বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
আজ নারায়ণগঞ্জের ভয়াল ১৬ জুন। ২০০১ সালের এই দিনে চাষাঢ়ায় আওয়ামীলীগ অফিসে বর্বরোচিত বোমা হামলায় প্রাণ হারায় ২০জন। ঘটনার দীর্ঘ ২০বছর পেরিয়ে গেলেও গত প্রায় আট বছর আগে তদন্ত সংস্থা মামলাটির চার্জশিট প্রদান করে। বিচারকার্য্য চলছে ধীর গতিতে। নিহতদের পরিবারের দাবি তারা বেঁচে থাকতে এই ঘটনার কারণ জানাসহ দোষীদের বিচার দেখে যেতে চান।
২০০১ সালের ১৬ জুন রাত পৌনে ৯টায় নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় অবস্থিত আওয়ামীলীগ অফিসে বর্বরোচিত এ বোমা হামলা চালানো হয়েছিল। সেদিনের নৃশংস বোমা হামলার ঘটনায় নিহত হয়েছিলেন ছাত্রলীগ নেতা সাঈদুল হাসান বাপ্পি ও অজ্ঞাত নারীসহ ২০জন। তৎকালিন সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ আহত হয় অর্ধশত। অনেকেই চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেন। চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর মামলার তদন্ত কর্মকর্তার চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করেন। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে এ মামলাটি পূণরুজ্জীবিত করা হয়। দুটি মামলায় ১৪ বছরে ৭বার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন এবং ৮ম বার ১৩ বছর পর ২০১৩ সালের ২ মে মামলার তদন্ত সংস্থা ৬ জনের নাম উল্লেখ করে সিআইডি আদালতে চার্জশীট দাখিল করে। বর্তমানে আদালতে মামলাটির স্বাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। চার্জশীট ভুক্তদের মধ্যে মুফতি হান্নানকে ২০১৭ সালে অন্য একটি মামলায় ফাঁসি দেওয়া হয়। মামলার অপর ২ আসামী জমজ সহোদর আনিসুল মোরছালিন ও মুহিবুল মোত্তাকিন ভারতের কারাগারে আটক রয়েছে। ওবায়দুল্লাহ রহমান নামে অপর এক আসামী পলাতক রয়েছেন। আরেক আসামী নাসিকের ১২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু জামিনে এবং শাহাদাৎ উল্লাহ জুয়েল কারাগারে রয়েছেন।
বোমা হামলায় নিহত সহোদরের স্বজনরা বিচার নিয়ে হতাশ। তারা দ্রুত নারকীয় এই হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবী করেন।
এ ঘটনার বিচারকার্য নিয়ে হতাশ প্রকাশ করে এ ঘটনায় দু’পা হারানো রতন কুমার দাস। তিনি এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মামলার বাদী অ্যাডভোকেট খোকন সাহা জানান, মামলায় ১৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আশা করেন মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করে সকল আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করবে আদালত।
বোমা হামলার ঘটনার দায়ের করা দু’টি মামলা এখন নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। মহামারী করোনার কারণে মামলাটি স্থগিত রয়েছে। পরিস্থিতি ভালো হলে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে।
এদিকে, দিবসটি উপলক্ষে প্রতিবছর সকালে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া শহীদ মিনারের পাশে অবস্থিত স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, কোরআনখানী ও কাঙ্গালি ভোজের আয়োজন করেছেন বিভিন্ন সংগঠন ও নিহতের স্বজনরা।

