বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনকে বাণিজ্য সংগঠন হিসেবে লাইসেন্স দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২-এর ৩ ধারা অনুযায়ী সংগঠনটিকে দেওয়া এ লাইসেন্সের নম্বর ১১/২০২৬।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগের মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে লাইসেন্স গ্রহণ করেন সংগঠনের সভাপতি আলহাজ মোহাম্মদ সোহাগ ও সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ ময়নুদ্দিন মাসুদ।
টি.ও. বা ট্রেড অর্গানাইজেশন (বাণিজ্য সংগঠন) লাইসেন্স হলো সরকারের অনুমোদিত এমন একটি স্বীকৃতি, যার মাধ্যমে কোনো ব্যবসায়ী বা শিল্পসংশ্লিষ্ট সংগঠন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী শ্রেণি ও শিল্পের প্রতিনিধিত্ব করার সাংগঠনিক বৈধতা পায়। এর ফলে ফ্লাওয়ার মিল মালিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ, শিল্পের বিভিন্ন সমস্যা সরকারের কাছে তুলে ধরা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংগঠিতভাবে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের লাইসেন্সে বলা হয়েছে, ফ্লাওয়ার মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ নামে সংগঠনটি একটি সাধারণ উদ্দেশ্য সাধন এবং এর অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী শ্রেণির প্রতিনিধিত্বের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ বিবেচনায় বাণিজ্য সংগঠন আইন, ২০২২-এর ৩ ধারা অনুযায়ী সংগঠনটিকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।
লাইসেন্স পাওয়ার পর সংগঠনের নেতারা এ অর্জনকে দেশের ফ্লাওয়ার মিল মালিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল হিসেবে উল্লেখ করেন। তারা দেশের সব ফ্লাওয়ার মিল মালিককে অভিনন্দন জানান এবং যারা এখনো সংগঠনের সদস্য হননি, তাদের সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
সংগঠনের সভাপতি আলহাজ মোহাম্মদ সোহাগ ও সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ ময়নুদ্দিন মাসুদ বলেন, এই স্বীকৃতি শুধু সংগঠনের নয়, দেশের সব ফ্লাওয়ার মিলারের সম্মিলিত অর্জন। এর মাধ্যমে ফ্লাওয়ার মিল শিল্পের উন্নয়ন, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং শিল্পসংশ্লিষ্ট সমস্যা সমাধানে সংগঠন আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী, লাইসেন্স পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে সংগঠনটিকে যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরে (আরজেএসসি) সীমিত দায়সহ নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। তবে সংগঠনের নামের সঙ্গে ‘লিমিটেড’ শব্দ ব্যবহার করা যাবে না।
আরজেএসসি নিবন্ধনের পর নিবন্ধক কর্তৃক সত্যায়িত সংঘস্মারক, সংঘবিধি ও নিবন্ধন প্রত্যয়নপত্রের কপি বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগে জমা দিতে হবে। সংগঠনকে একটি স্থায়ী কার্যালয়ও প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী, নিবন্ধনের পর এক মাসের কম এবং তিন মাসের বেশি নয়—এমন সময়ের মধ্যে সংগঠনের প্রথম সাধারণ সভা করতে হবে। এরপর ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ নির্বাহী কমিটি গঠন করতে হবে।
এ ছাড়া সরকার প্রয়োজনে সংগঠনের অনুমোদিত সংঘস্মারক ও সংঘবিধিতে সংশোধন বা পরিবর্তনের নির্দেশ দিতে পারবে। বাণিজ্য সংগঠন আইন, বিধিমালা বা লাইসেন্সের শর্ত লঙ্ঘন করলে সংগঠনের লাইসেন্স বা নিবন্ধনের কার্যকারিতা বাতিল হতে পারে।
সংগঠনটি সরকার, জনস্বার্থ বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারবে না এবং সরকার সময় সময় যে শর্ত ও বিধিবিধান আরোপ করবে, তা পালন করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট ফ্লাওয়ার মিল মালিকেরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার পর এই লাইসেন্স অর্জনের মাধ্যমে দেশের ফ্লাওয়ার মিল শিল্পে একটি প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংগঠনিক ভিত্তি তৈরি হলো। ভবিষ্যতে এ সংগঠন শিল্পের বিভিন্ন সমস্যা ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় সরকারের কাছে তুলে ধরতে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।
