বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান বলেন, আমি খুব আতংকিত এবং খুব চিন্তিত। দুুশচিন্তা কাজ করছে আমার মধ্যে। আমি যে এলাকার প্রতিনিধিত্ব করছি তার মধ্যে সদর উপজেলা পরে তার সাথে সাথে সিদ্ধিরগঞ্জ, আলীরটেক, ফতুল্লাতো রয়েছেই। প্রায় ৩০ লাখ লোক বসবাস করে এই এলাকায়। গত এক বছর বিশেষ করে এই করোনা মহামারী সময়ে যে বাজে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে , আল্লাহ পাক আমাদের যে পরীক্ষা দিয়েছেন , আমার মনে হয় না মানুষ বুঝতে পারছে কি করবে। এতটুকু একটা দেশে কতগুলো মানুষ ,এটাও একটি সমস্যা। সবাই যদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন তা হলে আল্লাহ হয়তো রহম করবেন তা না হলে অবস্থা আরো ভয়াবহ হবে। আমি গতবার আধা পাগল হয়েছিলাম রোগী ভর্তি করতে করতে। এই বারতো পুরোপুরি অসহায় হয়ে গিয়েছি। বেড তো পাচ্ছি না, হাসপাতালের মালিক মুখের উপর নাই বলে দেয়। পরের দিন আবার ফোন দিয়ে বলে আইসিইউতে এক রোগীর অবস্থা খারাপ মারা যেতে পারে , মারা গেলে আপনার রোগীকে বেড দিবোনে। এই হলো আমাদের অবস্থা ।
মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা বারিকের বদলীজনিত বিদায় উপলক্ষে উপজেলা অডিটরিয়ামে আয়োজিত বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে চূড়ান্ত ষড়যন্ত্র চলছে। আমি তো গত ৭-৮ মাস ধরেই বলে আসছিলাম। দেশকে ধ্বংসের জন্য নানা কূটকৌশল করা হচ্ছে। কিন্তু আল্লাহর রহমত আছে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর। তিনি থাকতে আল্লাহর ইচ্ছায় সব ধরণের ষড়যন্ত্রকে মোকাবেলা করার শক্তি আল্লাহ তাকে দিয়েছেন। তাই চিন্তা করবেন না। যে পর্যন্ত শেখ হাসিনা আছেন সেই পর্যন্ত দেশের মানুষের জন্য উন্নয়ন কাজ অব্যাহত রেখে চ্যালেঞ্জ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন, আগামীতেও যাবেন।
আমার মনের কথাটা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বলেছে যে, নারায়ণগঞ্জে এখন পর্যন্ত মহিলা ডিসি আসে নাই। আল্লাহ যদি বাচিয়ে রাখে, যদি প্রমোশন পায় আমার বিশ্বাস নাহিদা বারিককে আমরা স্বাগতম জানাবো। নারায়ণগঞ্জে প্রথম মহিলা জেলা প্রশাসক হিসেবে পদার্পণ করুক কারণ সে এটার প্রাপ্য। আমি মনে করি যে জায়গায় যাবো ,যে জায়গায় কথা বলবো অব্যশই এই কথাটি তাদের সামনে বলবো। এই দুই বছরে যতটুকু করেছি সাধারণ মানুষের জন্যে তার মধ্যে একটি অবদান রয়েছে নাহিদা বারিকের। আমি স্পষ্টভাষী লোক স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, আমলাতন্ত্র খুব ভালো জিনিস না। কিন্তু আমলাতন্ত্র সবসময় যে ভালো সিদ্ধান্ত নেয় সেটা আমি মনে করি না। আমি এজন্য বলছি না যে, নাহিদা বরিককে সবসময় এ জায়গায় থাকতে হবে। আমি একারণেও বলছি না যে , যিনি এখানে আসবেন তিনি এখানে কাজ করতে পারবেন না। কিন্তু সত্যি বলতে বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলায় যদি নাহিদা বারিকের মত দশটা করে মানুষ থাকতো তাহলে দেশ তার লক্ষ্যে আরো আগে পৌছিয়ে যেতে পারতো বলে আমি বিশ্বাস করি।
এসময় সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন, সদ্যবিদায়ী উপজেলা নির্বাহী কমকর্তা নাহিদা বারিক, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতেমা মনির, বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শওকত আলী, আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মতিউর রহমান মতি, কুতুবপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আসাদ্জ্জুামান, এনায়েতনগর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টু, ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান স্বপন, গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নূর হোসেন প্রমুখ।

