বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে মহানগর বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেল ৩ টায় কালিবাজারস্থ মহানগর বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয়ে এই আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সাংসদ এড. আবুল কালাম বলেন, বাঙ্গালী জাতির উচিৎ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালনের পাশাপাশি গনতন্ত্র হত্যা দিবস পালন করা। কারন তৎকালীন বাকশালী সরকারের আমলেই পাকিস্তানীরা বুদ্ধি জীবীদের হত্যা করেছে। শুধু তাই নয় বুদ্ধিজীবীরা বুকের তাঁজা রক্ত দিয়ে ছিলো বাঙ্গালী জাতিকে একটি স্বাধীন দেশ উপহার দেয়ার জন্য। কিন্তু এই অবৈধ সরকার মানুষের স্বাধীনতাকে হরন করে নিয়ে দেশের গনতন্ত্রকে হত্যা করেছে।
এ সময় তিনি আরও বলেন, ২৫ শে মার্চ ছিলো বাঙ্গালী জাতির স্বাধীনতার ইতিহাস এর আগে যা ঘটেছে তা সবই পাকিস্থানের ইতিহাস। ৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর যখন মুক্তিযুদ্ধাদের কাছে পাকিস্তানীরা পরাস্থ হচ্ছিলো, ঠিক তখনি বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা’কে থামিয়ে দেয়ার জন্য পাকিস্তানীরা বুদ্ধি জীবীদের হত্যা করেছে। শুধু তাই নয় সেই বুদ্ধি জীবী হত্যার নিল নকশা এখনো বাস্তবায়িত হচ্ছে এই অবৈধ সরকারের আমলে। যারা বিএনপি ব্যানারে থেকে দেশের উন্নয়নের অগ্রগতির জন্য বিচক্ষনতার পরিচয় দিয়ে আসছিলো গুম, খুন, হত্যা, নির্যাতনের মাধ্যমে দেশকে বুদ্ধিহীন করার চেষ্টায় তাদেরকে নিশ্চিহ্ন করেছে আওয়ামী সরকার। এই সরকারের শাসন আমলে মানুষ তাদের বাক-স্বাধীনতা, মৌলিক চাহিদা, ভোটাধিকার ও গনতন্ত হারিয়ে ফেলেছে। যেমন ছিলো ৭১ থেকে ৭৫ সাল পর্যন্ত। ৭১ সালের আজক্রে এই দিনে যে সকল বুদ্ধি জীবীরা বুকের তাজাঁ রক্ত দিয়েছে আমরা তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করছি। পাশা পাশি তাদের রেখে যাওয়া দেশের মানুষের গনতন্ত্রকে রক্ষার জন্য আগামী দিনে দলের নেতাকর্মীদেরকে রাজপথে থাকার আহবান জানাছি।
মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল বলেন, বুদ্ধি জীবীরা প্রাণ দিয়েছে তৎকালীন সরকারের ভুলের কারনে। ২৫ মার্চ রাতে যখন পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীরা ঢাকায় নিরশ্র মানুষের উপর যাপিয়ে পরে ছিলো। ঠিক তখনি সরকারের উচিৎ ছিলো বুদ্ধি জীবীদের ঢাকা থেকে সরিয়ে নেয়া। সেই সাথে তাদের বুদ্ধিগুলো মুক্তিযুদ্ধে কাজে লাগানো। কিন্তু সেটা তারা না করে নিজের জীবন বাচাঁনোর জন্য পাকিস্তানীদের কাছে আত্মসর্পণ করেছে। যুদ্ধকালীন সময় অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি তাজু উদ্দিন আহম্মেদ শেখ মুজিবের বাসায় গিয়ে ছিলো একটি টেপ-রেকোডার নিয়ে। তখন মুজিবকে বলেছিলো আপনি এই রেকডারে স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষনা দিয়েদেন আমি সেটা প্রচার করে দিচ্ছি। তখন শেখ মুজিব বলেছিলো তুমি কি আমাকে দেশদ্রোহীতার অপরাধে জীবন দিতে বলছো। আমি এই ঘোষনা দেয়ার পর পরই পাকিস্তানীরা আমাকে মেড়ে ফেলবে।
অপরদিকে তার মেয়ের জামাতা ওয়াজেদ সাহেব তার লেখা বইয়ে উল্লেখ্য করেছেন, আমার শশুর তার স্ত্রীকে বলেন ওরা আমাকে নিতে আসবে কাপরগুলো সব ব্যাগে গুছিয়ে দাও আর পাইপটা দিতে ভুলো না। তিনি দেশ বাসীর কথা চিন্তা না করেই নিজের জীবন বাচাঁনোর জন্য পাকিস্তানীদের কাছে আত্মসর্মপন করেছেন। এই আওয়ামী সরকার সব সময়ই দেশবাসীর সাথে বৈঈমানী করেছে এবং এখনও করছে। দেশের মানুষের স্বাধীনতাকে ফিরিয়ে আনতে হলে জেল জুলুমের অত্যাচার উপেক্ষা করে। এই অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে আরেকটি যুদ্ধ ঘোষনা করতে হবে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আগামীতে আমরা সকলে সেই যুদ্ধে যাপিয়ে পরবো।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি ফখরুল ইসলাম মজনু, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সবুর খান সেন্টু, মহানগর বিএনপি’র উপদেষ্টা এড. রফিক আহম্মেদ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মনিরুল ইসলাম সজল, কোষাধক্ষ মনিরুজ্জামান মনির, মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম-আহবায়ক আবুল কাউছার আশা, বিএনপি নেতা এড. আব্দুল মতিন, আনোয়ার হোসেন আনু, মহানগর শ্রমিক দলের সদস্য সচিব আলী আজগর, শ্রমিক দল নেতা দুলাল হোসেন, স্বেচ্ছা সেবক দল নেতা মাকিদ মোস্তাকিম শিপলু।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, মহানগর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক হান্নান সরকার, বিএনপি নেতা মনির হোসেন, সুলতান আহম্মেদ, নজরুল ইসলাম, তাহের আলী, মহানগর যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক সরকার আলম, যুবদল নেতা নাজমুল হক রানা, নাছির, সাগর, মহানগর শ্রমিকদ দল নেতা নুর মুহাম্মদ, আজিম সরকাদর, কামাল মোল্লা, স্বেচ্ছা সেবক দল নেতা আব্দুর রশিদ হাওলাদার, মহানগর ছাত্র দল নেতা মহানগর ছাত্রদল নেতা আরাফাত চৌধুরী, মেহেদী হাছান, শফিকুল ইসলাম, আব্দুল হাসিব, শাহীন শরিফ, দর্পন প্রধান, মোক্তাধির হোসাইন হৃদয়, সোহেল, পাপ্পু সহ বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা। আলোচনা শেষে তৎকালীন সময় নিহত বুদ্ধি জীবীদের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া করা হয়।

