বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
ধর্ম যার যার উৎসব সবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই স্লোগানকে সামনে রেখে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আসন্ন মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দ স্নান উৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ন ভাবে আয়োজন করতে সকল ধর্মাবলম্বী এবং দলমত নিবিশেষে সকলের প্রতি আহবান রেখেছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। তিনি বলেন, হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খিস্ট্রান ভেদাভেদ বুঝি না সকলের পারস্পারিক সহযোগীতার মাধ্যমে আসন্ন লাঙ্গলবন্দ ¯œান উদৎসবকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ন ভাবে সফল করতে হবে। কারন এই উৎসবে দেশের বিভিন্ন জেলা সহ বিদেশীরাও পূণ্যার্থী হয়ে আসেন। তাই এই উৎসব আয়োজনের সাথে নারায়ণগঞ্জের সম্মান জড়িত। কোন অবস্থাতেই যাতে নারায়ণগঞ্জের সম্মানহানি না হয় সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সেই ব্যবস্থা করতে হবে।
রোববার ৭ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টায় নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবের তৃতীয় তলায় অডিটরিয়ামে আসন্ন মহাতীর্থ লাঙ্গলবন্দ ¯œান উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ সহ হিন্দু নেতৃবৃন্দের সাথে ¯œানোৎসব আয়োজনের প্রস্তুতিমূলক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, সৃষ্টিকর্তা মাঝে মাঝে আমাদেরকে বিভিন্ন রকমের বিপদ দিয়ে নানা বিষয়ে শিক্ষা দেন। ঠিক তেমনি লাঙ্গলবন্দে একটি দুর্ঘটনায় ১০জন পূণ্যার্থীর প্রাণহানীর মধ্য দিয়ে সৃষ্টিকর্তা আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন। ওই ঘটনার পর আজকে লাঙ্গলবন্দে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাধ্যমে ১ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রথম ধাপে ৮টি নতুন ঘাটলা নির্মাণের কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে বাকি উন্নয়ন গুলো সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে লাঙ্গলবন্দকে একটি পূর্ণাঙ্গ তীর্থস্থান এবং আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। আর এসকল উন্নয়ন কোন কমিটির মাধ্যমে হচ্ছে। সরাসরি সরকারের মাধ্যমে উন্নয়ন কাজ গুলো সম্পন্ন করা হবে।
তীর্থস্থান এলাকা জুড়ে পূণ্যার্থীদের অবাধে যাতায়াতের সুব্যবস্থা রাখতে রাস্তার দুপাশে থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ সহ রাস্তার পাশে কোন অবস্থাতেই মেলার দোকানপাট বসানো যাবে না বলে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছেন তিনি। পাশাপাশি পূন্যার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত করার সুবিধার্থে উৎসব চলাকালে পাবলিক যানবাহন ওই এলাকায় চলাচল বন্ধ থাকবে। সেই সাথে নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ¯œান উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দদের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত আরো ৩০০জন সেচ্ছাসেবী কর্মীর ব্যবস্থা রাখতে বলেন। সেচ্ছাসেবীদের সকলকেই একই রকমের টিশার্ট প্রদান করা হবে। যাতে করে খুব সহজেই সেচ্ছাসেবী কর্মীদের সহযোগীতা নিতে পারেন পূর্ণার্থীরা। সেচ্ছাসেবীর কর্মীর পাশাপাশি প্রয়োজনে পুরুষ ও নারী আনসার সদস্য রাখতে হিন্দু নেতৃবৃন্দদের প্রতি অনুরোধ রাখেন তিনি। প্রয়োজনে ওই সকল সেচ্ছাসেবী এবং আনসার সদস্যের ব্যয় তিনি ব্যক্তিগত ভাবে ব্যবস্থা করবেন। গত কয়েক বছরের ন্যায় এ বছরেও সকলের পারস্পারিক সহযোগীতার মধ্য দিয়ে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ন ভাবে মহাষ্টমী ¯œান উৎসব আয়োজনে সকলে প্রতি অনুরোধ রাখেন তিনি।
লাঙ্গলবন্দ ¯œান উদযাপন পরিষদের সভাপতি সরোজ কুমার সাহার সভাপতিত্বে প্রস্তুতি মূলক সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের, এফবিসিসিআই এর পরিচালক প্রবীর কুমার সাহা, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান ফেরদৌস জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মহসিন মিয়া, মুছাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন, লাঙ্গলবন্দ ¯œান উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুজিত সাহা, হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি পরিতোষ কান্তি সাহা, ¯œান উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি বাসুদেব চক্রবর্তী, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিপন সরকার সহ অন্যান্য হিন্দু নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।
