বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান বলেছেন, আগামী রোববার পর্যন্ত সময় দাও। তারপর তোমাদের দাবি মানা হবে। না হলে আমি তোমাদের সাথে আন্দোনে নামবো। তার কথায় সমাঝোত সভায় থাকা শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করেন।
শুক্রবার জুম্মার পর নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমান নগরীর চাষাঢ়া খাজা সুপার মার্কেটের সামনে এসে কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলন নিয়ে সমঝোতা সভা করে।
শামীম ওসামান বলেন, ‘গত পাঁচ দিন ধরে নারায়ণগঞ্জের ছাত্ররা যেভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে এসেছে তা দেখে আমি অভিভূত। তোমরা সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন চালকদের গাড়ি আটকিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দেখিয়ে দিয়েছে ছাত্রসমাজ জেগে উঠলে সবই পারে। আমি তোমাদের এই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করছি। আমি কথা দিচ্ছি তোমরা যেভাবে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার দাবিতে কাজ করছো, নারায়ণগঞ্জের ট্রাফিক পুলিশ সেভাবে দায়িত্ব পালন করবে। আজ থেকে তোমরা তোমাদের আন্দোলন রবিবার বিকাল পর্যন্ত স্থগিত করে দেখো পুলিশ তাদের সেই দায়িত্ব পালন করে কিনা। যদি তারা সেই দায়িত্ব পালন না করে, রবিবার দুপুরের পর তোমাদের সঙ্গে আমি নিজে মাঠে নামবো।’
এ সময় ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী মাহাথির মাহামুদ অর্ক ছাত্রদের পক্ষ থেকে শামীম ওসমানের হাতে লাইসেন্সবিহীন গাড়ির চাবির ছোড়া তুলে দেয়। যা সদর থানার পুলিশের হাতে হস্তান্তার করা হয়।পরে শামীম ওসমান বলেন, এই চাবি গুলো সদর মডেল থানা ওসির কাছে থাকবে। সেখান থেকে গাড়ি মালিকরা তাদের কাগজপত্র দেখিয়ে চাবি সংগ্রহ করবে।
ওই ছাত্রনেতা মাহাথির মাহামুদ বলেন, ‘‘আগামী রোববার পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন স্থগিত করলাম। তোমরা সবাই বাসায় ফিরে যাও। দাবি আদায় না হলে আবার রাজপথে নামব।’’
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা সকলে মিলে একটা সিদ্ধান্ত নেও শহরের কোন কোন স্থানে ফুটওভার ব্রিজ, স্পিড ব্রেকার প্রয়োজন। আর কি কি প্রয়োজন সেসব তোমরা তোলারাম কলেজ, মহিলা কলেজ ও অন্যান্য কলেজের শিক্ষার্থীরা মিলে তালিকা করো তারপর সোমবার তা জমা দাও। আপাতত আন্দোলন স্থগিত রাখো। তোমরা বাড়ি যাও। মা-বাবার কাছ থেকে দোয়া নাও। এসময় তিনি আন্দোলন শিক্ষার্থীদের বাড়ি ফিরে যাবার অনুরোধ জানিয়ে ঢাকার কুর্মিটোলায় বাস চাপায় নিহত দুই শিক্ষার্থীর জন্য উপস্থিত সকলকে নিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করেন। এরপরই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা রাস্তা ছেড়ে জয় বাংলা শ্লোগান দিয়ে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে বাড়ি ফিরে যায়।এদিকে এমপি শামীম ওসমান বলেন, আমি দেশের বাইরে ছিলাম। আজই ফিরে এসেছি। ফিরে এসে দেখি কোমলমতি শিক্ষার্থীরা রাস্তায় ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করছে। অবর্ননীয় কষ্ট করছে তারা। তাদের এ অবস্থা দেখে একজন পিতা হিসেবে আমি কষ্ট পেয়েছি। যা করার কথা প্রশাসনের তা তারা করছে। তাই ওদের প্রতি সহানুভুতি ও ভালবাসার অনুভুতি থেকে প্রশাসনকে ছাত্রদের মত করে শৃঙ্খলা বজায় রাখায় নির্দেশ দিয়েছি।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম জানান, দুপুরে শামীম ওসমানের আহ্বানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা যেসব গাড়ির চাবি নিয়েছিল তা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে রাস্তা থেকে চলে গিয়েছে। তবে বিকালে কিছু শিক্ষার্থী আবার মাঠে নেমেছে। আমারা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি। সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষায় ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি থানা পুলিশও কাজ করছে।
