বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
৩০ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকাল ৪টায় নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রিয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে ৮ম নারায়ণগঞ্জ জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলন উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য কমরেড মাহবুবুল আলম। সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি কমরেড হাফিজুল ইসলাম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রিয় প্রেসিডিয়াম সদস্য কমরেড লক্ষ্মী চক্রবর্তী, কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য এড. কমরেড মন্টু ঘোষ, নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড শিবনাথ চক্রবর্তী, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, নারায়ণগঞ্জ জেলা সমন্বয়ক কমরেড নিখিল দাস, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য এড. কমরেড জিয়া হায়দার ডিপ্টি, জেলা কমিটির সদস্য কমরেড দুলাল সাহা, জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য কমরেড বিমল কান্তি দাস, নারায়ণগঞ্জ শহর কমিটির সভাপতি কমরেড আঃ হাই শরীফ, জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য কমরেড শাহানারা বেগমসহ বিভিন্ন গণসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকায় পার্টির একাদশ কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে দেশের সকল শাখা সম্মেলন ১৫জুলাই থেকে ১৫আগস্টের পূর্বে শেষ হয়েছে। ১৫আগস্ট থেকে ৩০আগস্ট এর মধ্যে শেষ হয়েছে নারায়ণগঞ্জসহ দেশের সকল থানা সম্মেলন।
জেলা সম্মেলনের উদ্বোধনী সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, রামপাল প্রশ্নে মন্ত্রী, এম.পিদের মিথ্যা ভাষন, ভাড়াটে বুুদ্ধিজীবিদের টেলিভিশন টক শো ও মিথ্যা বিজ্ঞাপন দিয়ে সরকার দেশের জনমতকে বিভ্রান্ত করছে। সরকার যদি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে তবে গণভোট দেয়া উচিত। গায়ের জোরে রামপাল চুক্তির বাস্তবায়ন জনগন কখনই মেনে নেবে না। সুন্দরবন বাঁচানোর স্বার্থে দেশের ৯০ ভাগ মানুষ ঐক্যবদ্ধ আছে। জনগন যে কোন মূল্যে দেশবিরোধী এই চুক্তি প্রতিহত করবে।
দেশের আর্থসামাজিক প্রশ্নে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশ আজ এক গভীর সংকটে নিমজ্জিত। সীমাহীন দুর্নীতি, লুটপাট ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মধ্য দিয়ে এক শ্রেণীর মানুষ বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক হচ্ছে। শাসক দল ও তার অঙ্গ সংগঠনের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত সকল স্তরের নেতারা চাঁদাবজি, টেন্ডারবাজি, দখলবাজি ইত্যাদিতে জড়িত হয়ে নিজেদের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষ এমনকি প্রাণহানির মতো ঘটনাও ঘটাচ্ছে। সব মিলিয়ে সৃষ্টি হয়েছে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি। সমাজে বিরতিহীনভাবে বেড়ে চলছে ধনবৈষম্য। শ্রমিকের শ্রমের ফসল পুঞ্জিভূত হচ্ছে মুষ্টিমেয় লোকের হাতে। শিক্ষাক্ষেত্রে চলছে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি। বিভিন্ন ধারার শিক্ষা, শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ, বৈষম্য, নৈরাজ্য, কুশিক্ষা, অপসংস্কৃতি, কূপম-ূকতা, ভোগবাদ, নৈতিক অবক্ষয় ও মুনাফাসর্বস্বতা গোটা সমাজকে অবক্ষয় ও বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের তেল-গ্যাস, প্রাকৃতিক সম্পদ, বিদ্যুৎখাত সাম্রাজ্যবাদী ও বহুজাতিক কোম্পানির লুণ্ঠনের ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
দেশের প্রকৃতি, পরিবেশ লুটপাট ও মুনাফার যুপকাষ্ঠে বলি। বর্তমান শাসকশ্রেণী শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষসহ উৎপাদক শ্রেণীর স্বার্থ রক্ষা না করে কতিপয় লুটেরা পরজীবী, সাম্রাজ্যবাদী ও বহুজাতিক সংস্থাসমূহের স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত। ফলে সমাজে আজ এক দুঃসহ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। দেশবাসী এই অবস্থা থেকে মুক্তি চায়। কিন্তু কারা এই মুক্তি আনতে পারবে? এমন নির্ভরযোগ্য শক্তি মানুষ চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছে না। ফলে মানুষ জিম্মি হয়ে পড়েছে দুর্বৃত্তায়িত দ্বি-দলীয় ধারার রাজনীতির কাছে। এই শূন্যতা পূরণে এগিয়ে আসতে হবে দেশের কমিউনিস্ট-বাম-প্রগতিশীল শক্তিকে। বুর্জোয়া রাজনীতির বেড়াজাল ছিন্ন করে বামপন্থীদেরকেই মানুষের সামনে বিকল্প হিসেবে দাঁড়াতে হবে। এছাড়া বর্তমান দুঃসহ অবস্থার মৌলিক পরিবর্তন সম্ভব নয়। তাই আসুন, দেশের সকল বামপন্থী দলসমূহ ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিকল্প রাজনৈতিক ধারা গড়ে তুলি।
বিকাল ৫টায় র্যালী ও সন্ধ্যায় বন্ধুপ্রতিম সাংস্কৃতিক সংগঠন সমূহের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।
