বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
পবিত্র রমজান মাসে দূরারোগ ক্যান্সারে আক্রান্ত বন্দর থানা এলাকার তিনজন ব্যক্তির জীবন বাঁচাতে তাদের চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য আর্থিক সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান।
বুধবার ১৪ জুন বিকেলে ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুর এলাকায় অবস্থিত তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উইজডম অ্যাটায়ার্স লিমিটেড এর কার্যালয়ে ওই তিনজন ব্যক্তির প্রত্যেকের হাত ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে মোট সাড়ে ৪ লাখ টাকার চেক তুলে দিয়েছেন তিনি।
তারা হলেন বন্দর উইলসন রোড এলাকার বাসিন্দা ক্যান্সার আক্রান্ত জানে আলম(২৫), নবীগঞ্জ টি-হোসেন রোড এলাকার বাসিন্দা ক্যান্সার আক্রান্ত নান্নু মিয়া(৮০) এবং মদনগঞ্জের লক্ষ্যারচর উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা ফিস্টোলা রোগে আক্রান্ত নজরুল ইসলাম। তাদের প্রত্যেকের হাতে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার একাউন্ট পে চেক তুলে দেওয়া হয়েছে।
ক্যান্সার আক্রান্ত জানে আলম জানান, তার চিকিৎসার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তার চিকিৎসা চালাতে গিয়ে পরিবার সর্বশান্ত হয়ে গেছে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে ক্যামোথেরাপি দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি থেরাপিতে খরচ হচ্ছে ৭৭ হাজার টাকা। তার আরো ৪টি থেরাপী বাকি রয়েছে। এমনতাবস্থায় অর্থাভাবে তার চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে তিনি কোন উপায় না দেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সেলিম ওসমান সাপোর্টাস ফোরামের ইনবক্সে নিজের জন্য চিকিৎসার সহযোগীতা চেয়ে সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের দৃষ্টি আকর্ষন করেন। সেলিম ওসমান তার আবেদনে সাড়া দিয়ে নিজে তার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেন এবং সিটি করপোরেশনের ২৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আফজাল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। পরে সে কাউন্সিলর আফজাল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করলে আজকে তার চিকিৎসার জন্য সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান দেড় লাখ টাকার চেক প্রদান করেন। সেই সাথে এমপি সেলিম ওসমান তাদেরকে বলেছেন চিকিৎসার জন্য যে টাকা ব্যয় হবে তার সব গুলোর ভাউচার রেখে দিতে পরবর্তীতে যদি চিকিৎসার জন্য আরো কিছুর প্রয়োজন তা কাউন্সিলর আফজাল হোসেনকে জানাতে।
ক্যান্সার আক্রান্ত অপর ব্যক্তি নান্নু মিয়া জানান, তার গলায় ক্যান্সার হয়েছে। ইতোমধ্যে সে তার চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে সর্বস্ব খুইয়েছেন।
কান্না জড়িত কন্ঠে নান্নু মিয়া আরো বলেন, এই রোগের চিকিৎসা করতে গেলে ব্যয়ের কোন সীমাবদ্ধতা নেই। আমার সব কিছু দিয়ে চিকিৎসা করেছি। যখন দিশেহারা হয়ে পড়েছিলাম তখন আমি কাউন্সিলর আফজাল হোসেনের কাছে গিয়ে বলেছিলাম আমাকে এমপি সাহেবের কাছ চিকিৎসার জন্য কিছু সহযোগীতা নিয়ে দেন। পরে আফজাল হোসেন আমার কথা এমপি সাহেবকে জানালে এমপি সাহেব আজকে আমার চিকিৎসার জন্য দেড় লাখ টাকা দিয়েছেন। আল্লাহ যেন এমপি সাহেবকে দীর্ঘায়ু করেন এবং উনার সুস্বাস্থ্য দান করেন।
চেক প্রদান কালে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের, সিটি করপোরেশনের ২৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আফজাল হোসেন, মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম।

