বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ভোট চুরির বিরুদ্ধে খেলা হবে, ভোট জালিয়াতি ও ভূয়া ভোটার তালিকার বিরুদ্ধে খেলা হবে, দুর্নীতি, লুটপাট, নারী নির্যাতন, গুম খুনের বিরুদ্ধে খেলা হবে। বিএনপির গুন্ডা দিয়ে ১১ টার আগে ভোট শেষ করে এর বিরুদ্ধে খেলা হবে। কত মানুষকে তোমরা হত্যা করেছো। আগামী ডিসেম্বরে আসল খেলা হবে। মোকাবেলা করা হবে তাদের।
রোববার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শহরের ইসদাইর ওসমানী পৌর স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আগামী নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তত্ত্বাবধায়কের কথা ভুলে যান। উচ্চ আদালত বাদ দিয়েছে। বিশ্বের কোথা তত্ত্বাবধায়ক সরকার নেই। অন্য যে কোন দেশে যেভাবে নির্বাচন হয়, আমাদের সংবিধানেও সেভাবে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধিনে নির্বাচন হবে। সরকার কোন হস্তক্ষেপ করবে না।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ্য করে ওবায়েদুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের নেতা শেখ হাসিনা। ফখরুল সাহেব বিএনপির নেতা কে? কাপুরুষের মত আর রাজনীতি করবে না বলে মুচলেকা দিয়ে লন্ডনে পারি জমিয়েছে। কে সে? হাওয়া বদলের সেই যুবরাজ। খেলা হবে হাওয়া বদলের বিরুদ্ধে, সেই লুটপাটের বিরুদ্ধে।
কাদের বলেন, এই মুহুর্তে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার চেয়ে যোগ্য, সৎ ও ভালো মানুষ রাজনীতিতে নেই। বাংলাদেশের এবারাও শেখ হাসিনাকে চায়। আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেত্রী শেখ হাসিনাকেই বাংলার মানুষ নির্বাচিত করেব। এ দেশের জনগণ চেহেরা দেখে ভোট দেয় না। বাংলার জনগণ কাজ দেখে কাজ দেখে ও উন্নয়ন দেখে ভোট দেয়।
তিনি বলেন, আজকের সম্মেলনের আগে আমি ভার্চুয়েল সকল সভা করেছি। আজকেই প্রথম আমি স্বশরীরে হাজির হয়ে সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছে এবং আমার উপস্থিতি সফল হয়েছে নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের নেতা শামীম ওসমান ও সেলিনা হায়াৎ আইভীকে এক মঞ্চে দেখে। সামনে কঠিন দিন আসছে। আর এরাই নারায়ণগঞ্জের শক্তি। সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের সমাবেশ প্রমাণ করে অতীতেও আওয়ামী লীগ সবচেয়ে শক্তিশালী ছিল। বিএনপিকে নিয়ে তিনি বলে, তারা বিদ্যুৎ দিতে পারে নাই, কোন উন্নয়ন করতে পারে নাই। তাদের সময়ে দেশের অর্থনিতী একটা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছিল। জঙ্গী, সন্ত্রাস এই বিএনপির তারেক জিয়ার ছাত্রদল-যুবদল ওদের সন্ত্রাসে সারা বাংলাদেশ প্রকম্পিত ছিল।
জেলা আওয়ামী লীগের সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দোস্তগীর গাজী, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান, সিটি কর্পোরেশনের ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট কাজী নজিবুল্লাহ হিরু, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক মেহের আফরোজ চুমকি, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, কার্যকরি পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট রিয়াজুল কবির কাওছার সহ স্থানীয় নেতারা।
সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে আবদুল হাই ও আবু হাসনাত শহীদ মোহাম্মদ বাদলকে সাধাণ সম্পাদক ঘোষনা করে সম্মেলনের সমাপ্ত ঘোষনা করেন ওবায়দুল কাদের।
বিএনপির সম্মেলনকে নিয়ে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তারা যে সমাবেশ করেছে এমন সমাবেশ আমরা প্রতিদিন করতে পারি। সমাবেশ দিয়ে প্রমাণ করা যাবেনা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভিত্তি হল জনগণ। পারলে নির্বাচনে আসেন। আপনাদের পায়ের নিচে মাটি নাই। একটি দু’টি সমাবেশ করে হুমকি দিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবেন না।

