আনিসুজ্জামান অনু, বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ডামাঢোলে চাপা পড়ে গেলেও জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে চলছে স্থানীয় আওয়ামীলীগের অভ্যন্তরীন প্রতিযোগিতা। এ নির্বাচনে বিএনপি কিংবা জাতীয়পার্টি অংশ না নেয়ায় আওয়ামীলীগের নেতাদের রেষারেষি চরমে পৌছেছে। কারন দলীয় মনোনয়ন পাওয়া মানেই জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া। এর মধ্যে মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি সাইফুল্লাহ বাদল। তবে অভিযোগের ব্যাপারে জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছেন জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক এবং জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল হাই। ইতিমধ্যে জেলা আওযামীলীগের সাধারন সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মোঃ বাদল বলেছেন, তিনি জেলা পরিষদের চেযারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন না। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল হাইয়ের সাথে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছেন মহানগর আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি চন্দন শীল।
জেলা পরিষদের নির্বাচনে ভোটার হিসাবে গন্য হওয়া কাশীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল্লাহ বাদল বলেন, জনগণের উন্নয়নের স্বার্থে সরকার জেলা পরিষদকে টাকা দিয়ে থাকে। কিন্তু সেই টাকা জনগণের উন্নয়নের স্বার্থে ব্যবহার না করে জেলা পরিষদ প্রশাসক আব্দুল হাই সেই ১৪০ কোটি টাকা তার মেয়ের চাকুরীর নিশ্চিয়তার জন্য যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের পরিচালিত জঙ্গীদের অর্থের যোগানদাতা ইসলামী ব্যাংকে গচ্ছিত করে রেখেছে।
সাইফুল্লাহ বাদল আরো বলেন, আজকে ব্যাংকে এই টাকা গচ্ছিত না রেখে যদি আব্দুল হাই সাতটি থানাধীন এলাকায় বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে ২০ কোটি টাকা করেও দিত তাহলে আজ সরকারে সেই টাকা জনগনের উন্নয়নে যথার্থ ব্যবহৃত হতো। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য যে, জনগণের উন্নয়নের টাকা এখন জঙ্গিদের অর্থায়নে ব্যবহৃত হচ্ছে।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, চাষাড়া ডাক বাংলো মোড় থেকে পঞ্চবটী মোড় পর্যন্ত রাস্তর দু’পাশে জেলা পরিষদের জমি আবদুল হাই নামে-বেনামে লীজ দিয়ে বিশৃংখলা সৃষ্টি করে রেখেছে। অথচ নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চল বিসিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পুরাতন সড়ক দিয়ে প্রতিদিন দেশী-বিদেশী বায়াররা যাতায়াত করতে গিয়ে যানজটের কারনে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। আসন্ন জেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে জামতলাস্থ মেলা ফুড ভিলেজ রেস্টুরেন্টে সদর উপজেলাধীন সকল ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এই অভিযোগ করেন তিনি। সেখানে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী চন্দনশীল প্রধান অতিথি হিসাবে যোগ দেন।
এদিকে সাইফুল্লাহ বাদলের অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা পরিষদের প্রশাসক আবদুল হাই বলেছেন,ইসলামী ব্যাংকে জেলা পরিষদের কোন একাউন্ট নেই। আমারও উক্ত ব্যাংকে কোন একাউন্ট নেই এবং আমার কোন সন্তানও উক্ত ব্যাংকে কর্মরত নেই। আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে কুচক্রিমহল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং জেলা পরিষদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার চক্রান্তে লিপ্ত হয়ে আমাকে হেয় করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে।
উল্লেখ্য,জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক আবদুল হাই ইতিমধ্যে মেয়র নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী ডাঃ সেলিনা হায়াত আইভির পক্ষে মাঠে সক্রিয় থাকলেও শামীম ওসমান সমর্থক মহানগর আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি চন্দনশীলসহ অন্যান্যরা এখনো মাঠে নামেনি। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে আওয়ামীলীগের মনোনয়নবোর্ড কাকে মনোনয়ন দেন তার উপরেই নির্ভর করছে নারায়নগঞ্জের আওয়ামীলীগের ভবিষ্যত তৎপরতা।

