বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মাদক দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে পুলিশের ধাক্কায় হৃদরোগে আক্রান্ত বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার(২২ ডিসেম্বর) রাতে মোগরাপাড়া ইউপির বাড়ী মজলিস গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে পুলিশের দাবি, মাদক ব্যবসায়ী সজিবকে ইয়াবা ও গাঁজাসহ আটক করা হয়েছে।
এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার জানায়, মজলিশ গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে সজিব এক সময় মাদক ব্যবসা করতেন। মোগরাপাড়া চৌরাস্তার এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী গিট্টু হৃদয় র্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হওয়ার পর সজিব মাদক ব্যবসা ছেড়ে দেন। রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সোনারগাঁ থানার এসআই হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে এসআই মনির হোসেনসহ তিনজন পুলিশ সজিবের বাড়িতে অভিযান চালায়।
এ সময় সজিবকে ইয়াবা দিয়ে পুলিশ আটক করে নিয়ে আসার চেষ্টা করে। পরে তার মা জোসনা বেগম এসআই মনির পায়ে ধরে সজিব মাদকের ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন বলে তাকে ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেন।
এতে মনির হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে জোসনা বেগমকে ধাক্কা দিলে তিনি অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে একটি হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে সজিবের মা জোসনা বেগম মাটিতে লুটিয়ে পড়লে পুলিশ তাকে ছেড়ে দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। জোসনা বেগমের মৃত্যুর খবর পেয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশের একটি টিম তার পরিবারকে শান্তনা দেয়ার জন্য ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য বলা হয়।
সজিবের বাবা গিয়াসউদ্দিনের বরাত দিয়ে স্বজনরা জানান, রোববার রাতে পুলিশের সঙ্গে দুইজন সোর্স সজিবের ঘরে ঢুকে তার বালিশের নিচে ইয়াবা ও গাঁজা রেখে গিয়ে পুলিশ নিয়ে ঘরে ঢোকে। এরপর পাশের ঘর থেকে সজিবকে আটক করে। বালিশের নিচ থেকে ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার হয়েছে বলে আমাদের জানান। তবে সজিব আরো পাঁচ মাস আগে এ ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন।
সোনারগাঁ থানার এসআই হাবিবুর রহমান ফাঁসানোর অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মাদক দিয়ে ফাঁসানোর বিষয়টি সত্য নয়। মাদক ব্যবসায়ী সজিবকে ৫০ ইয়াবা ও গাঁজাসহ আটক করা হয়েছে। পরে তার মা এটা দেখে রুমে গিয়ে স্টোক করেন।
সোনারগাঁ থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, মাদক ব্যবসায়ীর মাকে পুলিশ ধাক্কা দিয়েছেন এটা আমার জানা নেই। প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করলে জানা যাবে।

