বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জে মেডিস্টার জেনারেল হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় ঝুমা(২৫) নামে এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। উক্ত ঘটনায় তাৎক্ষনিকভাবে কর্তব্যরত দুই ডাক্তার সহ ৫ জনকে আটক করেন সদর মডেল থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২ টায় নারায়ণগঞ্জের ডানচেম্বারে অবস্থিত মেডিস্টার জেনারেল হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত প্রসূতির নাম সাবিহা তাসমিয়া ঝুমা (২৫)। তিনি জেলার উত্তর মাসদাইরের হাজী লুৎফর রহমান রোডের কামরুল হাসান শরীফের স্ত্রী।
এসময় আটকৃতরা হলেন- ডা. অমল কুমার রায়, ডা.মো. বদরুদ্দোজা, নার্স লাকী, ঝর্ণা। অপর নার্সের নাম প্রাথমিকভাবে জানা যায়নি।
নিহতের আত্মীয় স্বজনরা জানান, আজ সকাল ৭ টায় প্রসূতি ঝুমাকে চিকিৎসার জন্য মেডিস্টার জেনারেল হাসপাতারে নিয়ে আসা হয়। আসার পর সকাল ৭ টা ২০ মিনিটে তার অপারেশন শুরু করেন কর্তব্যরত ডাক্তার। অপারেশনের পর রোগীর অবস্থা জানতে চাইলে ডাক্তাররা তাদের জানাননি। ৪ ঘন্টা পর প্রসূতির আত্মীয়দের চাপে মৃত্যুর খবরটি জানান।
নিহতের দেবর মো. শাহেদ আরো জানান, আমার ভাবি ঝুমাকে তিনবার অপারেশন করানো হয়েছে। আমাদের ৪ ব্যাগ রক্ত আনতে বলেন চিকিৎসক। আমরা রক্ত এনে দেই। আমরা বলছি আপনারা যদি ঠিক মত চিকিৎসা না করতে পারেন তাহলে ছেড়ে দিন। আমরা ঢাকায় নিয়ে যাই। কিন্তু তারা আমাদের কথা শুনেননি। ভাবিকে হাসপাতালে রেখে ভুল চিকিৎসা করানো হয়েছে। তার মৃত্যুর ৪ ঘন্টা পর আমাদের জানানো হয়।
তিনি আরো জানান, আমরা আমার ভাবির মৃত্যুর ঘটনায় দোষীদের উপযুক্ত বিচার চাই। এ বিষয়ে আমরা থানায় মামলা করতে চাইলে সদর মডেল থানা থেকে বলা হয় পোস্ট মর্ডেম করার আগে মামলা করা হবে না। আগামীকাল সকালে পোস্ট মর্ডেম করার পর মামলা নেওয়া হবে।
সদর মডেল থানার ওসি (অপারেশন) জয়নাল আবেদীন জানান, ডাক্তার আমাদের জানান সিজারের পর রোগীর জরায়ুর সমস্যার কারণে তাকে পর পর তিনবার অপারেশন করা হয়। স্বজনদের ৪ ব্যাগ রক্ত আনার কথা বলেন চিকিৎসক। এই ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে এই ঘটনায় মেডিস্টার জেনারেল হাসাপাতালের কর্তৃপক্ষ পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়। প্রসূতির গর্ভে জন্ম নেওয়া সন্তানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে অন্য হাসাপাতালে নেওয়া হয়েছে।

