বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ আল-নূর মসজিদে জুম্মার নামাজের সময় বন্দুকধারী সন্ত্রাসীর গুলিতে নিহত নারায়ণগঞ্জের ওমর ফারুকের মরদেহের জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ বুধবার সকাল দশটায় বন্দর উপজেলার সিরাজদৌলা মাঠে জানাজা শেষে পৌনে এগারোটায় বন্দর কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। ওমর ফারুকের পরিবারের স্বজনরা ছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও শত শত এলাকাবাসী এতে অংশ নেন। এ ফেরা যেন থামিয়ে দিয়েছে সব। থামিয়ে দিয়েছে মনে গভীরের ভাবনা গুলিও। মা, স্ত্রী কিংবা নিকটতম স্বজন, কেউ এখনো ভাবতে পারছেন না ফারুক বাড়ী ফিরবে নিথর দেহ হয়ে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে এগারোটায় ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ওমর ফারুকের লাশ এসে পৌঁছায়। পরে সেখান থেকে পরিবারের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হলে মধ্য রাতে বন্দর উপজেলার রাজবাড়ি এলাকায় নিজ বাড়িতে আনা হয়। তখন থেকেই নিকট আত্মীয়-স্বজনরা বাড়িতে আসতে শুরু করেন। সকালে গোসল শেষে ওমর ফারুকের মরদেহ বাড়ির সামনে রাখা হলে এলাকবাসী ও দূর-দূরান্ত থেকে তার বন্ধুবান্ধব এবং স্বজনরা বাড়িতে এসে ভীড় জমান শেষবারের মতো ওমর ফারুকের মুখটি দেখতে। জানাজার আগ মূুহুর্তে কফিনের সামনে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন ওমর ফারুকের মা রহিমা বেগম, তিনমাসের অন্ত:সত্ত্বা স্ত্রী সানজিদা জামান নিহা ও তিন বোনসহ শোকার্ত স্বজনরা। এসময় কান্নাবিজড়িত কন্ঠে তারা গণমাধ্যমকে জানান, কেউই আশা করেননি ওমর ফারুক এভাবে লাশ হয়ে বাড়িতে ফিরবে। একমাত্র উপার্জনকারী ওমর ফারুককে হারিয়ে পরিবারের অসহায় অবস্থার কথাও তারা তুলে ধরেন। সেখানে ছেলেবেলার বন্ধুরা ও এলাকাবাসী ওমর ফারুকের স্মৃতিচারণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
এদিকে জানাজার পর পরিবারের স্বজনদের সমবেদনা জানাতে বাড়িতে ছুটে যান নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরশেনের মেয়র ডা: সেলিনা হায়াৎ আইভী। এসময় তিনি নিউজিল্যান্ডের এ ঘটনাকে অনাকাঙ্খিত ঘটনা বলে উল্লেখ করেন। নিউজিল্যান্ড সরকারের তাৎক্ষণিক ভূমিকার ব্যাপারে সে দেশের সরকারকে ধন্যবাদও জানান তিনি।
গত ১৫ মার্চ শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ আল-নূর মসজিদে জুম্মার নামাজের সময় বন্দুকধারী সন্ত্রাসীর গুলিতে ৫০ জন নিহত ও ৪৭জন আহত হন। এ ঘটনায় নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশী ছিলেন ৫ জন। এদের মধ্যে একজন নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার রাজবাড়ি এলাকার ওমর ফারুক। পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতার জন্য ২০১৫ সালে নিউজিল্যান্ডে পাড়ি জমান বাবাহারা তিন বোনের একমাত্র ভাই ওমর ফারুক। ২০১৭ সালে দেশে এসে বিয়ে করেন একই এলাকায়। গেলো বছরের ১৬ নভেম্বর ছুটি নিয়ে আবারো দেশে আসেন। কিছুদিন বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে কাটিয়ে ১৮ জানুয়ারি ফিরে যান নিউজিল্যান্ডে।
