বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে বাস চাপায় নিহত দুই শিক্ষার্থীর হত্যার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা নারায়ণগঞ্জের প্রধান প্রধান সড়কগুলো অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে। শিক্ষার্থী হত্যাকারীদের ফাঁসি, নৌ মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি ও সড়কে যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলাসহ বেশ কয়েকটি দাবিতে তারা আন্দোলন করছে। ফলে সকাল থেকে অচল হয়ে যায় রাস্তাঘাট। এদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি মানতে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। অন্যথায় নারায়ণগঞ্জ সহ বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে শহর অচল করার হুমকি দিয়েছে তারা।
বুধবার সকাল ১০টা থেকে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া, সাইনবোর্ড, সিদ্ধিরগঞ্জ সহ বেশ কয়েকটি স্থানে রাস্তা বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করে শিক্ষার্থীরা।
সকাল ১০টার পর পরই চাষাঢ়া গোল চত্বরের সড়কে অবস্থান নিয়েছে সরকারী তোলারাম কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়, নারয়ণগঞ্জ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়, মহিলা কলেজ সহ আশে-পাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম জানান, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। পরে বিকাল ৪ টায় শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত করায় আবার যান চলাচল শুরু হয়েছে।
সকাল ১১টার পর বিভিন্ন স্কুল কলেজের ভিড় ভাড়তে থাকে। তারা এসময় সামনে মূল সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ফলে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা শহরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কে অবস্থান নেয়। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পুরো নারায়ণগঞ্জ প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে।

শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান নেওয়ায় অফিসগামী লোকজনকে এবং স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের পায়ে হেঁটে বা রিকশায় করে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। রাজপথের সড়ক অনেকটা ফাঁকা।
শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে, বেপরোয়া চালকদের ফাঁসি হবে এবং এটি সংবিধানে সংযুক্ত করতে হবে। নৌপরিবহন মন্ত্রীকে নিঃশর্তে ক্ষমা চাইতে হবে। এমইএসের সামনে ফুটওভার ব্রিজ বা বিকল্প নিরাপদ ব্যবস্থা গ্রহণ ও সাত দিনের মধ্যে তার কাজ শুরু করতে হবে।
সব রাস্তার মোড়ে গতিরোধক দিতে হবে। কুর্মিটোলায় বাসচাপায় হতাহতদের পরিবারের দায়ভার সরকারকে নিতে হবে। শিক্ষার্থীরা বাসে ওঠার জন্য সিগন্যাল দিলে সেটি থামিয়ে তাদের তুলতে হবে। শুধু ঢাকা নয়, দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্ধেক ভাড়া নিতে হবে। ফিটনেসবিহীন ও লাইসেন্সবিহীন গাড়ি ও চালক রাস্তায় নামতে পারবে না। অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে।
প্রসঙ্গত, রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনের বিমানবন্দর সড়কে আবদুল্লাহপুর থেকে মোহাম্মদপুর রুটে চলাচলকারী জাবালে নূর পরিবহন লিমিটেডের একটি বাস সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের ওপর উঠে যায়। এতে ঘটনাস্থলে শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম ও একই কলেজের ছাত্রী দিয়া খানম নিহত হন। আহত হয় কয়েকজন। এদের মধ্যে গুরুতর আহত এক শিক্ষার্থীকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।



