বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
চোখের জলে বুক ভিজিয়ে আদালতে সাক্ষী দিয়েছেন বোমা হামলায় দুই পা হারানো রতন ও চন্দন শীল। নারায়ণগঞ্জের প্রাণকেন্দ্র চাষাঢ়া আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলার ঘটনায় সাক্ষী দেন তারা।
এসময় আদালতের কাঠগড়ায় বেদনা বিধুর সেই ভয়াল রাতের ঘটনা তুলে ধরেন আহত রতন, চন্দন শীল, খবির আহমেদ। চন্দন শীল ঘাতকদের বিচার দাবি করে কাঠগড়ায় কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী রফিক নামে আরো একজন।
বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক শাহ মোহাম্মদ জাকির হাসান তাদের চারজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। এ নিয়ে সাতজন এ মামলায় সাক্ষী দিয়েছেন।
এরআগে ২০১৫ সালের ২ আগস্ট মামলার বাদী মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা আইনজীবী খোকন সাহা এবং ১৭ জুন এক আইনজীবী ও আইনজীবীর সহকারী সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষী দেয়ার সময় মামলার অভিযুক্ত ছয় আসামির মধ্যে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু (জামিনে) ও (কারাগারে বন্দি) যুবদল নেতা বন্দুকযুদ্ধে নিহত মমিন উল্লাহ ডেভিডের ছোট ভাই শাহাদাৎ উল্লাহ জুয়েলসহ দুইজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আসামিদের মধ্যে সহোদর আনিসুল মোরসালিন, মুহিবুল মুত্তাকিন ভারতের কারাগারে বন্দী রয়েছে। আর ওবায়দুল্লাহ রহমান নামে একজন পলাতক রয়েছে। এ মামলার অন্যতম আসামি হুজি নেতা মুফতি হান্নানের একটি মামলায় ফাঁসি কার্যকর হয়েছে।
আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রশিকিউটর আবদুর রহিম বলেন, ২০০১ সালের ১৬ জুন চাষাঢ়া আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলায় ২০ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনার পর দিন আওয়ামী লীগ নেতা খোকন সাহা বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় দুটি মামলা দায়ের করেন। এরমধ্যে একটি বিস্ফোরক, অন্যটি হত্যা।
তিনি বলেন, ঘটনার সময় এমপি শামীম ওসমানের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সচিব চন্দন শীল, যুবলীগ কর্মী রতন দাস ও খবির আহমেদ আওয়ামী লীগ অফিসে ছিলেন। এতে রতন ও চন্দন শীল পা হারায় এবং এমপি শামীম ওসমান, খবির আহমেদসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী বোমার স্প্লিন্টারে আহত হয়।
তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় পৃথক মামলায় আসামিদের বিচার দাবি করে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী দিয়েছেন। আদালত তাদের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে পরবর্তী সাক্ষীর জন্য ২১ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন।
