বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন খুলশী থানার নাছিরাবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে আছমা বেগম হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামী শাহা (৫৫) কে গ্রেফতার করেছে নারায়ণগঞ্জের অবস্থিত র্যাব-১১ সদস্যরা। শুক্রবার সকালে র্যাব-১১’র সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ সম্রাট তালুকদার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান। এর আগে বৃহস্পতিবার অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব জানায়, ১৯৯৫ সালের ৩১ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানার বাসিন্দা ভিকটিম আছমা বেগম (১৮) ভাপা পিঠা খেয়ে মৃত্যু হলে আড়াইহাজার থানায় একটা অপমৃত্যু দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে মামলাটি সিআইডি কর্তৃক তদন্তকালে ভিকটিমের ভিসেরায় বিষের অস্তিত্ব পাওয়া গেলে ভিকটিমের বোন বাদী হয়ে দুজনের নাম উল্লেখ করে আড়াইহাজার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। উল্লেখ্য যে, ঘটনার আরো কিছুদিন পূর্বে ভিকটিম তার স্বামীর বাড়ি হতে নিজ পিতার বাড়িতে আসার পথে ১ নং অভিযুক্ত আসামী রুস্তম আলী ভিকটিমকে জোরপূর্বক চট্টগ্রামে নিয়ে যায় এবং বিয়ে করে বলে জানা যায়। পরবর্তীতে ভিকটিম মারা যাওয়ার কিছুদিন পূর্বে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে তাকে তালাকনামা নেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পূর্ব শক্রতার জের ধরে রুস্তম এবং তার বন্ধু শাহা পরিকল্পিতভাবে ভাপা পিঠার সাথে বিষ মিশিয়ে ভিকটিমকে হত্যা করে। উক্ত দুই আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত ২০১৭ সালের ৪ জানুয়ারি উভয়কে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করেন।
র্যাব আরো জানায়, আসামীর স্বীকারোক্তি মতে জানা যায়, ঘটনার পর থেকে আসামী নিজ এলাকা ত্যাগ করে এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটনের খুলশী থানাধীন নাছিরাবাদ এলাকায় তার আপন বড় বোনের ভাড়াটিয়া বাসায় আনুমানিক ২০ বছর পলাতক থাকে। পরে যখন নিম্ন আদালত কর্তৃক যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হয় তখন সে কোর্টে আত্মসমর্পণ করে এবং ১ বছর ১১ মাস জেল খাটে। দন্ড প্রাপ্তরা নিম্ন আদালতের রায় চ্যালেঞ্জ করে আপীল করলে সুপ্রীমকোর্ট ২০১৯ সালে নিম্ন আদালতের সাজা বহাল রাখেন। এর মধ্যে জামিনে বের হয়ে গ্রেফতারকৃত আসামী আবারও আত্মগোপনে চলে যায়। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটনের খুলশী থানাধীন নাছিরাবাদ এলাকা হতে উক্ত আসামীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীকে আড়াইহাজার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র্যাব জানায়।

