বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
র্যাব-১১ এর অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, দেশীয় অস্ত্র সহ দুই ডাকাতকে আটক করা হয়েছে।
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া এলাকা থেকে ০২ জন ডাকাত গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত ল্যাপটপ, পাসপোর্ট ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি উদ্ধার করেন র্যাব-১১।
র্যাব-১১ এর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ০১ মার্চ ২০১৮ তারিখ দিবাগত গভীর রাতে কুমিল্লা ইপিজেড এর একটি ফ্যাক্টরীর দুইজন কর্মকর্তা শ্রীলংকার নাগরিক চিনতাকা প্রসাদ ও রাজি সুসান্ত কুমারাদ্বয়কে নিয়ে প্রাইভেটকার যোগে চালক মোঃ রোকন উদ্দিন কুমিল্লা ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। আনুমানিক রাত ২টায় মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া থানাধীন ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের উপর আনারপুরার আধুনিক পেপার মিলের সামনে যানজটের কবলে পড়ে। এ সময় রাস্তার পাশে ওৎপেতে থাকা একদল ডাকাত উক্ত গাড়িতে হামলা চালায়। ডাকাত দল শ্রীলংকার ২ জন নগারিককে মারধর করে হত্যার হুমকি দিয়ে তাদের সবকিছু লুট করে নিয়ে যায়। লুণ্ঠিত মালামালের মধ্যে ২টি ব্যাগ, ২টি ল্যাপটপ, ৫টি মোবাইল, ২টি শ্রীলংকান পাসপোর্ট, ১টি কম্পিউটার হার্ডডিক্স, ২টি শ্রীলংকার ন্যাশনাল আইডি কার্ড, ২টি শ্রীলংকান ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং ২টি কাপড়ের বড় লাগেজ ছিল বলে জানা যায়। উক্ত ঘটনায় মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানায় একটি মামলা (যার মামলা নং-০২ তারিখ ০৩ মার্চ ২০১৮ ধারা-৩৯২ দঃ বিঃ) দায়ের করা হয়। উল্লেখিত ঘটনায় গজারিয়া থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা অধিনায়ক র্যাব-১১, আদমজীনগর, নারায়ণগঞ্জ এর নিকট আইনী সহায়তা ও উল্লেখিত মালামাল উদ্ধারের নিমিত্তে লিখিত আবেদন করলে মহাসড়কে টহল ও ডাকাতির ঘটনায় জড়িত দুস্কৃতীকারী দলের সদস্যদের গ্রেফতারে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় র্যাবের টহল জোরদার ও গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়।এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ মার্চ ২০১৮ তারিখ রাতে র্যাব-১১ এর দুইটি টহল দল ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁ থানাধীন মোগড়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থানকালে জানতে পারে যে, মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া থানাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আনারপুর এলাকায় ১৪/১৫ জনের একটি ডাকাত দল সংঘবদ্ধ হয়ে মহাসড়কে ডাকাতি করার প্রস্তুতি গ্রহন করছে। তাৎক্ষণিকভাবে সিনিঃ এএসপি মোঃ জসিম উদ্দীন চৌধুরী, পিপিএম এর নেতৃত্বে এএসপি শাহ্ মোঃ মশিউর রহমান, পিপিএম ও এএসপি মোঃ নাজমুল হাসান এবং সংগীয় ফোর্সসহ র্যাব-১১ এর টহল দল ঘটনার সত্যতা ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের নিমিত্তে ০৫ মার্চ ২০১৮ তারিখ আনুমানিক ০৩২০ ঘটিকার সময় অভিযান পরিচালনা করে উক্ত ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য ক। মোঃ আলামিন (২৬), পিতা-ইসলাম ফকির, সাং-লক্ষীপুর, মধ্যমপাড়া, থানা-গজারিয়া, জেলা-মু›িসগঞ্জ এবং খ। মোঃ শামীম হোসেন@শামীম@চাঁন বাদশা (২১), পিতা-শহিদুল্লাহ ব্যাপারী@শহিদ, সাং-দিঘীরপাড়া, থানা-দাউদকান্দি, জেলা-কুমিল্লা, এ/পি-ইসাপাড়া, সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জদ্বয়কে গ্রেফতার করে। এ সময় র্যাবের উপস্থিতি বুঝতে পেরে ডাকাত দলের আনুমানিক ১২/১৩ জন সদস্যরা কৌশলে পালিয়ে যায়। গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়ের নিকট হতে ০১ টি দেশীয় তৈরী একনলা বন্দুক, ০৫ রাউন্ড কার্তুজ, ০১ টি চাইনিজ কুড়াল, ০১ টি চাপাতি, ০১ টি ছোরা, ০১ টি লোহার পাইপ এবং ০১ টি মোবাইল উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রদত্ত তথ্যে জানা যায় যে, তারা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। দীর্ঘদিন দিন ধরে তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাদের সহযোগীদের নিয়ে ডাকাতি করে আসছে। অদ্য ০৫ মার্চ ২০১৮ তারিখ তারা মহাসড়কে গাড়িতে ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে সংঘটিত হয়েছিল। গ্রেফতারকৃত আসামীদের প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে সোনারগাঁ থানাধীন বন্দেরা গ্রাম তাদের ভাড়াকরা বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ০২ টি ল্যাপটপ, ০১ টি পাসপোর্ট, ০৩ টি সোনার আংটি, ০৪ টি এটিএম/ভিসা কার্ড, ০১ টি এনআইডি কার্ড ও ০১ কলেজের পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায় যে, ল্যাপটপসহ অধিকাংশই গত ০২ মার্চ ২০১৮ তারিখে শ্রীলংকান নাগরিকদের নিকট হতে লুণ্ঠিত মালামাল এবং বাকীগুলো অন্যান্য সময়ে লুণ্ঠিত মালামাল। গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

