বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
সোনারগাঁয়ে বাস লরির সংঘর্ষে শিশু, নারী পুরুষসহ ১০ জন নিহত হয়েছে। এসময় আরো কমপক্ষে ৪০ জন যাত্রী আহত হয়েছে। নিহততের মধ্যে জিয়াসমিন নামে এক গার্মেন্ট কর্মী ও শুভ সাহা নামে এক যুবকের পরিচয় পাওয়া গেছে। বাকীদের নাম পরিচয় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি। সোমবার দুপুরে মহাসড়কের রতনদী এলাকার ক্যানটাকি গার্মেন্টেসের সামনে এ দূর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে ১শিশু, ১ নারীসহ ৪ জন নিহত হয়। বাকী আরো ৬ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান।
খবর পেয়ে কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশ নিহত ৪ জনের লাশ উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সএ নিয়ে যায়। ঘটনার পর দূর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন, ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আতিকুর রহমান পিপিএম বার বিপিএম, ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি আবুল কালাম সিদ্দিক, গাজীপুর রিজিওন হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার মো. শফিকুল ইসলাম পিপিএম, নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মতিয়ার রহমান। পরে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে আহতদের খোজ খবর নেন। অপরদিকে আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেসহ বিভিন্ন হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এদিকে ঘটনার পর পরই মহাসড়কের দু’পাশেই ২০কিলোমিটার এলাকা যানজট সৃষ্টি হয়।
কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের ওসি আব্দুল কাইয়ুম আলী সরদার জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের টিপুরদি রতনদী এলাকায় ক্যান্টাকী গার্মেন্টের সামনে গতকাল সোমবার দুপুরে এমডি ইয়াসিন নামের (ঢাকা মেট্রো ভ-১১-০৮২৬) একটি চট্টগ্রামগামী যাত্রীবাহী বাস অতিক্রম করছিল। এসময় নিয়ন্ত্রন হারিয়ে মহাসড়কের কম গতিতে চলাচলরত (ঢাকা-মেট্রো-ঢ-৮১-০২৭৯) লরিকে পিছন দিক দিয়ে সজোড়ে ধাক্কা মারে। ধাক্কায় বাসের এক তৃতীয়াংশ ভেঙ্গে লরির ভেতরে প্রবেশ করে দুমড়ে মুচড়ে যায়। এসময় ঘটনাস্থলে ১ নারী ও ১ শিশুসহ ৪ জন নিহত হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর আরো ১ নারী, ১ শিশুসহ ৫ জন মারা যান। এ নিয়ে মোট মৃত্যের সংখ্যা দাড়ায় ৯ জনে। আহত হয় আরো ৩০ জন যাত্রী। আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতের মধ্যে জিয়াসমিন (২১) নামে এক গার্মেন্ট কর্মী ঘটনাস্থলে ও ঢামেকে শুভ সাহা (১৮) নামের এক যুবক পরিচয় পাওয়া গেলেও বাকীদের পরিচয় সনাক্ত করতে পারিনি পুলিশ। নিহত জিয়াসমিন কাঁচপুর ডেনিম গার্মেন্টের শ্রমিক। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে ওসি আব্দুল কাইয়ুম আলী সরদার জানিয়েছেন। দুঘর্টনায় কবলিত বাস ও লরিটিকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিহত পাঁচজনের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁর নাম শুভ সাহা (১৮)। নিহত শুভ সাহা চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের গোপাল সাহার ছেলে। অন্যদের মধ্যে ৬ বছরের এক শিশু, ৪৫ বছরের এক পুরুষ, ৫০ বছরের এক নারী ও ৬০ বছরের এক বৃদ্ধা আছেন।
ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন হালিম, কালাম, রিপন, মিজান, ফরহাদ, রাজু, কুদ্দুস, হাসান, আশিক, জাহাঙ্গীর, বাবুল, মাজেদা এবং তার নাতনি জান্নাত ও আফরিন।
জরুরি বিভাগের সামনে নিহত শুভ’র মা আহত কাজল রানী সাহা জানান, গাজীপুর থেকে ছেলেকে নিয়ে চাঁদপুরে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিলেন তিনি। কাঁচপুর থেকে লোকাল বাসটিতে ওঠেন। পথে একটি রিক্সাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে আসে বাসটি। টিপুরদী অতিক্রম করে রতনদী একটি গার্মেন্টের সামনে এ দূর্ঘটনায় পড়ে।
বাসের যাত্রী আহত আলমগীর জানান, কাঁচপুর থেকে তিনি বাসে উঠেন। তার বাড়ি ভৈরব এলাকায়। পথিমধ্যে সোনাখালী এলাকায় একটি রিক্সাকে ধাক্কা দেয় বাসটি। পরে বাসের চালক নিজেকে বাঁচাতে দ্রুতগতিতে বাস চালানোর সময় উপজেলার রতনদী এলাকায় পথে ধীরে চলমান একটি লরীকে অতিক্রম কালে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে লরীর সাথে সংঘর্ষে বাসটি দুমড়ে মুচড়ে যায়।
ক্যানটাকি গার্মেন্ট কর্মী আবু তাহের ও মাসুদা বেগম জানান, দূর্ঘটনা কবলিত বাসটি দ্রুত গতিতে ঢাকার দিক থেকে চট্টগ্রামগামী যাচ্ছিলো। লরির পেছন দিক থেকে হঠ্যাৎ বাসটি লরির সঙ্গে ধাক্কা লেগে বাসটি দুমরে মুচরে যায়। শুরু হয় চেচামেচি। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যান। দুর্ঘটনায় আহত প্রত্যক্ষদর্শী আহত আব্দুল ওয়াহাব জানান, বাসে প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিল। এদের মধ্যে নিহত ছাড়াই আরো ১৫ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিদর্শক (এসআই) বাচ্চু মিয়া জানান, ঘটনাস্থল থেকে ১৫ জনকে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে আনা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চারজন মারা যান। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা এনায়েত হোসেন জানান, তাঁরা দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান। লরিকে ধাক্কা দিয়ে বাসটি রাস্তার পাশে পড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট সেখানে কাজ করে।
ট্রাফিক পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আতিকুর রহমান পিপিএম বার বিপিএম বলেন, সড়ক দূর্ঘটনা রোধে চালক, যাত্রীসহ সকলকে সচেতন হতে হবে। সারা বাংলাদেশে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করায় ২০ লাখ মামলা দেওয়ার পরও সচেতন হচ্ছে না। আমরা প্রতিদিনই সচেতন করার জন্য ক্যাম্পেইন করে যাচ্ছি। আজ দূর্ঘটার কারণ উদঘাটন করতে গিয়ে আহতদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, একটি গর্ভবর্তী মহিলাকে সিট না দিয়ে বাসে উঠানোর কারনে যাত্রীরা চালকের উপর প্রেসার দিয়ে আসছিল। এছাড়াও চালক একটি রিক্সাকে চাপা দিয়েছিল। দুইয়ে মিলে এ দূর্ঘটনা ঘটে।
