বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আসন্ন মহাষ্টমী পূর্ণ্যস্নাননোৎসব সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য গত বছরের ন্যায় এ বছরেও বেশ গুরুত্ব সহকারে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে জেলা প্রশাসন। অনুষ্ঠান স্থলে র্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের মাধ্যমে থাকবে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এছাড়াও প্রতিটি স্নানঘাটে থাকবে পরিচয়পত্র ধারী সেচ্ছাসেবী কর্মী। পুরো ¯œান এলাকা প্রশাসনিক ভাবে মনিটরিং করার জন্য বসানো হবে সিসি টিভি ক্যামেরা ও সাউন্ড সিস্টেম। পাশাপাশি থাকবে ভ্রাম্যমান আদালতের দুটি দল। উৎসব স্থলে কোন প্রকার মাদক গ্রহণ, ইভটিজিং সহ আইনশৃঙ্খলায় ব্যাঘাত ঘটে এবং তীর্থের পবিত্রতা নষ্ট করে এমন ঘটনা নজরে আসলে সাথে সাথে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিকে সাজা প্রদান করা হবে বলে কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
সোমবার ২৭ মার্চ বেলা ১১টায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে লাঙ্গলবন্দ ¯œান উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দদের সাথে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাতের প্রস্তুতি মূলক সভায় এসব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান।
সভায় সর্বসম্মতি ক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় লাঙ্গলবন্দ স্নান উদযাপন ঘাট এলাকার ২ কিলোমিটার জুড়ে ব্রহ্মপুত্র নদের কচুরিপানা সম্পূর্নভাবে সরিয়ে ফেলা হবে। নদের মধ্যে কোন প্রকার দূর্ঘটনা এড়াতে কোষ্টগার্ডের পক্ষ থেকে দুটি জাহাজ সার্বক্ষনিক ব্রহ্মপুত্র নদে টহলরত থাকবে। বসানো হবে পুলিশের ওয়াচ টাওয়ার। অসুস্থ্য হয়ে পরা পূণ্যার্থীদের জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদানে ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্ব ও পশ্চিমপাড় অর্থ্যাৎ বন্দর এবং সোনারগাঁও উপজেলা এলাকায় থাকবে মেডিকেল ক্যাম্প। অসুস্থ্য ব্যক্তিদের চিকিৎসা দিতে মেডিকেল ক্যাম্পে যাতায়াতের জন্য রাখা হবে ৮টি অ্যাম্বুলেন্স। থাকবে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। পূণ্যার্থীদের প্রসাদ বিরতনের জন্য থাকবে ১৫টি সেবা ক্যাম্প। থাকবে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও মোবাইল টয়লেটের সুব্যবস্থা। ¯œানের পরে নারী পূণ্যার্থীদের পোশাক পরিবর্তনের জন্য সুব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
চুড়ান্ত প্রস্তুতিমূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান বলেন, আগামী ৩ ও ৪ এপ্রিল হিন্দুধর্মাবলম্বীদের লাঙ্গলবন্দ পূর্ণ্য ¯œান অনুষ্ঠিত হবে। আমি সম্পূর্ন ভাবে আশাবাদী গত বছরের ন্যায় এ বছরও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে স্নান উৎসব সম্পন্ন হবে। সকলের প্রতি আহবান রাখবো বন্দরের হিন্দু, মুসলিম, আওয়ামীলীগ, জাতীয় পার্টি, বিএনপি, সকল জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা সহ হিন্দু নেতৃবৃন্দ সকলে সম্মিলিতভাবে কাজ করে উৎসবটি আনন্দ উদ্দীপনা ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করবেন। আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রীর স্লোগান ধর্ম যার যারা উৎসব সবার। তাই আপনারা ধর্মীয় ভাবগম্ভীর্য অখুন্ন রেখে উৎসবটি সম্পন্ন করবেন। উৎসবের সময় আমি ওমরা হজ্জ পালনরত অবস্থায় সৌদিআরবে থাকবো। তাই সকলকে অগ্রিম শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রাব্বি মিয়ার সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) জসিম উদ্দিন, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, জেলা পরিষদের সদস্য আবুল জাহের, বন্দর উপজেলার নির্বার্হী কর্মকর্তা(ইউএনও) মৌসুমী হাবিব, বন্দর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম, মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন, কলাগাছিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন প্রধান, বন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন, ধামগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাসুম আহম্মেদ, লাঙ্গলবন্দ ¯œান উদযাপন পরিষদের আহবায়ক সরজ কুমার সাহা, শংকর সাহা, বাসুদেব চক্রবর্তী, পূজা উদযাপন পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক সুজন সাহা, মহানগর শাখার সভাপতি দিপক সাহা, সাধারণ সম্পাদক শিপন সরকার শিখন, সদর উপজেলার সাধারণ সম্পাদক রঞ্জিত ম-ল সহ কোষ্টগার্ড, ফায়ারসার্ভিস, বিআইডব্লিউটিএ সহ সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দরা।

