বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
“বদলা নয় সবাইকে বদলানোর” আহবান জানালেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। তিনি বলেছেন, ধর্মে ধর্মে কোন বিরোধ নেই। বিরোধ রয়েছে কিছু ধর্ম বিরোধী উগ্র নাস্তিকদের সাথে। তাদেরকে খুঁজে বের করে চিহ্নিত করতে হবে। তাদেরকে নিয়ে আলোচনায় বসতে হবে। যারা বিপথে চলে গিয়েছে তাদেরকে ফিরিয়ে আনতে হবে। তাহলেই সারাদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে। কোন একটি ধর্মে অনুসারীরা অন্য ধর্মকে আঘাত করবে না।
শনিবার ১২ নভেম্বর সকাল ১১টায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার উদ্যোগে থানা প্রাঙ্গনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রাখার লক্ষ্যে বিভিন্ন কমিউনিটি সমন্বয়ে মত বিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেলিম ওসমান এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জে হিন্দু, মুসলিম বৌদ্ধ খিষ্ট্রান ধর্মের অনুসারীদের সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক অনেক পুরনো। এই সম্পর্ক অটুট থাকবে। বাংলাদেশের অন্য কোন জেলায় যাই হোক না কেন আমাদের নারায়ণগঞ্জে আমরা কোন সাম্প্রদায়িক অশান্তি হতে দিবো না। আর যারা সাম্প্রদায়িক ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাস্তার মোড়ে, প্রেসক্লাবের সামনে দাড়িয়ে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন করে মানুষকে দুর্ভোগ দিচ্ছেন সেটা কোন প্রতিবাদের ভাষা নয়। মানুষকে কষ্ট দিয়ে কোন প্রতিবাদ হয়। নারায়ণগঞ্জ সদর থানার পক্ষ থেকে আজকে যে আয়োজন করা হয়েছে সেটাই হচ্ছে আসল প্রতিবাদ। তবে এই প্রতিবাদ আরো জোড়ালো হতো যদি কিনা আজকে এখানে সেই সকল মানুষ গুলো উপস্থিত থাকতো যাদেরকে সন্দেহজনক মনে হয়। ভবিষ্যতে এ নিয়ে আরো বিস্তর আলোচনা করা যেতে পারে সেটা পুলিশ প্রশাসন হোক আর যে কোন রাজনৈতিক দলের উদ্যোগেই হোক। এলাকার মসজিদের ইমামদেরকে সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। আপনারা আমাদেরকে প্রয়োজনে বেনামে তথ্য দিবেন আপনার এলাকার কোন ছেলে বা মেয়ে চলাফেরা সন্দেহজনক। আমরা তাদের সাথে আলোচনা করবো। তাদেরকে সঠিক পথে ফিরিয়ে নিয়ে আসবো।
হিন্দু, বৌদ্ধ ও খিষ্ট্রান ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ্যে সেলিম ওসমান বলেন, একটি পক্ষ যারা পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া করতে চায়। তারা বেশ কয়েকদিন যাবত নারায়ণগঞ্জ শশ্মানের জমি দখল করতে চাইছে। আমরা নারায়ণগঞ্জে থাকতে তা কোন দিনই হতে দিবো না। সেই সাথে খিষ্ট্রান ও বৌদ্ধ ধর্মের যারা আছেন আপনারা আপনাদের ধর্মীয় উপাসনালয়ের উন্নয়নের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে আবেদন করবেন। বর্তমান সরকার যেমন মসজিদ মন্দিরের জন্য উন্নয়ন বরাদ্দ দিয়ে থাকে তেমনি প্রতিটি ধর্মের উপাসনালয়ের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। আপনারা আবেদন করলে আমরা সেগুলো বাস্তবায়ন করে দিবো।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে মত বিনিময় সভায় মূখ্য আলোচক ছিলেন নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মঈনুল হক, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(প্রশাসন) মোস্তাফিজুর রহমান। আরো বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন,ডিআইটি মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুল আওয়াল, এফবিসিসিআই এর পরিচালক প্রবীর কুমার সাহা, হিন্দু কল্যান ট্রাষ্ট এর সভাপতি পরিতোষ কান্তি সাহা। আরো উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ সভাপতি কুতুবউদ্দিন আকসির, মহানগর পূজা উযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন,যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক উত্তম সাহা, কমলেশ সাহা, সাধু নাগ মহাশয় আশ্রমের সাধারণ সম্পাদক তারাপদ আচার্য সহ নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খিষ্ট্রান ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সহ নারায়ণগঞ্জের গন্যামান্য ব্যক্তিরা।


