বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, নারায়ণগঞ্জ জেলার শিক্ষা সংস্কৃতি উপ-পরিষদের উদ্যোগে রোকেয়া দিবস উপলক্ষে “সুলতানার স্বপ্ন” নিয়ে এক আলোচনা সভা জেলা সভাপতি রীনা আহমেদের সভাপতিত্বে শুক্রবার ৭ নভেম্বর সকালে নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে অনুষ্ঠিত হয়।
এবছর আগষ্ট থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সারা দেশব্যাপী রোকেয়া দিবস উপলক্ষে নানা কর্মসূচি পালন করছে। নারায়ণগঞ্জ জেলাও বেগম রোকেয়ার জীবনী নিয়ে আলোচনা সভা, তাঁর বিখ্যাত লেখনি “সুলতানার স্বপ্ন” নিয়ে বিশেষ আলোচনা সভা, পাঠচক্র, রচনা প্রতিযোগিতা, সাইকেল রান, পত্রিকায় লেখা প্রকাশসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজকের এই অনুষ্ঠান।
বক্তারা বলেন- বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন নারী জাগরণ ও নারী শিক্ষার অগ্রদূত। তাঁর জন্ম না হলে এই উপমহাদেশে নারী জাগরণ তথা সামাজিক উন্নয়ন ঘটতে আরো সময় লাগতো। বেগম রোকেয়া ছিলেন একাধারে বাঙালি লেখক, সমাজ সংস্কারক এবং নারী জাগরণের অগ্রদূত। তার জন্ম ও শৈশব কাটে রংপুর জেলার পায়রাবন্দ গ্রামে এবং তিনি নারীশিক্ষা, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মুসলিম নারীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁর বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম ‘সুলতানার স্বপ্ন’।
বেগম রোকেয়ার ‘সুলতানার স্বপ্ন’ একটি নারীবাদী কল্পকাহিনী, যেখানে একটি নারীদের রাজ্য ‘লেডিল্যান্ড’-এর কথা বলা হয়েছে, যেখানে নারীরা সমাজের সমস্ত ক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে এবং পুরুষরা গৃহে থেকে আত্ম উপলব্ধি করবেন। এই কল্পরাজ্যে নারীরা বিমান চালায়, লেখাপড়া করে, দেশ পরিচালনা করে এবং তাদের মস্তিষ্কশক্তি দিয়ে পুরুষদের অস্ত্রের উপর আধিপত্য বিস্তার করে, যা নারীর ক্ষমতায়নের একটি স্বপ্নালু চিত্র তুলে ধরে।
এই গল্পে একটি কাল্পনিক রাজ্য ‘লেডিল্যান্ড’-এর বর্ণনা করা হয়েছে, যেখানে নারীরাই শাসক, বিজ্ঞানী এবং চালক। আসলে সেই সময় পুরুষতান্ত্রিকতা নারী সমাজকে গৃহবন্দি করে রেখেছিল। মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়া বুঝেছিলেন- নারীকে বাদ দিয়ে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র উন্নত হতে পারে না। নারী ও পুরুষ উভয়েই শিক্ষা লাভ করে মিলেমিশে কাজ করলে একটি জাতি একটি রাষ্ট্র উন্নত হবে। তাই তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে সুলতানার স্বপ্নে সেই সময়ের অবস্থা তুলে ধরেছিলেন।
অত্যন্ত গুরুগম্ভীর এবং আনন্দময় পরিবেশে সুলতানার স্বপ্ন নিয়ে আলোচনা করেন, নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ’র উপাধ্যক্ষ সাবেরা তাহমিন, বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক কোহিনুর পারভীন, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি আনজুমান আরা আকসির, জেলা সাধারণ সম্পাদক রহিমা খাতুন।
এছাড়া বি.এ (অনার্স), বি.এ ডিগ্রি ও উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীর ছাত্রীদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন ঋদ্ধি রানী, নুসরাত মনি, ফাহিমা মুন, সাদিকা ইসলাম, রোকেয়া রুকু, সালমা জাহান ঐশী, সাদিয়া সুলতানা, খোরশেদা বেগম খাদিজা। ছাত্রীরা অবাক চোখে প্রশ্ন তুলে- সেই সময় শিক্ষার আলোকবর্তিকা বেগম রোকেয়া যে স্বপ্ন দেখেছিলেন সেই স্বপ্ন আমরা আজও দেখি, কিন্তু সেই তুলনায় সুযোগ সৃষ্টি হয় না। সমাজ ব্যবস্থার পরিবর্তন হয়নি।
পরিচালনা করেন শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পাদক শাশ্বতী পাল। আরো উপস্থিত ছিলেন অর্থ সম্পাদক শীলা সরকার, সদস্য ফাহমিদা আজাদ, দীপা রায়, মল্লিকাসহ প্রায় শতাধিক ছাত্রী।

