বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
বেশ কিছু দিন যাবত স্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়ে আসছে করোনা প্রকোপ ও লকডাউনে সাধারণ মানুষের পাশে নেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধরা। প্রথম বছর করোনা প্রকোপ শুরু হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বেশ সক্রিয় দেখা গেছে। কিন্তু এ বছর তার উল্টো চিত্র। অথচ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সক্রিয় হলে জনসাধারণের মাঝে সচেতনা আরো বৃদ্ধি পেত এমনটাই উঠে এসেছে স্থানীয় দৈনিক পত্রিকার প্রতিবেদন গুলোতে।
নারায়ণগঞ্জ যে কজন জনপ্রতিনিধি করোনার প্রথম ধাপে সহযোগীতা নিয়ে জনসাধারণের পাশে ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান।
সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে উনার কাছে জানতে চাওয়া হয় প্রথম বছর করোনাকালীন সময় তিনি সাহায্য সহযোগীতা নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি খানপুর ৩০০ শয্যা(কোভিড) হাসপাতালের চিকিৎস নার্স ওয়ার্ড বয়দের থাকা খাওয়া ও যাতায়াতের ব্যবস্থা করে ছিলেন। পাশাপাশি হাসপাতালে আইসিও বেড স্থাপন এবং পিসিআর ল্যাব স্থাপনে প্রয়োজনীয় কিছু সরঞ্জামাদি ব্যক্তিগত অর্থায়নে ব্যবস্থা করে দিয়ে ছিলেন। সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জের পরিবহণ সেক্টরের শ্রমিক সহ নিজ নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে চাল ডাল, তেল, শিশুখাদ্য(গুড়ো দুধ) বিতরণ করে ছিলেন। সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনা বৃদ্ধি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড এলাকায় কাউন্সিলদের মাধ্যমে সেচ্ছাসেবী নিয়োগ এবং ২০ হাজার অসহায় মানুষের প্রত্যেককে বিকাশের মাধ্যমে ৯০০ টাকা করে প্রদান করে ছিলেন।
কিন্তু এ বছর করোনার তৃতীয় ঢেউয়ে যখন দেশব্যাপী কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে নামানো হয়েছে র্যাব বিজিবি সহ সেনাবাহিনীর সদস্য এমন পরিস্থিতিতে কর্মহীন হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। সেই মুহুর্তে এমপি সেলিম ওসমান কেন নিশ্চুপ বসে আছে। গত বছরের মত এ বছরেও কেন তাঁকে আগের ভূমিকায় দেখা যাচ্ছেনা?
এমন প্রশ্নের উত্তরে এমপি সেলিম ওসমান বলেন, করোনার প্রথম পর্যায় জনপ্রতিনিধিরা ব্যবসায়ীদের সহযোগীতা পেয়েছিলেন। যা দিয়ে সাধারণ মানুষের সহযোগীতা অব্যাহত ছিলো। বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীক দুরাবস্থাতার কারণে বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের নীট ব্যবসায় যথেষ্ট অবনতি হয়েছে। প্রায় ৩০ লাখ শ্রমিকের বেতন ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা দেওয়ার জন্য শিল্পমালিকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। পাশাপাশি সাধারণ একজন দোকানদারও লকডাউনের কারনে দোকানপাট বন্ধ থাকায় ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। তবে বর্তমান সময়ে সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রতি জেলায় জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পে নানা সহযোগীতা করে আসছে। যেটা অনেক ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে দেয়া হচ্ছে না। তার জন্য দ্বিতীয় ধাপে জনমনে জনপ্রতিনিধিরা সহযোগীতা করছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সামনে নির্বাচনের কোন সময় সূচী না থাকলেও নির্বাচন নিয়ে অনেকেই বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি করছেন। এটাকে আমি অপরাজনীতি বলে আখ্যায়িত করবো। যিনি জনপ্রতিনিধি আছে তার সময়সীমা অনুযায়ী নির্বাচনের চিন্তা করে জনসেবায় নিয়োজিত থাকতে বিশেষ ভাবে অনুরোধ করছি। যারা বিভিন্ন দল থেকে মার্কা নিয়ে নির্বাচন করতে চান তাদের প্রতি আমার অনুরোধ জনগনকে ভালবাসেন জনগনের ভালবাসা আদায় করেন এতে করে আপনি নির্বাচনে সুফল পাবেন। আমি কারো নির্বাচনের জন্য কোন প্রকার সহযোগীতা বা আশ্বস্ত করতে পারবো না। সময় কথা বলবে। গত ১৫ মাসে আমরা অনেককে হারিয়েছি। আগামী দিন গুলোতে কে থাকবে আর কে থাকবে না তা বলা যাচ্ছে না। তাই স্থানীয় সকল জনপ্রতিনিধির প্রতি আমার অনুরোধ নির্বাচন নয় জনসেবায় নিজেদের নিয়োজিত রাখুন।
