বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
অবশেষে হামলার নাটক সাজিয়ে ডিশ ব্যবসায়ীকে পুলিশে সোপর্দ করলেন পাগলা রসুলপুরের সন্ত্রাসী মীরুর ভাই আলমগীর ও ভাগিনা শাকিলগং। ডিশ ব্যবসা দখলে রাখতে গতকাল শুক্রবার সকালে কৌশলে অফিস ভাংচুরসহ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পুলিশে সংবাদ দেয় মীরু বাহিনীর লোকজন। প্রচার করতে থাকে সন্ত্রাসী লিটন কিলার মোক্তারসহ তার ১০/১৫জন সন্ত্রাসী নিয়ে মীরুর ডিশ অফিসে হামলা চালিয়েছে। সংবাদ পেয়ে ফতুল্লা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে ডিশ ব্যবসায়ী লিটনকে আটক করে তাদের কাছে তুলে দেয় মীরুর লোকজন।
নাম প্রকাশে প্রত্যক্ষদর্শী জানান,সকাল ১০টার দিকে মীরুর প্রধান সেনাপতি ভাগিনা শাকিল ও ক্যশিয়ার ভাই আলমগীর কয়েকজন মুখে গামছা বেঁেধ লিটনের মালিকানাধীন ডিশ কার্যালয়ে হামলা চালানোর নাটক সাজায়। এ সময় তারা অফিসের ভেতরে থাকা কিছু সরঞ্জাম ভাংচুর করে ফেলে রাখে এবং পুলিশকে সংবাদ দেয়। পরে সন্ত্রাসী মীরুর ক্যাশিয়ার ভাই আলমগীর পুলিশবাহিনী সাথে নিয়ে এলাকায় তল্লাশী চালিয়ে দোকানে বসে থাকা বিতাড়িত ডিশ মালিক লিটনকে আটক করে সোপর্দ করে। তাৎক্ষনিকভাবে তার কাছে কোন অস্ত্র না পেলেও মীরুর ভাই আলমগীর দাবী করে লিটন একজন সন্ত্রাসী এবং তার কাছে পিস্তল ছিল।
পরে আরও এক বাড়ীতে তল্লাশী চালিয়ে মীরুর প্রতিপক্ষ কিলার মনিরের ভাতিজা জীবনকে গ্রেফতার করে এবং পাশের এক বাড়ী থেকে কয়েকটি ধারালো চাপাতি ও ছুড়ি উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার পরে মীরুর ভাই আলমগীর ও সন্ত্রাসী ভাগিনা শাকিলের তৎপরতা ফের বেড়ে যাওয়ায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ডিশ ব্যবসায়ী লিটন জানান, তিনি দীর্ঘদিন যাবত বউবাজার এলাকায় অফিস নিয়ে ডিশের ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। হঠাৎ করেই সন্ত্রাসী মীরু ও ভাগিনা শাকিল তাকে সহযোগিতার অজুহাতে ডিশ ব্যবসা হাতিয়ে নেয়। এ নিয়ে পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ করলেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। গতকাল সকালে শ্বশুরবাড়ী এলাকায় বেড়াতে গেলে মীরুর ভাই আলমগীরের ইন্ধনে নাটক সাজিয়ে আমাকে আটক করে পুলিশ। ভবিষ্যতে যাতে ডিশ ব্যবসা আমি আর দাবী করতে না পারি সেজন্যে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে ফাঁসানোর অপচেষ্টায় সন্ত্রাসী মীরুগং মেতে উঠেছে।
এ ব্যাপারে ঘটনাস্থলে যাওয়া ফতুল্লা মডেল থানার এসআই মিজানুর রহমান জানান,ডিশ কার্যালয়ে হামলার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে আশপাশ এলাকায় অভিযান চালিয়ে লিটন ও জীবনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় কয়েকটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ওদেরকে আটক করতে ঘটনাস্থলে মীরুর ভাই আলমগীর পুলিশকে সহযোগিতা করে বলে এসআই মিজান স্বীকার করেছে।
