বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
সোনারগাঁও উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের বরাব এলাকায় ৩১ মার্চ ২০১৯ রোববার সন্ধ্যায় উপজেলা নির্বাচনে ঘোড়া প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী মাহফুজুর রহমান কালামের সমর্থক ও উক্ত ওয়ার্ড মেম্বার রফিকুল ইসলামের ছুড়িকাঘাতে নৌকার সমর্থক ও সাদিপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি জাকির হোসেন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। রোববার রাতেই আহতের বাবা মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় রফিক মেম্বার সহ তার সহযোগীদের অভিযুক্ত করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ ও ভূক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ৩১ মার্চ রোববার সন্ধ্যায় উক্ত বরাব সপ্রাবি’র নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণা করা হলে ঘোড়া প্রতীকের সমর্থকরা বিজয় মিছিল নিয়ে কেন্দ্র থেকে সামনে এগিয়ে মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমানের দোকানের সামনে এসে দোকানে থাকা প্রায় ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার মালামাল ভাংচুর করে ক্যাশে থাকা ৯ হাজার টাকা সহ মালামাল লুটপাট করে। খবর শুনে মতিউর রহমানের ছেলে ও নৌকার সমর্থক জাকির দোকানের সামনে আসলে কিছু বুঝে উঠার আগেই রফিক মেম্বার জাকিরের তলপেটে ছুড়িকাঘাত করলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং মারাত্মকভাবে আহত অবস্থায় জাকিরকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ছুড়িকাঘাত করেই ক্ষান্ত না হয়ে সন্ত্রাসীরা মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমানের বাসায় গিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে বাসার আসবাবপত্রের ভাংচুর সহ ব্যাপক তান্ডব চালায় এবং ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীনের অফিসেও হামলা চালিয়ে বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনার ছবি ভাংচুর সহ অফিসের মারাত্মক ক্ষতিসাধন করা হয়। আহত জাকিরকে দেখতে সোমবার সকালে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে গিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক এমপি আব্দুল্লাহ আল কায়সার এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এস এম জাহাঙ্গির হোসেন। এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত মারাত্মকভাবে আহত অবস্থায় জাকির হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। উক্ত ওয়ার্ডের মেম্বার রফিকের বিষয়ে জানা যায়, সে উক্ত ওয়ার্ড সহ আশপাশের এলাকার মাদকের বড় ডিলার। ইউনিয়ন ভূমি অফিসের পাশে অফিস করে জমির পর্চা, খাজনা ও খারিজের দালালী করে প্রতারণার ফাদ পেতে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে থাকে। জসীম নামে সরকারি অফিসের এক গাড়ী চালক উক্ত এলাকায় জমি কিনে বাড়ী করলে উক্ত ব্যক্তিকে ভিটে ছাড়া করতে কয়েকবার তাকে মারধর করেছে। যা নিয়ে বিচার শালীসি ও থানায় অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে। কয়েক মাস আগে সে নয়াপুরে কনফিডেন্স মিলের ঝুট ব্যবসার দখল নিতে গিয়ে মিলে হামলা চালায় এবং প্রচন্ড গণধোলাই খেয়ে প্রশাসনের কাছ থেকে প্রাণ ভিক্ষা চেয়ে সেদিন বেঁচে গেলেও প্রায় আড়াই কোটি টাকার ক্ষতিসাধনে মিলের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামী এই বহুরূপী রফিক মেম্বার। উক্ত এলাকায় সে অপরাধের রামরাজত্ব করার পায়তারা করছে। তাই তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় দু’পক্ষেরই ঘরবাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। এতে কয়েকজন আহত হয়। এ ব্যাপারে অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এলাকা এখন শান্ত সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

