বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জে ভবন মালিকের গুলিতে নিহত রেস্তোরাঁর ম্যানেজার কাজলের লাশ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে প্রতিষ্ঠানটির স্টাফরা ও নিহতের স্বজনরা। এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে নিহতের লাশ ঢামেক থেকে এ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে এসে চাষাঢ়া সুলতান ভাই কাচ্চি রেস্তোরাঁর সামনে এসে পৌঁছায়। এসময় রেস্তোরার কর্মরত স্টাফরা ও নিহতের স্বজনরা ভবন মালিক ও তার ছেলের বিচার দাবি করে বিক্ষোভ মিছিল করে। আধা ঘন্টাব্যাপী চলা এই বিক্ষোভ মিছিলটি নিয়ে রেস্তোরাঁর আশেপাশেরা সড়ক প্রদক্ষিন করেন বিক্ষোভকারীরা। এসময় তারা দোষীদের বিচার দাবি বিভিন্ন শ্লোগান দেয়। রেস্তোরাঁর সামনে জেলা পুলিশের সদস্যরা নিরাপত্তার পাহারায় ছিলেন।
নিহতের লাশ পেয়ে আহাজারি করেন তার স্বজনরা ও রেস্তোরাঁর স্টাফরা। কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তারা। তাদের কান্নায় ঘটনাস্থলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য তৈরি হয়।
এসময় স্বজন, প্রতিষ্ঠানের স্টাফ ও স্থানীয়রা বলেন, একটাই কথা আজহার মিয়ার আমি ফাঁসি চাই। আজহার লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়া প্রকাশ্যে চোখের সামনে কাজলকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। মুক্তিযোদ্ধারা কি এভাবে গুলি করতে পাড়ে। সে কিসের মুক্তিযোদ্ধা সে সন্তাসী । কিছু হলেই অস্ত্র নিয়ে রাস্তায় নামে। আমাদের একটাই দাবি আজহারের ফাঁসি চাই। ঘটনাটা একটা ন্যাকারজনক কাজ। এভাবে একটা মানুষকে গুলি করে হত্যা করেছে। এই ধরনের কাজ যিনি ঘটিয়েছেন আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
রেস্তোরাঁর মালিক শক্কুর জানান, আইনের কাছে সরকারের কাছে আমি এই ঘটনার বিচার চাই। ওনি আসলে (ভবন মালিক আজহার) একটা মুক্তিযোদ্ধা না একটা ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা। যদি ওনি সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা হইতো তাহলে তার মানুষের প্রতি একটা দরদ থাকতো। তার মায়া থাকতো। কিন্তু তার ভিতরে কোন মায়া নাই। তার কাছ থেকে যে লাইসেন্স করা পিস্তল পাওয়া গেছে সেটার লাইসেন্স বাতিল করা হোক এবং ওনার যেন শাস্তি হয়।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে সন্ধ্যায় চাষাঢ়ায় রেস্তোরাঁর সামনে নিহত কাজলের প্রথম জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পুলিশ নিহতের লাশ বন্দর কুশিয়ারা এলাকায় তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে বন্দর কুশিয়ারা ২য় জানাযা শেষে কাজলকে বন্দর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
এদিকে দুপুরে ম্যানেজার কাজল নিহতের ঘটনায় আজ দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম কাউসার আলমের আদালত ভবন মালিক আজহার তালুকদার ও তার ছেলে আরিফ তালুকদারের বিরুদ্ধে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এর আগে রবিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়ায় পানির বিল নিয়ে তর্কের জেরে গুলিবিদ্ধ কাজল ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় দুপুরে রেস্তোরাঁর মালিক শুক্কুর আলী ভবনের মালিক ও তার ছেলেকে আসামি করে মামলা করা হয়। পরে তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ভবন মালিক আজাহারের কাছ থেকে লাইসেন্স করা একটি বন্দুক ও একটি পিস্তল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় রেস্তোরাঁর আরও কয়েকজন কর্মচারী আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নগরীর খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের ঢাকা মেডিকেলে পাঠান।

