বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
“মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পাদিত জাতীয় স্বার্থবিরোধী বাণিজ্য চুক্তি বাতিল কর”—এই দাবিকে সামনে রেখে এবং “ঐক্য—সংগ্রাম—প্রগতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মনুষ্যত্ব রক্ষার সংগ্রাম এগিয়ে নিন” এই আহ্বানকে ধারণ করে “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা, দেশ বিক্রি হবে না” স্লোগানে জুলাই শহিদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার, সন্ধ্যা ৭টায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য সচিব আবু নাঈম খান বিপ্লব, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর অসিত বরণ বিশ্বাস, গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি সেলিম মাহমুদ, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মনি সুপান্থ, সহসভাপতি ধীমান সাহা জুয়েল, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের আহ্বায়ক প্রদীপ সরকার, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক সুলতানা আক্তার, জেলা কমিটির সদস্য রোকন, সংগঠক আহমেদ রবিন স্বপ্ন, ইফতি আহাম্মেদ জিহাদ, ডালিমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, অনেক রক্তের বিনিময়ে জুলাই রচিত হয়েছে, এখন পর্যন্ত অসংখ্য মানুষ পঙ্গু হয়ে আছেন, অনেকে চোখ হারিয়েছে। এখনো পর্যন্ত অনেক মানুষ টাকার অভাবে চিকিৎসা নিতে পারছেন না। অথচ জুলাই রচিত হয়েছে একটা বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য। কিন্তু এই দুই বছরে দেশে অনেক বৈষম্য তৈরি হয়েছে। রন্দ্রে রন্দে বৈষম্য। অন্যদিকে দেশকে বিক্রি করে দিচ্ছে অন্য দেশের কাছে। যা জুলাইয়ের চেতনা ছিলো না।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন,গত ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে “Agreement on Reciprocal Trade (ART)” নামে একটি অসম ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করে। তাদের দাবি, এই চুক্তি কার্যকর হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা, কৃষি, শিল্প, কর্মসংস্থান এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব গভীর সংকটের মুখে পড়বে। রাজনৈতিক দল, অর্থনীতিবিদ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশও এ চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে বক্তারা উল্লেখ করে। এই চুক্তি বাতিলের দাবিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট গত দুই মাস ধরে সারাদেশে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং পাড়া-মহল্লায় প্রচারাভিযান ও গণস্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচি পরিচালনা করেছে। এ কর্মসূচিতে দেশের হাজার হাজার মানুষ অংশ নিয়ে তাদের মতামত প্রদান করেছেন।
বক্তারা আগামী ২ আগস্ট ২০২৬ (রবিবার) সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে অনুষ্ঠিতব্য ছাত্র সমাবেশ সফল করার আহ্বান জানান। সমাবেশ শেষে জাতীয় স্বার্থবিরোধী বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে গণস্বাক্ষরসংবলিত স্মারকলিপি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর পেশ করা হবে বলে তারা জানান। কর্মসূচি সফল করতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শ্রমিক, কৃষক, পেশাজীবীসহ সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণ কামনা করা হয়।বক্তারা বলেন, এই চুক্তি কার্যকর হলে—আগামী ১৫ বছর আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় বেশি দামে প্রায় ১,৫০০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের এলএনজি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করতে হবে।আগামী পাঁচ বছর প্রতি বছর ৭ লাখ টন গম আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দামে কিনতে হবে।আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দামে ২৬ লাখ টন সয়াবিন ও সয়াবিনজাত পণ্য আমদানি করতে হবে।তুলা, ফলমূল ও অন্যান্য কৃষিপণ্য আমদানিতে অতিরিক্ত ৩৫০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় করতে হবে।
বিনা দরপত্রে মার্কিন কোম্পানির কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ ক্রয় এবং সামরিক সরঞ্জাম আমদানি বাড়ানোর বাধ্যবাধকতা তৈরি হবে।যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক স্বার্থের পরিপন্থী বিবেচিত হতে পারে—এমন দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সীমিত করার চাপ সৃষ্টি হবে, যা জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য উদ্বেগজনক।
মাছ, মাংসসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের অবাধ আমদানির ফলে দেশের কৃষি, মৎস্য, পোলট্রি, দুগ্ধ ও গ্রামীণ অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।বেশি দামে তুলা আমদানির কারণে তৈরি পোশাক শিল্পের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা কমবে এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়বে।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা বিপুল সংখ্যক পণ্যে শুল্ক ছাড় দেওয়ার ফলে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাবে, অন্যদিকে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর উচ্চ হারে শুল্ক বহাল থাকবে।ভবিষ্যতে অন্যান্য বাণিজ্য অংশীদার রাষ্ট্রও একই ধরনের শুল্ক সুবিধা দাবি করলে দেশের অর্থনীতি আরও বড় চাপের মুখে পড়বে।
পাশাপাশি অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়সংক্রান্ত অতিরিক্ত বাধ্যবাধকতাও দেশের অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করবে বলে বক্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
কর্মসূচি শেষে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণে উপস্থিত নেতাকর্মী, শিক্ষার্থী, সংস্কৃতিকর্মী ও সাধারণ মানুষ মোমবাতি প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা, স্বাধীন অর্থনীতি ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখার লক্ষ্যে চলমান গণআন্দোলন আরও বেগবান করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

