বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সিদ্ধিরগঞ্জে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গত কয়েক দিনের উচ্ছেদ অভিযানে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগে স্থানীয়দেরকে বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। গত সোমবার (১৪ নভেম্বর) থেকে বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) পর্যন্ত ৪দিনে চিহ্নিত চাঁদাবাজদের স্থাপনা বহাল রেখে গরীব অসহায় ফুটপাত ব্যবসায়ী ও সামাজিক সংগঠন মাদানীনগর কল্যাণ সমিতির কার্যালয়সহ স্থাপনায় এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১৮ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় নাসিক ৩নং ওয়ার্ডের মাদানীনগর এলাকায় সওজ’র এহেন কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ জানিয়েছে এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগে জানা যায়, চিহ্নিত চাঁদাবাজদের স্থাপনা বহাল রেখে গরীব দু:খী মানুষের পেটে লাথি মারায় সওজ’র ভুমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও নানা প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জবাসী মধ্যে। সাধারন ব্যবসায়ীদের অভিযোগ যাদের টাকা আছে ও এলাকার প্রভাবশালী তারাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মাসোহারা দিয়ে তাদের স্থাপনা বহাল রেখে উচ্ছেদ অভিযান চালানো একধরনের আইওয়াশ ছাড়া কিছুই না। এই নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে ও ফুটপাতের চা দোকানে আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইছে।
এ ছাড়াও জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) গনভবন থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন উপলক্ষে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে কথা বলবেন। এ জন্য সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাড়ে ৭ কিঃ মিঃ আট লেন প্রকল্পের দু’পাশে অবৈধ ভাবে গড়ে উঠা স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালায়। সোমবার থেকে চলমান উচ্ছেদ অভিযানে যাত্রাবাড়ী থেকে সাইনবোর্ড হয়ে শিমরাইল মোড় পর্যন্ত সাড়ে ৭ কিলোমিটার এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করলেও সানারপাড় বাস ষ্ট্যান্ডের উত্তর পাশে নামধারী আওয়ামীলীগ নেতা চিহ্নিত মাদকসেবী বাবা সুলতানের নির্মিত দ্বিতল বিশিষ্ট বাঙ্গালী মার্কেট, শিমরাইল মোড়ে সড়কের উত্তর পাশে আজিজ কো-অপারেটিভ সুপার মার্কেট শপিং মলের বাউন্ডারী দেয়াল ও অফিস, খান্কা মসজিদ সংলগ্ন সরকারি জায়গায় অবৈধ ভাবে গড়ে উঠা ফাউন্ডেশন মার্কেট বিল্ডিং, পরিবহন কাউন্টার ও চিহ্নিত কিছু দোকান বহাল রেখে মাদানীনগর এলাকায় মহাসড়ক থেকে দেড়’শ ফুট দুরে অবস্থিত মাদানীনগর কল্যাণ সমিতির কার্যালয়সহ এসব এলাকার অসহায় নিরীহদের সকল দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়। সড়ক ও জনপথ বিভাগের এহেন কর্মকান্ডে হতবাক স্থানীয় এলাকাবাসী।
মহাসড়কের দক্ষিণপাশে মামুন নামের এক ফল ব্যবসায়ী জানায় হাবিবুল্লাহ হবুলের বিশাল মার্কেটের আংশিক উচ্ছেদ করা হলেও অদৃশ্য কারনে সওজ কর্মকর্তারা ঐ মার্কেট উচ্ছেদ না করেই ফিরে যায়। স্থানীয়দের ধারনা মোটা অংকের আর্থিক সুবিধা পেয়ে হয়তো তারা মার্কেটটি বহাল রেখেছে। অভিযোগ রয়েছে, হাবিব উল্লাহ হবুল ও ছাদেক গং উক্ত জায়গাটি পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে নার্সারি করার নামে ১০ শতাংশ জায়গা ২বছরের জন্য লিজ নেয়। লিজ নেওয়ার পর পরে এই চক্রটি পানি উন্নয়ন বোর্ডে কিছু অংশ ও সড়ক জনপথের জায়গা দখল করে স্থায়ীভাবে মার্কেট নির্মাণ করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরবর্তীতে সড়ক জনপথ কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরী করলেও কোন এক অদৃশ্য ইশারায় ঐ মার্কেটটি আর উচ্ছেদ করা হয় নাই।
এ ব্যাপারে সওজ’র নারায়ণগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অলিউল হোসেন জানায়, আমরা সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে মহাসড়কে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছি। যদি কোথাও কোন স্থাপনা উচ্ছেদের আওতার বাইরে থাকে আমরা তা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেব।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, মাদানীনগর কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি গোলাপ হোসেন মেম্বার, সাধারন সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমান, যুগ্ন সাধারন সম্পাদক আব্দুস সাত্তার, মিনার হোসেন, সদস্য মাজহার আলম বিপু, বীরুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন,আ: আজিজ, মো: সালেমসহ এলাকার শতাধিক বাড়ীর মালিক ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ প্রমূখ।
এই দিকে ক্ষতিগ্রস্থ হকাররা ক্ষোভ জানিয়ে জানায়, এই চক্রটি স্থানীয় প্রশাসন ও সড়ক জনপথ কর্তৃপক্ষকে মোটা অংকের মাসহারা দিয়ে মার্কেটের নামে নিবিঘেœ চাঁদাবাজি করে আসছে। তাই প্রতিবারই এসব প্রভাবশারীদের স্থাপনা থেকে যায় উচ্ছেদ অভিযানের আওতার বাইরে। এসব অনিয়ম দুর্নীতি সম্পর্কে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগ ও পুলিশ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছে স্থানীয় এলাকাবাসী।

