বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
মেঘনা নদী ভরাট করে ওরিয়ন গ্রুপের গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ সহ আটককৃত তিন কর্মচারীর ভিডিওচিত্র ধারণ করায় গণমাধ্যম কর্মীদের উপর চড়াও হয়ে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছেন ওই প্রতিষ্ঠানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা। বিআইডব্লিউটিএ’র ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহি ম্যাজিষ্ট্রেটের উপস্থিতিতেই তিনি গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে এ মারমুখী আচরণ করেন। এ সময় তিনি সময় টেলিভিশন, যমুনা টেলিভিশন ও চ্যানেল টুয়েন্টিফোরসহ কয়েকটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের ক্যামেরাপার্সনকে ধাক্কা দেন এবং তেড়ে আসেন। পরে নির্বাহি ম্যাজিষ্ট্রেট পরিস্থিতি শান্ত করেন।
এর আগে ওরিয়ন গ্রুপের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করতে এবং আটককৃতদের ছাড়িয়ে নিতে ওই কর্মকর্তা নির্বাহি ম্যাজিষ্ট্রেটের কাছে তদবির করতে আসেন। নির্বাহি ম্যাজিষ্ট্রেট তাকে নদী ভরাটের কাজ বন্ধ করে ভবিষ্যতে এ ধরণের অপরাধ না করার লিখিত অংগীকারনামা প্রদানের নির্দেশ দেন।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার পিরোজপুর এবং মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থানার চর গোয়ার্দী এলাকায় মেঘনা নদীর তীর ভরাট ও দখল করায় বসুন্ধরা গ্রুপ, ওরিয়ন গ্রুপের দখলকৃত অংশ অবমুক্ত করতে ৬ দিনব্যাপী অভিযানের ৫ম দিনে মঙ্গলবার বেলা ১১ টা থেকে বিকেল ৩ টা পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান চালায় বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ। এসময় একটি পাকা ৪ তলা ভবন ও একটি ডকইয়ার্ড ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া হয়। একই সাথে মেঘনার শাখা নদীর প্রবেশ মুখে ড্রেজার দিয়ে বালু ভরাট করতে থাকায় ৪টি ড্রেজার পাইপ গুড়িয়ে দেয়া হয়। এছাড়া নদী ভরাট করে ওরিয়ন গ্রুপের দখলকৃত জায়গায় পাইলিংয়ের কাজ করায় ৩ শ্রমিককে আটক করা হয়েছে।
নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ও বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মিয়ার নেতৃত্বে নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর কতৃপক্ষ এ উচ্ছেদ অভিযান চালায়। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিএর পরিচালক (বন্দর ও পরিবহন) শফিকুল হক, নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম-পরিচালক গুলজার আলী, উপ-পরিচালক মোঃ শহীদুল্লাহ, সহকারী পরিচালক এহতেশামুল পারভেজসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম-পরিচালক গুলজার আলী জানান, মেঘনা নদীর দুই তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে ৬ দিনব্যাপী অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সম্প্রতি নদী কমিশনের চেয়ারম্যান বিআইডব্লিউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের কর্মকর্তাদের নিয়ে মেঘনা নদী পরিদর্শন করেছেন। এসময় মেঘনা গ্রুপ, বসুন্ধরা গ্রুপ, আমান ইকোনোমিক জোন, ইউনিক গ্রুপ, রিয়ন গ্রুপ, আল মোস্তফা গ্রুপের পলিমার ইন্ড্রাষ্ট্রিজসহ বেশ কিছু শিল্প প্রতিষ্ঠানে নদী দখলের প্রমান পেয়েছেন। তারই আলোকে সেগুলো পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। আগামীকাল ছয়দিন ব্যাপী উচ্ছেদ অভিযান সমাপ্ত করা হবে তবে আবারো অভিযানের সিডিউল নির্ধারণ করে পরবর্তীতে অভিযান চালানো হবে।
তিনি আরো জানান, নদী দখলকারীরা যতো প্রভাবশালী হোক না কেন কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। নদী দখলমুক্ত করতে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। এর পাশাপাশি উচ্চ আদালতও সরারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় ও দপ্তরগুলোকে একই নির্দেশ দিয়েছে। এরই দারাবাহিকতায় পর্যায়ক্রমে শীতলক্ষ্যা, ধলেশ্বরী, মেঘনা নদীর দুই তীরে গড়ে উঠা সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।
নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয়ের উপ-সচিব ও বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহি ম্যাজিষ্ট্রেট মনিরুজ্জামান মিয়া জানান, শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে নদীর তীরে তাদের প্রতিষ্ঠান গড়ার অনুমতি দেয়া হলেও তারা শর্ত ভঙ্গ করে নদীর নির্ধারিত জায়গা দখল করেছে। এতে করে নদী সংকৃুচিত হয়ে স্বাভাবিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে। নদীগুলো অবৈধ দখলমুক্ত করতে উচ্চ আদালত কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। সেই আলোকে নদীর সীমানার অভ্যন্তরে গড়ে তোলা সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে।
