বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পুলিশ চেকপোস্ট বক্স এর সামনেই প্রবাসীর গাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের কবলে পড়ে ১৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, তিনটি মুঠোফোন ও নগদ টাকা খোয়ালেন জাপান প্রবাসী এক দম্পতি। এ ঘটনায় তাদের জাপান যাত্রাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
গত বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁয়ে মেঘনা টোলপ্লাজা সংলগ্ন পুলিশ চেকপোস্ট বক্স এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী জাপান প্রবাসী মাহমুদুল হাসান আরমান (৪০) ফেনী জেলার নুরুল হকের ছেলে। তিনি স্ত্রী-সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে জাপানে ফেরার উদ্দেশ্যে একটি হায়েস মাইক্রোবাসে যোগে ফেনী থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিলেন।
এ ঘটনায় ভূক্তভোগীর বাবা মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হক বাদি হয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, মেঘনা টোলপ্লাজা সংলগ্ন এলাকায় পুলিশের চেকপোস্টের সামনে পৌঁছালে ৫/৬ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল লেজার লাইট দিয়ে সংকেতের মাধ্যমে তাদের গাড়ি থামায়। মুহুর্তের মধ্যে দেশীয় অস্ত্র, চাপাতি, ছুরি ও লোহার রড নিয়ে তাদের গাড়ির গ্লাস ভেঙে গাড়িতে থাকা যাত্রীদের মারধর করে সঙ্গে থাকা প্রায় ১৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, একটি আইফোন-১৬ প্রো ম্যাক্সসহ তিনটি মুঠোফোন এবং নগদ ৩০ হাজার টাকা, অন্যান্য মূল্যবান মালামাল,পরিবারের সকল সদস্যের পাসপোর্টসহ সর্বস্ব লুট করে নিয়ে যায়। লুট হওয়া স্বর্ণের বর্তমান বাজারমূল্য ৩০ লাখ টাকা বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী মাহমুদুল হাসান আরমান গত বুধবার রাতে স্বপরিবারে জাপানে ফিরে যাওয়ার ফ্লাইট ছিল। কিন্তু পাসপোর্ট হারিয়ে তিনি সম্পূর্ণ নিরুপায়। এ ঘটনায় তার পিতা বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী মোটরসাইকেল আরোহী সামসুজ্জামান জানান, তিনি একই পথে ঢাকা যাওয়ার সময় ৫-৬ জনকে চাপাতি হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। তিনি ভয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাননি। তিনি যখন মোটরসাইকেল থামিয়ে দাড়িয়ে ছিলেন। তখনই এ ঘটনা ঘটে। আশপাশে লোকজন থাকলেও কেউ এগিয়ে আসেননি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এ স্থানে নিয়মিত ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এখানে পুলিশের চেকপোস্ট রয়েছে। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিভাবে ডাকাতি ও ছিনতাই হয়। পুলিশেরএ বিষয়ে সতর্ক হওয়া দরকার।
সোনারগাঁ থানার ওসি গোলাম সারোয়ার বলেন, ঘটনাটি ডাকাতি নয় ছিনতাই। মামলা নেয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থানা পুলিশের চেকপোস্টের সামনে বলে শুনেছি। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ মাঠে কাজ করছে। আশা করি দ্রুত আসামী গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) দীপংকর ঘোষ জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা রুজু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
