বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জে অনলাইন থেকে সাধারণ মানুষের ফিঙ্গারপ্রিন্ট চুরি, রাবার দিয়ে কৃত্রিম আঙুলের ছাপ তৈরি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বানিয়ে বিকাশ-নগদ জালিয়াতি করা চক্রের ২ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অপস্ অফিসার ক্যাপ্টেন মোঃ রওনক এরফান খান।
গত রবিবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে ফতুল্লার মধ্য নরসিংপুর এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন— ফতুল্লার মধ্য নরসিংপুর এলাকার রুহুল আমিনের ছেলে মোঃ মহিউদ্দিন (২৯) একই এলাকার মোঃ দুলাল হোসেনের ছেলে মোঃ শিশির (২৭)।
অভিযানকালে আসামিদের হেফাজত থেকে অপরাধে ব্যবহৃত ১টি ল্যাপটপ, ১টি প্রিন্টার, ১টি রাবার সীল মেশিন, ৮০টি রাবার সিলের প্লাস্টিক স্ট্যান্ড, ৮টি বায়োমেট্রিক স্ক্যানার, ১ হাজারটি ফিঙ্গারপ্রিন্টের রাবার কিট, ৩৫টি ট্রেসিং পেপার, রবি কোম্পানির ১০০টি নতুন সিমকার্ড, ৩টি মোবাইল ফোন এবং একাধিক সচল জালিয়াতি করা সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা স্বীকার করেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনের বিভিন্ন মাধ্যম থেকে কৌশলে সাধারণ মানুষের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ বা ক্রয় করতেন। পরে ট্রেসিং পেপারে সেই ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রিন্ট করে রাবার সীল মেশিনের সাহায্যে কৃত্রিম বায়োমেট্রিক বায়ো-প্রিন্ট তৈরি করতেন। উদ্ধারকৃত স্ক্যানারে ওই নকল আঙুলের ছাপ দিয়ে নতুন নতুন সিমকার্ড অবৈধভাবে সক্রিয় করা হতো।
চক্রটি এআই ও আধুনিক ডিজিটাল ডিভাইসের সাহায্যে ভুয়া এনআইডি কার্ড প্রস্তুত ও পরিবর্তন করত। এসব ভুয়া পরিচয়পত্র ও অবৈধ সিম ব্যবহার করে বিকাশ, নগদসহ অন্যান্য অনলাইন মোবাইল ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্মে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে সাধারণ গ্রাহকদের প্রতারিত করে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিতেন তারা।
এ বিষয়ে র্যাব-১১ অপস্ অফিসার ক্যাপ্টেন মোঃ রওনক এরফান খান জানান, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ও পেনাল কোডের সংশ্লিষ্ট ধারায় ফতুল্লা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

