বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
যোগ্যতা মেপেই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জে প্রার্থী মনোনয়ন দিবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। কারণ, আগামীর ওই নির্বাচন দলটির জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ। জনবিচ্ছিন্ন ও বিতর্কিত দলীয় এমপি এবং নেতারা আগামী একাদশ নির্বাচনে মনোনয়ন বঞ্চিত হবেন, এটাও নিশ্চিত। সেক্ষেত্রে প্রার্থীর সকলদিক বিবেচনা করে দলীয় প্রতীকে প্রার্থী মনোনয়ন দিবে আওয়ামী লীগ। বিশেষ করে, ঢাকার পাশ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি আসনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে খুবই সতর্কতা অবলম্বন করবে দলটি’ চলবে চুলচেরা বিশ্লেষণ। একই সঙ্গে টানা জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনবে আওয়ামী লীগ। এতে প্রায় ৫টি আসনে প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে দলটির। তবে আওয়ামী লীগের অধীনে গঠিত ১৪ দলের (মহাজোট) শরীকদের জেলার আসনে ভাগাভাগির ক্ষেত্রে কৌশল অবলম্বন করতে পারে দলটি। আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
দলের সিনিয়র নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, যেসব সাংসদ বার্ধক্যে উপনীত, দলে সময় দিতে পারেন না, অপরাধের সঙ্গে জড়িত, গণবিচ্ছিন্ন, বিতর্কিত, সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন তাদের এবার মনোনয়ন দেয়া হবে না। এবিষয়ে কেন্দ্রীয় একাধিক নেতারা জানান, মনোনয়ন দেয়ার ক্ষেত্রে দলের প্রার্থীর বিপক্ষে কে নির্বাচন করবেন সে বিষয়টিও বিবেচনায় নেয়া হবে। শক্তিশালী প্রার্থীর বিপরীতে জয়লাভ করতে পারবেন এমন প্রার্থীকে বেছে নেয়া হবে।
এদিকে, দলের তৃণমূল নেতারা চাই যোগ্য প্রার্থী। সেই সঙ্গে প্রার্থীর ‘ক্লিন’ ইমেজ। যারা আগামী নির্বাচনে জয়ের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখবে। শুধু কথা নয়, নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে এলাকার সকল সমস্যা সমাধানের ভূমিকা রাখবে।
নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে প্রার্থী দিবে আওয়ামী লীগ। বর্তমান সাংসদ গোলাম দস্তগীর গাজী। তিনি বর্তমানে একটি বেসরকারী টেলিভিশনের মালিক। আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে তিনি এলাকার উন্নয়নে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন। এক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জ-১ আসন থেকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেয়ে একাদশ নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে পাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা ও সাংসদ নজরুল ইসলাম বাবুর অবস্থা অত্যান্ত নাজুক। এলাকায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে দুরত্ব এবং এলাকায় নানান সমস্যা থাকার কারণে টিকেট বঞ্চিত হতে পারেন তিনি।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন থেকে সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোঁকা।জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী সাংসদ খোখা। এলাকায় সকল ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন লিয়াকত হোসেন খোকা। স্থাণীয় জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংসদ লিয়াকত হোসেন খোকা। এ আসনে তার কোনো বিকল্প নেই। তিনি আগামীতে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হয়ে থাকবেন। তবে জাতীয়পার্টি মহাজোটে না থাকলে আওয়ামীলীগ থেকে আবু কায়সার হাসনাত আওয়ামীলীগের সমর্থন পেয়ে নির্বাচন করার সম্ভাবনা রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ হচ্ছেন একেএম শামীম ওসমান। তিনি এ আসনে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন মূলক কাজ করার মাধ্যমে সাধারন মানুষের মনি কোঠায় অতি সহজেই স্থান পেয়েছেন। তবে গত কয়েকদিন ধরে দলীয় কোন্দলের কারনে সাংসদ শামীম ওসমানের দলীয় সমর্থন পেতে একটু বেগ পেতে হতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে একেএম সেলিম ওসমান জাতীয় পার্টির সমর্থন পেয়ে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। উন্নয়নও করেছেন ব্যাপক। কিন্তু শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্চিত করার ঘটনায় দেশে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হন তিনি। আর জাতীয় পার্টি মহাজোটে না থাকলে এ আসন থেকে আওয়ামীলীগের হেভিওয়েট প্রার্থী শুকুর মাহমুদ আওয়ামীলীগ থেকে মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেকটা এগিয়ে রয়েছে। আর শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে লাঞ্চিত করার ঘটনার পর থেকে সাংসদ সেলিম ওসমানের দলীয় সমর্থন পেয়ে এমপি নির্বাচন করাটা অনেকটা ক্ষীন হয়ে পড়েছে।
