বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের কয়েক লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার অন্যতম কেন্দ্র ১০০ শয্যা বিশিষ্ট সরকারী জেনারেল হাসপাতাল( ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল) এর জরুরী বিভাগের সেবা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যার পর থেকেই এই হাসপাতালের জরুরী বিভাগে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ফলে সেবা নিতে আসা শত শত রোগীরা চরম বিপাকে পরেছেন। এদিকে সারা শহরময় যানবাহন বা রিকশা চলাচলও বন্ধ থাকায় এই হাসপাতাল থেকে প্রায় ২কিলোমিটার দূরত্বে শহরের খানপুর ৩শ’শয্যা হাসপাতালে পায়ে হেটেই গিয়েছিল রোগীরা। কোন পূর্ব ঘোষনা ছাড়াই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এদিকে হঠাৎ কেন এই সিদ্ধান্ত, এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা সভিল সার্জন ডা.মোহাম্মদ ইমতিয়াজ জানিয়েছেন, বন্দরে করোনায় মৃত্যু হওয়া নারীর চিকিৎসা করা ডাক্তার, নার্স ও ওয়ার্ডবয়সহ কয়েকজনকে কোয়ারেন্টাইনে প্রেরণ করা হয়েছে। তাই জরুরী বিভাগ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হবে এবং ২/৪দিনের মধ্যে আবারো জরুরী বিভাগ খুলে দেয়া হবে। কিন্তু এমন সিদ্ধান্ত নিতে কেন বিলম্ব হলো এবং এই কয়েকদিনে যারা চিকিৎসা নিয়েছেন ও দিয়েছেন তারা কি সংক্রমিত হতে পারেন, এমন প্রশ্নের জবাবে সিভিল সার্জন জানান, আমি সবার সাথে বসে সিদ্ধান্ত না নিয়ে বন্ধ করতে পারিনা। সবার সাথে সিদ্ধান্ত নিয়ে তারপর বন্ধ করেছি। তবে জরুরী বিভাগ ছাড়া হাসপাতালের অন্যান্য সকল সেবা চালু থাকবে বলে সিভিল সার্জন জানান।
অপরদিকে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জের বন্দরের রসুলবাগ এলাকাতে একজন নারী করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যান। মারা যাওয়ার আগে ওই নারীকে ১০০ শয্যা হাসপাতালে আনা হয় প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য। এছাড়াও পরবর্তীতে আরো দুইজন আক্রান্ত রোগী রোগ গোপন করে ১০০ শয্যা হাসপাতালের জরুরী বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছেন। এসব কারণে জরুরী বিভাগের কয়েকজনকে এর আগেই হোম কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়। তাদের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। সোমবার প্রদত্ত রিপোর্টে নার্স ও ওয়ার্ডবয় সহ ৩জনের করোনা পজেটিভ পাওয়া গেছে। ওই তিনজনকে ইতোমধ্যে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। সে কারণেই আপাতত জরুরী বিভাগ বন্ধ রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার জরুরী বিভাগ জীবানুমুক্ত করা হবে।
এদিকে এব্যাপারে চরম ক্ষোভ জানিয়েছেন সেবা নিতে আসা সাধারন মানুষ।তারা জানিয়েছেন, বন্দরে করোনা আক্রান্ত নারী মারা যাওয়ার পর গত ২এপ্রিল জানা গিয়েছিল তিনি করোনা ভাইরাস পজেটিভ। এর ৪/৫দিন আগে তিনি জেনারেল হাসপাতালে এসেছিলেন। ৩এপ্রিল ঐ নারীকে চিকিৎসা দেয়া ডাক্তার নার্স ওয়ার্ডবয় সহ ১০জনকে কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে। তাহলে গত ৪দিন বা ঐ নারী চিকিৎসা নিতে আসা সময় ধরলে গত ৮দিনে করোনা সংক্রমনের সম্ভাবনা অবশ্যই ছিল। শুধু এই পরিচ্ছন্ন করার সিদ্ধান্ত নিতেই সিভিল সার্জন ৪দিন সময় লাগালেন। আমরা এই সিভিল সার্জনের অপসারণ চাই অতি সত্বর। হাসপাতালের কয়েকজন কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানালেন, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক খোদ সিভিল সার্জন। তিনিই একাই এই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। মূলত: বিষয়টি তার মাথায় ছিল না তাই তিনি অনেক দেরী করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কিন্তু ক্ষতি যা হওয়ার হয়ে গেছে।

