বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
টানা তিনবার আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকায় এই দলটি এখন মিশ্র দলে পরিনত হয়েছে। কতিপয় সুবিধাবাধী আওয়ামীলীগ নেতাদের পকেট ভারী করে বিএনপি জামাত ও অন্য দল থেকে আসা লোকজন এই দলে এসে ভীড় জমিয়েছে। ইতিমধ্যে এসব নেতাদের হাইব্রিড কাউয়া বলে বক্তব্য দিয়েছে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এই হাইব্রিড কাউয়া মার্কা নেতারা আওয়ামীলীগে শক্ত অবস্থান করে জনপ্রতিনিধি হতে মরিয়া উঠেছেন। করছেন আবার আওয়ামীলীগের ত্যাগী নেতাদের লাঞ্চনা। যার কারনে ত্যাগী নেতৃবৃন্দ ক্ষোভে দূরে সরে যাচ্ছে। আওয়ামীলীগে এখন ত্যাগীদের তুলনায় হাইব্রিড কাউয়াদের অবস্থান বেশী হয়ে পরেছে। যার কারনে দলটিতে তৈরি হচ্ছে চরম বিশৃঙ্খলা। তাই দল গোছাতে আওয়ামীলীগের বিতর্কিতদের বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দলটির সভানেত্রী শেখ হাসিনা। কেন্দ্রের এমন নির্দেশে অনুপ্রবেশকারী, নব্য আওয়ামীলীগার ও তাদের আশ্রয় প্রশ্রয়দাতা নেতাদের তালিকা করতে মাঠে কাজ করছে সরকারের গোয়ান্দা সংস্থা।
দলটির একাধিক সূত্রে বের হয়ে আসে এমন আরো অনেক চাঞ্চলকর তথ্য। বিগত সময়ে বিএনপি জামাত থেকে আসা ও হাইব্রিড প্রসঙ্গে আলোচনায় এসেছে বেশ কয়েকজন নেতা। এদের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের ছাত্রদল নেতা সায়েম আহম্মেদের নাম বেশ আলোচিত হয়েছে। বিএনপির একাধিক নেতার সূত্র মতে সায়েম আহম্মেদ বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। বিএনপির সকল রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাকে নিয়মিত দেখা গেছে। তৎকালীন সময়ে জেলা ছাত্রদলের ইমন, লিটন, রনি, জুয়েল, টিুট ও সায়েমের নাম বেশ আলোচিত ছিল। ওই সময় সায়েম আহম্মেদ সাধারণ সম্পাদক হওয়ার জন্য বেশ দৌড়ঝাপও করেছিলেন। পরে সেই পদ পেতে ব্যর্থ হন। তারপর পথ চলতে থাকেন বিএনপির সক্রিয় ক্যাডার আকরাম প্রধানে হাত ধরে। ওই সময় থেকে চালান নানা দলীয় কর্মসূচি।

এদিকে আওয়ামীলীগের একাধিক নেতার বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, আলীরটেক নিবাসী বিএনপির সায়েম আহম্মেদ এখন রাতারাতি বেশ পদলে বনে যাচ্ছেন আওয়ামীলীগ নেতা। আর নিজেদের পকেট ভারী করে কিছু কতিপয় নেতা তাকে আওয়ামীলীগ নেতা বানানোর মিশনে নেমেছেন। সায়েম আহম্মেদ আলীরটেকের নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে নিজেকে আওয়ামীলীগ নেতা বানিয়ে বঙ্গবন্ধুর ছবির সাথে নিজের ছবি দিয়ে শহরময় লাগিয়েছেন পোষ্টার। ইতিমধ্যে এই সূত্র থেকে আরো বের হয়ে আসে আওয়ামীলীগের এমন কতিপয় কয়েকজন নেতার নাম। তাদের নিয়মিত দেখা যাচ্ছে সায়েম আহম্মেদের নির্বাচনী প্রচারণার কর্মসূচিতে। সিলেটে সায়েম আহম্মেদের ভ্রমন সঙ্গী ছিলেন ওইসব নেতারা। সদর থানা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক সওদাগর খান, সদর থানা যুবলীগের সিনিয়র সহ সভাপতি এসটি আলমগীর সহ বেশ কয়েকজন আওয়ামীলীগের নেতাদের তার সাথে প্রতিনিয়ত দেখা যায়। সম্প্রতি ছাত্রদল নেতা সায়েম আহম্মেদের একটি অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে রাখা হয়েছিল সদর থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ উল্লাহ আল মামুন সহ বেশ কয়েকজন আওয়ামীলীগ নেতাকে। বিএনপির রাজনীতি করা সায়েম আহম্মেদের অনুষ্ঠানে আওয়ামীলীগ নেতাদের এমন অংশগ্রহনকে নিয়ে সর্বত্র ঝড় উঠে নিন্দার। সূত্র মতে আরো জানা যায়, সদর থানা আওয়ামীলীগের কমিটির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক পদে ছাত্রদল নেতা সায়েম আহম্মেদের নাম প্রস্তাব করেছে কমিটির শীর্ষ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
এ বিষয়ে সদর থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ উল্লাহ আল মামুন বলেন, যতদূর জানি সায়েম আহম্মেদ আওয়ামীলীগের রাজনীতি করেছেন। সে সদর থানা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদকের পদ দাবি করায় কমিটির কেউ কেউ তার নাম প্রস্তাব করেছে তবে আমি করিনি। পরিশেষে একটাই বলবো আমি সাচ্চা আওয়ামীলীগার বিএনপি জামাতের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিল এমন কাউকে দলে আসতে দিবো না।
জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই জানান, সায়েম আহম্মেদ নামে একজনের নাম সদর থানা আওয়ামীলীগে কমিটির প্রস্তাব করা হয়েছিল। যেহেতু সে আওয়অমীলীগের কেউ না তাকে কমিটিতে রাখার প্রশ্নই উঠেনা। নেতাদের তালিকা প্রসঙ্গে গনমাধ্যমকে তিনি জানান, নেতৃবৃন্দের বিষয়ে তথ্য দিতে বলা হয়েছিল। আমরা তথ্য প্রদান করেছি। কি কারনে এ তথ্য চাওয়া হয়েছে এ বিষয়ে আমরা জানতে চাইনি এবং আমাদের জানানো হয়নি।
দলটির বিশ্বস্ত সূত্র মতে জানা যায়, সরকারের গোয়ান্দা সংস্থা দিয়ে বিতর্কিত, হাইব্রিড, বিএনপি জামাত থেকে আসা অনুপ্রবেশকারী ও তাদের আশ্রয় প্রশ্রয়দাতা নেতাদের তালিকা নেওয়া হয়েছে। ছাত্রদল নেতা সায়েম আহম্মেদ ও তার প্রশ্রয়দাতা আওয়ামীলীগ নেতাদের নাম হাইকমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এ সব বিষয়ে কঠোরভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছেন তারা এবং দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

