বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে কার্গো জাহাজের ধাক্কায় যাত্রীবাহী লঞ্চ ডুবির পরিপ্রেক্ষিতে বন্ধ থাকার তিনদিন পর পুনরায় নৌপথে যাতায়াত শুরু হয়েছে। তবে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে লঞ্চের পরিবর্তে সি-ট্রাক যাত্রী সেবা চালু করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ২ টায় নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল থেকে নারায়ণগঞ্জ-মুন্সিগঞ্জ নৌপথে ‘এসটি শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত’ নামে সি-ট্রাক চলাচল শুরু হয়। প্রথম যাত্রায় ৩০ জন যাত্রী নিয়ে চলাচল শুরু করে।
সি ট্রাকের ক্যাপ্টেন (চালক ইনচার্জ) নূর হোসেন সুমন বলেন, বিআইডব্লিউটিসি’র নির্দেশে এ পথে সি-ট্রাক চলাচল শুরু হয়েছে। এই সি ট্রাকে যাত্রী ধারণ ক্ষমতা ২০০ জন। যাত্রী ভাড়া ৪০ টাকা। প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ মিনিটের মধ্যে মুন্সিগঞ্জ যেতে পারবো।
তিনি আরো বলেন, এটা সমুদ্রে চলাচলের উপযোগী। ফলে ঝুঁকি অনেক কম। নিরাপদে যাত্রীরা যেতে পারবে।
তিনি বলেন, এটা আগে বগুড়া থেকে জামালপুর নৌ পথে চলাচল করতো। তবে নদীর নব্যতা কম থাকায় বন্ধ ছিল। ফলে এখানে আনা হয়েছে। এ সি-ট্রাকে দুটি ইঞ্জিন আছে। এটা পরিচালনায় ৯ জন কর্মকর্তা রয়েছেন।
ছোট লঞ্চের পরিবর্তে সি-ট্রাক চালু হওয়ায় যাত্রীরা খুশি। তারা বলেন, আমরা নিরাপদে যেতে চাই। সেখানে সি-ট্রাক নিরাপদ।
মুন্সিগঞ্জের শিকদারকান্দি গ্রামের বাসিন্দা সিরাজ শিকদার বলেন, আমি নিয়মিত লঞ্চে যাতায়াত করি। কারণ বাসে গেলে যানজট, ধোলাবালি থাকে। তাছাড়া লঞ্চে যেতে তাড়াতাড়ি হয় এজন্য। আগের লঞ্চগুলো হেলেদুলে চলত। সেখানে এটা নিরাপদ।
তিনি বলেন, ভাড়া ৪০ টাকা হলে ঠিক আছে। তবে আধা ঘণ্টার পরিবর্তে এক ঘণ্টা হলেও সমস্যা হবে না। তার বেশি সময় নিলে যাত্রী যেতে চাইবে না।’
মো. হাসান বলেন, ‘আগের লঞ্চগুলো ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। কারণ কোনো বড় লঞ্চ বা জাহাজ গেলে নদীর ঢেউয়ে ডুবে যাওয়ার উপক্রম হতো। সেখানে এটা নিরাপদ। তাছাড়া নিরাপদ হলে যাত্রীরা এক ঘণ্টা পর পর ছাড়লেও কোনো সমস্যা হবে না।’
বিআইডব্লিউটিসি’র নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক মাসুদ কামাল বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বিআইডব্লিউটিসির সি-ট্রাক চালু করা হচ্ছে। একটি মাত্র সি-ট্রাক দিয়ে পরীক্ষামূলক চালু করা হয়েছে। তবে আগামীকাল থেকে নির্দিষ্ট সময়ে চলাচল করবে। যাত্রীদের প্রয়োজন অনুসারে এর সংখ্যা বাড়ানো হবে। ‘
তিনি আরো বলেন, আজকে মুন্সিগঞ্জ নৌপথে চলাচল শুরু হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে অন্য সবগুলো নৌ পথে সি-ট্রাক চলাচল শুরু হবে।
তিনি আরো বলেন, এ নৌপথে চলাচলকারী লঞ্চগুলো ঝুঁকিপূর্ণ। যার জন্য সি-ট্রাক চালু করা। কিন্তু এ সি-ট্রাক লঞ্চগুলোর তুলনায় নিরাপদ। লঞ্চ মালিক পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে আয় করলেও অধিক মুনাফার জন্য লঞ্চগুলো পরিবর্তন করছে না। আশা করি তারা এবার বড় লঞ্চ চালু করবে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থা নারায়ণগঞ্জ জোনের প্রেসিডেন্ট মো. বদিউজ্জামান বাদল বলেন, ‘এ সি-ট্রাক এক সপ্তাহের বেশি চলবে না। কারণ এর যাত্রী ধারণ ক্ষমতা ২০০ জন। এর জন্য এক থেকে দেড় ঘণ্টা বসে থাকতে হবে যাত্রী ফুল হওয়ার জন্য। কিন্তু যখন লঞ্চ চালিয়েছি তখন ৩০ থেকে ৪০ জন যাত্রী নিয়ে আধা ঘণ্টা পরপর ঘাট থেকে লঞ্চ ছেড়ে গেছে। অন্যথায় যাত্রীরা বিকল্প পথে চলে গেছে। ফলে এ যাত্রীরা এক দেড় ঘণ্টা বসে থাকবে না।’
তিনি বলেন, ‘এ সি-ট্রাক চলাচলে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। আমরা কোনো বিশৃঙ্খলাও করবো না। তবে আমরা এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দর থেকে মুন্সিগঞ্জ ও অন্যান্য নৌপথে চলাচলরত লঞ্চগুলির চলাচল স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করার জন্য বিআইডব্লিউটিসি’র চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করেছি।’
তিনি বলেন, লঞ্চগুলো চলাচল বন্ধ থাকলে প্রায় এক হাজার মালিক ও শ্রমিক বেকার হয়ে যাবে। তাই অবিলম্বে লঞ্চ চলাচলের জন্য আবেদন জানাচ্ছি।
লঞ্চ মালিক শ্রমিক বেকার হওয়ার বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসি নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক মাসুদ কামাল বলেন, এ বিষয়ে এখন কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে এটা নিয়ে আলোচনা করে সমাধান করা হবে।
গত ২০ মার্চ দুপুর সোয়া দুটায় সদর উপজেলার চর সৈয়দপুর কয়লাখাট এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে ‘এমভি রূপসী-৯’ নামে কার্গো জাহাজের ধাক্কায় ‘এমএল আফসার উদ্দিন’ নামে যাত্রীবাহী লঞ্চ ডুবে যায়। এতে নারী ও শিশুসহ ১০ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর দিন থেকে নারায়ণগঞ্জের ৫টি নৌপথে লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে। এ ঘোষণায় ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