করোনা কালীন সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো বন্ধ থাকা এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত ও তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের বেতন ফ্রি করে দেওয়া শামসুজ্জোহা এমবি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতন আদায়ের প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, একটি সময় আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগে শামসুজ্জোহা এমবি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়, শেখ জামাল উচ্চ বিদ্যালয় ও নাগিনা জোহা উচ্চ বিদ্যালয় এই তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বেতন ফ্রি করে দেওয়া হয়েছিল। আমার নিজস্ব অর্থায়নে স্কুলের শিক্ষকদের বেতন প্রদান করতাম। গত কয়েকমাস ধরে স্কুল গুলোর পরিচালনা কমিটির সাথে আলোচনা করে আমার পক্ষে এই পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের বেতন দেওয়া সম্ভব হয়নি। প্রতিটি স্কুলে সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। সম্প্রতি কালে এ দুর্যোগ অবস্থায় অটো প্রমোশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এমন সিদ্ধান্ত হলেও ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা যেন কম না হয় সেজন্য স্কুল রেজিস্ট্রেশন প্রয়োজন। এক্ষেত্রে গ্রামে অবস্থিত শিক্ষার্থীদের জন্য সব স্কুলে অনলাইনে ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়নি সেকারনে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও সংসদ টেলিভিশনের সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিশেষ ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাদের রেজিস্ট্র্রেশন থাকবেনা তাদের অটো প্রমোশনও থাকবে না। সুতরাং শুধু বেতন সংগ্রহ করলেই হবেনা। শিক্ষামন্ত্রনালয় ও শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী ভবিষ্যত প্রজন্মেকে তৈরী করে নিতে হবে। আমি বারবার অনুরোধ করেছি প্রতিটি স্কুলের ভবনে ছাদ বাগান এবং স্কুলের খালি জায়গায় পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষক মন্ডলীর মাধ্যমে কিছু আয়ের উৎস খুজে বের করতে। এ ব্যাপারে কোন স্কুল পরিচালনা কমিটি যদি আমার সাথে আলোচনা করতে চায় তাহলে আমি আলোচনা করতে প্রস্তুত আছি।
অনলাইন মিডিয়ায় সম্পৃক্ত সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ রেখে তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে যে কটা অনলাইন মিডিয়া চলছে তাদের কাছে আমার অনুরোধ তারা যদি স্কুল পর্যায়ে কোন সহযোগীতা করতে পারেন স্কুলের ক্লাস গুলোকে যদি অনলাইনে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন তাহলে বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে।মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী করোনা টিকা বৃহৎ অংশকে দেওয়া সম্পন্ন হলে স্কুল খুলে দেওয়া হবে আমরা জানতে পেরেছি। তত সময় পর্যন্ত টিকার রেজিস্ট্রেশন এবং টিকা না নেওয়া পর্যন্ত মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ করছি।
জন দুর্ভোগের কারণ ব্যাখা দিয়ে সহযোগীতা চাইলেন এমপি সেলিম ওসমান
বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
বর্তমান সময়ে অতি বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা। বন্দরের বেশ কিছু এলাকায় জনসাধারণের যাতায়াতের রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে সৃষ্ট দুভোর্গ এবং সমস্যা নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের ব্যাপারে জানতে চেয়ে এমপি সেলিম ওসমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিকদের তিনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন যতটা হওয়ার কথা ততটা হচ্ছেনা। বিভিন্ন জায়গায় কাজের টেন্ডার হওয়া সত্যেও ঠিকাদার কাজ শুরু করার পরও আর্থিক সংকটের কারনে বিল প্রদান করা হচ্ছেনা। অতি বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট যা ছিল তারও অবনতি হয়েছে। সাধারণ মানুষের চলাফেরায় অসুবিধা সৃষ্টি হয়েছে। পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ, এটা অস্বীকার করার কোন সযোগ নাই। এটা শুধু বন্দর নয় এটা এখন সারাদেশে জাতীয় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
তবে এটা সত্য যে বন্দর এলাকায় জলাবদ্ধতা না হলেও যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলে বৃষ্টি পানিতে পরিবেশ দূষণ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধিবৃন্দ এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিশেষ ভাবে অনুরোধ করা হলো। আর এ কাজে অবশ্যই উপজেলা পরিষদ ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন সর্বাত্ম সহযোগীতা করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। সামনে কোরবানীর ঈদ আসছে। পরিবেশ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যবস্থা এখনই না করলে করোনার পাশাপাশি অন্যান্য রোগব্যাধিও বৃদ্ধি পাবে। এই কাজ গুলো অবশ্যই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের।
এছাড়াও বন্দরে পেশি শক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন খাল ভরাট করে বা খালের স্বাভাবিক গতিবিধিতে বাধার সৃষ্টি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ইতোমধ্যে উপজেলা পরিষদকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আমার পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে। যে সমস্ত এলাকায় খাল খনন এবং উন্নয়ন করা যাবে তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অনুরোধ করা হয়েছে। এ কাজের জন্য আমি বন্দরের সকল সরকারী কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার সার্বিক সহযোগীতা কামনা ক

