নারায়ণগঞ্জ,বিজয় বার্তা ২৪
নারায়ণগঞ্জ-৫(শহর-বন্দর) আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে পুরান বন্দর এলাকায় নির্মানাধীন নাসিম ওসমান মডেল হাইস্কুলের জন্য আরও ২৫ লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত স্কুলটিতে মোট অনুদানের পরিমান দাড়ালো ২ কোটি ৯৫ লাখ টাকা এবং সেলিম ওসমানের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নির্মানাধীন ৭টি স্কুলে মোট ১৫ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হলো। এ সময় সেলিম ওসমান বলেন তিনি যতদিন বেঁচে আছেন ততদিন উন্নয়ন কাজের শেষ বলে কোন কথা নেই।
শনিবার ২২ এপ্রিল বিকেল ৫টায় পুরান বন্দর এলাকায় অবস্থিত নাসিম ওসমান মডেল হাইস্কুল মাঠে স্কুল পরিচালনা পর্ষদ ও এলাকাবাসীর সাথে মত বিনিময় শেষে সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান স্কুল পরিচালনা পর্ষদের নেতৃবৃন্দের হাতে ২৫ লাখ টাকার চেক তুলে দেন।
জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক আবুল জাহের এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানের সহ ধর্মিনী নাসরিন ওসমান।
সেলিম ওসমান আরও বলেন, আমি সব সময় বলি আমার মার্কা নৌকা, আমার মার্কা ধানের শীষ, আমার র্মাকা আনারস, আমার মার্কা লাঙ্গল, দাড়ি পাল্লা বলতেও আমার সমস্যা নাই। জনগন যাকে ভোট দিয়ে জয়ী করবে আমি তাকে নিয়েই কাজ করবো।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রয়াত সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের সম্মানে এই আসনটি লাঙ্গলকে দিয়েছেন। উনি ইচ্ছা করলে নৌকাকেও দিতে পারতেন কিন্তু উনি নাসিম ওসমানকে সম্মান দিয়েছেন। আমি নাসিম ওসমানের শূন্য আসন পূরণ করেছি। নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টি রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা নারায়ণগঞ্জে জনগনের জন্য গোলামী করে আমাকে সহযোগীতা করছে। এখন পেশি শক্তির রাজনীতির দিন শেষ।
তিনি বন্দর এলাকাবাসী ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের উদ্দেশ্য করে বলেন, বন্দরে মদনপুর থেকে মদনগঞ্জ পর্যন্ত এক মাত্রই রাস্তা। এই রাস্তার দুই পাশে গাছের গুড়ি ফেলে রাখা হয়। রাস্তার পাশে কাঠের দোকান, তার পাশে রডের দোকান মিষ্টির দোকানের সামনে চটপটির দোকান তৈরি করে রাস্তা দখল করা হয়েছে। ইউএনওকে উচ্ছেদ করতে বললে সে বলে ওরা গরীব মানুষ। তারা কি আসলেই গরীব মানুষ নাকি ব্যাগে টাকা ঢুকেছে সেটি খতিয়ে দেখতে হবে। এই সকল সমস্যা কি সরকার দেখবে? এগুলো এলাকার মানুষকেই দেখতে হবে। এলাকার চেয়ারম্যানরা রাস্তার দখল গুলো দেখবেন। যাতে করে রাস্তার পাশে অবৈধ কোন দখল না থাকে। এতে করে যদি আপনাদের কিছু ভোট নষ্ট হয় হবে। কিন্তু এলাকার মানুষ শান্তি পেলে এমনিতেই আপনারা বিজয়ী হবেন।
রোববার বন্দর উপজেলার আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ ব্যাপারে আলোচনা করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করতে তিনি নির্দেশ দেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্যের সহ ধর্মিনী নাসরিন ওসমান বলেন, বন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এহসান আমার সন্তানের মত। সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে জাহের ভাই, রশিদ ভাই, মুকুল ভাই সহ ৫টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, মেম্বার, ওয়ার্ড কাউন্সিলদের সাথে নিয়ে কাজ করছেন। সবাই তাকে সহযোগীতা করছে বন্দরের উন্নয়নে। বন্দরের এই উন্নয়নকে অব্যাহত রাখতে আপনারা সবাই বন্দর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে এহসানকে ভোট দিয়ে পুনরায় জয়ী করবেন। এর আগে আমি যখন সেলিম ওসমানের জন্য আপনাদের কাছে ভোট চেয়ে ছিলাম। আপনারা আমাকে নিরাশ করেননি। আবারও আমি এহসানের জন্য আপনাদের কাছে ভোট চাইছি আশা করছি এবারও আপনারা আমাকে নিরাশ করবেন না।
এ সময় আরও মহানগর জাতীয় পার্টির আহবায়ক সানাউল্লা সানু, বন্দর উপজেলার চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল, বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কালাম হোসেন মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাকসুদ হোসেন, বন্দর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এহসান উদ্দিন, মদনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম এ সালাম, ধামগড় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী কামাল হোসেন সহ ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি ওয়ার্ডের সদস্য সহ এলাকার প্রায় সহ¯্রাধিক নারী-পুরুষ সহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিরা।
উল্লেখ্য সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান ২০১৪ সালের ২৬ জুন উপনির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ার পর শিক্ষার মানোন্নয়নে তার নির্বাচনী এলাকার আওতাধীন ৭টি ইউনিয়নে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে সাড়ে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭টি স্কুল নির্মানের ঘোষণা দেন। ঘোষণা মোতাবেক এখন পর্যন্ত ১৫ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। যার মধ্যে বন্দরে মুছাপুর ইউনিয়নে শামসুজ্জোহা এমবি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪ কোটি ৪২ লাখ ৫০ হাজার, বন্দর ইউনিয়নে নাসিম ওসমান মডেল হাইস্কুলে ২ কোটি ৭০ লাখ, কলাগাছিয়া ইউনিয়নে আলহাজ্ব খোরশেদুন্নেছা হাইস্কুলে ১ কোটি ৫০ লাখ, পিআর সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ে ৫০ লাখ টাকা, মদনপুর ইউনিয়নে নাগিনা জোহা উচ্চ বিদ্যালয়ে ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা, ধামগড় ইউনিয়নে শেখ জামাল উচ্চ বিদ্যালয়ে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা, সদর উপজেলার গোগনগর ইউনিয়নের পুরান সৈয়দপুর বঙ্গবন্ধু হাইস্কুলে ২ কোটি ১০ লাখ, আলীরটেক ইউনিয়নের কুড়েপার শেখ রাসেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬৫লাখ টাকা। এছাড়াও তিনি বন্দরে কদমরসুল কলেজের উন্নয়নে ব্যক্তিগত তহবিল ও ব্যবসায়ীদের সহযোগীতায় ১০ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন।