বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
যৌতুকের কারনে স্বামীর নির্যাতন সইতে না পেরে আদালাতে স্বামী মিলণ মিয়াসহ (২৮) ও শশুর বাড়ির অন্যান্য স্বজনদের বিরুদ্ধে মামলা করে হাসিনা (২৬) । সবকিছু ভুলে গিয়ে সুন্দরমত ফের সংসার করার আশ্বাস দিয়ে স্বামী মিলণ তাকে উকিলের চেম্বারে ডেকে নেয়। পরে সেখানে তাকে আটকে রেখে জোরপূর্বক তালাক নামাসহ বিভিন্ন কাগজে স্বাক্ষর নেয় তারা। এতে রাত গভীর হয়ে পড়লে মিলন তার এক নিকট আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে তাকে আটকে রাতভর দৈহিক মিলন করে মিলন। ওই সময় সে কৌশলে এর ভিডিও চিত্র ধারন করে রাখে। পরে তাকে মামালা তুলে নিতে বলে মিলন। না হলে ইন্টারনেটে এসব ছেড়ে দিবে বলে হুমকি দেয় তাকে। নিজের ইজ্জতের কথা ভেবে পরদিন আদালতে সমঝোতা হয়েছে বলে স্বাক্ষ্য দেয় হাসিনা । এরপরই পরই সেই পুরোনো রুপে ফিরে যায় মিলন। রোববার বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের এসও রোড এলাকায় জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের জেলা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে গনমাধ্যমের কর্মীদের সামনে কান্নাজড়িত কন্ঠে এসব কথা বলেন নির্যাতিতা ও প্রতারনার শিকার গৃহবধু হাসিনা।
এসময় তিনি বলেন, ২০১৫ সালে ৮ জুন ইসলামিক শরিয়া মোতাবেক নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা থানার আলামপুর গ্রামের মৃত জহির উদ্দিনের ছেলে মিলন মিয়ার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই ২ লাখ টাকা যৌতুক চেয়ে স্বামী মিলন মিয়াসহ শ্বশুড়বাড়ির লোকজন বিভিন্ন সময় শারিরিক নির্যাতন করে। এমনকি দেখা সাক্ষাতও করে না। পরে আমি খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পরি আমার স্বামী মিলন মিয়া পূর্বে একটি বিয়ে করেছিল এবং ওই সংসারে তার দুই সন্তানও রয়েছে। পরে আমি চলতি বছরের ২৭জুলাই নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্র্যাট আমলী আদালত ক অঞ্চলে একটি নারী নির্যাতনের মামলা দায়ের করি। আদালত মামলাটি ধার্য তারিখ ৮আগষ্ট নির্ধারণ করে। এবং ওই দিনই শুনানী শেষে আদালত বিষয়টি উভয় আইনজীবির মাধ্যমে সমাধানের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। উভয় আইনজীবি ১৯ আগষ্ট বিকাল ৪টায় আদালত পাড়ায় অন্যান্য আরো আইনজীবির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয় ২৩ আগষ্ট মঙ্গলবার বিবাদী (আমার স্বামী) মিলন ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিষয়টি মিমাংসা করতে রাজি হয়। তার প্রেক্ষিতে আমি তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি তুলে নেব। কিন্তু পরে বিবাদী মিলন তার আইনজীবির মাধ্যমে আমাকে (বাদীনিকে) ২২ আগষ্ট রাতে ডেকে নিয়ে যায়। এবং জোরপূর্বক আমার কাছ থেকে তালাক নামাসহ কিছু সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়। পরে গভীর রাতে আমাকে বিবাদী আমাকে ফতুল্লার ভুইগড় এলাকায় তার এক নিকট আত্মীয়ের বাড়িতে আটকে রাখে এবং শারীরীক সম্পর্ক করে কৌশলে তার ভিডিও চিত্র ধারণ করে। পরবর্তীতে সেই ভিডিও চিত্র ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ২৩ আগষ্ট আদালতে মিথ্যা স্বাক্ষী দেয়ায়। কিন্তু ওই দিন আদালত মামলাটি নিষ্পত্তি না করে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে। এর পরপরই বিবাদী মামলা তুলে নেয়ার জন্য বিবাদী আমাকে বিভিন্ন সময়ে বিভন্ন রকম হুমকি ধামকি প্রদান করে আসছে। এব্যাপারে আমার ও আমার পরিবারের ভবিষ্যত নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি সাধারাণ ডায়েরি করি। যার নং-১৩০৯। আমি বিবাদী (আমার স্বামী) মিলনের হাত থেকে রক্ষার জন্য বিজ্ঞ আদালত ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
