বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মাহনা এলাকায় স্থানীয় সন্ত্রাসীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হন ঢাকা স্পেশাল ব্রাঞ্চের পুলিশ সদস্য রাসেল আহমেদ। এ ঘটনায় আসামিরা জামিন নিলেও সোমবার তাদের জামিন বাতিল করে দেন নারায়ণগঞ্জ জজ আদালত। সোমবার সকালে উপজেলার যাত্রামুড়া এলাকায় মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনরা। ২০১৮ সালের ২৯ নভেম্বর উপজেলার মাহনা এলাকায় বেড়াতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন পুলিশ সদস্য রাসেলসহ ১৫ জনকে কুপিয়ে জখম করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাসেলের মৃত্যু হয়। এর পর হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয়রা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করে আসছেন।
হত্যা মামলার বাদী মনোয়ারা বেগম জানান, তার বাড়ি উপজেলার যাত্রামুড়া এলাকায়। মাহনা এলাকার মনির হোসেনের সঙ্গে তার মেয়ে শাহনাজ বেগমের বিয়ে দেন। জামাতা মনির হোসেন নিজস্ব জমি দিয়ে ড্রেনের জন্য পাইপ বসানোর কাজ করতে থাকেন। এ সময় একই বাড়ির প্রতিপক্ষ মান্নান মিয়া পাইপ বসানোর কাজে বাঁধা প্রদান দেন। এক পর্যায়ে মান্নান মিয়াসহ তার লোকজন মনির হোসেনকে চর থাপ্পর মারে। এদিকে, মনির হোসেনের শ্বশুরবাড়ির আ—ীয়স্বজনরা মনির হোসেনের বাড়িতে গিয়ে চর থাপ্পড়ের ঘটনার প্রতিবাদ করেন। এ সময় প্রতিপক্ষ মান্নান মিয়াসহ তার লোকজন মনির হোসেনের শ্বশুরবাড়ির আ—ীয়স্বজনদের গালিগালাজ শুরু করে।
মনির হোসেনের শ্বশুরবাড়ির অ—ীয়স্বজন রাসেল মিয়া, সাইফুল ইসলাম, মহসিন মোল্লা, আশিকুর রহমান, আশরাফ, রাজু আহাম্মেদ, জামান মিয়া, রিয়াদ মিয়া, রবি মিয়া, ফরিদ, আফরোজা, সুফিয়া বেগম, মুন্না, শহিদুল আলমকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। এ ঘটনায় রফিকুল ইসলাম মেম্বার, মান্নান, রঞ্জু, শাহ আলী, মাসুদ, আবুল, আনোয়ার, মনির, আপেলসহ ৩৯ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। আসামিদের গ্রেফতারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান নিহতের পরিবার।
এ ঘটনায় গোলাকান্দাইল ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলামসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে জামিনে এসে বাদিপক্ষকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে আসছে আসামিরা। সোমবার আসামিদের জামিন বাতিল করে পুনরায় গ্রেফতারের নির্দেশ দেন আদালত। রূপগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল হক জানান, আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছেন।
