বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
ইন্টারন্যাশনাল ইউথ চেইঞ্জ মেকার ও সার্ভিসেস ফর সোশ্যাল এন্ড এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্ট-সিড এর উদ্যোগে অসহায় ও সুবিধা বঞ্চিত শিশু শিক্ষার্থীদের মাঝে ঈদ ও রমজানের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে শহরের চাষাঢ়া রেল স্টেশনের ’লাল সবুজের পতাকা শুভ চন্দ্র শিশু শিক্ষা কেন্দ্র’ নামের একটি স্কুলের ৬৪ জন শিক্ষার্থীদের মাঝে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এ খাদ্যসহায়তা দেওয়া হয়। এসব খাদ্য সামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ছোলা, চিনি, তেল, আলু, পেঁয়াজ, সাবান, খেজুরসহ নানা খাদ্য সামগ্রী।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, ইন্টারন্যাশনাল ইউথ চেইঞ্জ মেকারের বাংলাদেশ কান্ট্রি কোঅরডিনেটর লাবিবা সুলতানা, ঢাকা টিমের সভাপতি মাহমুদুল হাসান জয়, সাধারণ সম্পাদক সাদিয়া আফরোজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিথিল খান, কমুনিকেশন লিডার জুবায়ের আহম্মেদ।
লাবিবা সুলতানা বলেন, ‘ ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ চেঞ্জ মেকার সবসময় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে ছিলো এবং থাকবে। আশা করি আমরা সামনের দিনে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সমাজিক অবস্থার পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবো। এ জন্য সবার সহযোগিতা এবং ভালোবাসায় শিশুদের মুখে হাঁসি ফুটাতে চাই। ’
সার্ভিসেস ফর সোশ্যাল এন্ড এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্ট-সিড এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী আরিফুল ইসলাম, প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর মো. রাসেল মিয়া, ফিন্যান্স কো-অর্ডিনেটর ফারজানা আক্তার, ইভেন্ট এন্ড ক্যাম্পেইন অর্গনাইজার মো. মাসুদ।
সিড এর প্রধান নির্বাহী বলেন, ‘ সিড সমাজের সুবিধাবঞ্চিত এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী নিয়ে কাজ করার প্রয়াসে সিডের মূলত যাত্রা । এ যাত্রায় ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ চেঞ্জ মেকার এর সহযোগী হয়ে শিশুদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করতে পেরে আমরা আনন্দিত এবং যারপড়নাই গর্বিত। ভবিষ্যতেও এসকল শিশুদের পাশে থাকার আশাবাদ জানান তিনি।
এ স্কুলেল শিশু শিক্ষার্থী মীনজাজ (৬) ও হালিম (৭)পাশাপাশি ঘর তাদের। বয়সে দুইজন কাছাকাছি। একজনের বাবা ঠেলা গাড়ী চালায়, অন্য জনের বাবা ভাঙ্গারী কিনে। তারা দুইজন এক সাথে লাল সবুজ পতাকা স্কুলে পড়তে আসে। রাস্তার পাশের ফুটপাতে বসেও তারা স্বপ্ন দেখে বড় হয়ে একজন আকাশে উড়বে পাইলট হবে অন্যজন পুলিশ অফিসার। তাদের এই স্বপ্নের পথের সহযোগিতা হয়ে সাথে আছে ইন্টারন্যাশনাল ইয়ুথ চেইঞ্জ মেকার (আইওয়াইসিএম) ও সার্ভিসেস ফর সোশ্যাল এন্ড এডুকেশনাল ডেভেলপমেন্ট-সিড। মীনহাজ এবং হালিম এর মতো প্রায় ৬৪ শিশুর হাতে আজ তুলে দেওয়া হয়েছে তাদের ঈদ উপহার।
এই স্কুলে পড়া ৮ বছরের শিশু মীম জানায় ‘ মেলা খুশি লাগতাছে রোজা শুরু হবার পর তেমন একদিন ভালো কইরা ইফতার খাইতে পারিনি মেলা দিন পর বাসার সবাই রে নিয়া ইফতার করমু ,সেহেরী খামু” মীমের মতো ৭ বছরের শিশু নাইম জানায় ‘ লক ডাউন শুরু হইছে রমজন শুরু হইবার পর আব্বা কামে যাইতো না রিকশা চালাইতো না মেলা দিন ঠিক মতো খাইতে পারি নাই ওহন আমার অনেক খুশি লাগতাছে।
এমন মীনহাজ,হালীম মীম,নাইমদের পাশে দাঁড়িয়ে এই দুই সংগঠন। তাদের খাদ্য সামগ্রী বিতরন কর্মসূচিতে নারায়ণগঞ্জ থেকে সহযোগিতা করেন, রেদওয়ান আরিফ, আবদুল্লাহ, সাইফুল ইসলাম, মাহমুদুল হাসান, নাদিম হাসান, বিল্লাল আহম্মেদ প্রমুখ ।

