদনে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক কাজ করে। তাদের গ্যাস বিলও নিযমিত পরিশোধ করা। তারপরেও হঠাৎ করেই বৃহস্পতিবার বিকালে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের কয়েকজন কর্মকর্তা কোন রকম কথা না বলেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় বাহিরে থাকা কতিপয় লোক তাদের উপরে হামলা করে। পরে আমরা তাদেরকে মিলের ভেতরে নিয়ে হামলা থেকে রক্ষার চেস্টা করি। পরে পুলিশ ও র্যাব এসে জড়ো হওয়া লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করে দিয়ে তাদের নিযে যাবার সময় গ্যাস মিটার খুলে নিযে যায়। এখন পুরো মিলে অন্ধকার পরিবেশ বিরাজ করছে এবং উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় ১০ হাজার শ্রমিক অসহায় হয়ে পড়েছে।
এ ব্যাপারে ফতুল্লা মডেল থানার ওসি কামালউদ্দিন জানান, অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে গ্যাস কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা হামলার শিকার হয় এবং তাদের আটকে রাখে মিলের লোকজন। পরে সংবাদ পেয়ে পুলিশ ও র্যাব তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসি। গ্যাস কর্র্তপক্ষ কোন অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেয়াহবে। এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
