বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেসকোর বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্যের স্বীকৃতি উদযাপনে নারায়াণগঞ্জে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়াও ইসদাইর শামুসজ্জোহা স্টেডিয়ামে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও চলচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সংঙ্গীত পরিচালনা করেছেন দেশের খ্যাতিমান কণ্ঠ শিল্পী ও মুক্তিযোদ্ধা ফকির আলমগীর। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ফকির আলমগীর প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান ও জেলা প্রশাসককে মঞ্চে নিয়ে বাংলাদেশের পতাকা হাতে তুলে দিয়ে সম্মান জানান। এ সময় সেলিম ওসমান অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত সকল মুক্তিযোদ্ধাদের মঞ্চে ডেকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করলে ফকির আলমগীর সবাইকে ডেকে মঞ্চে নিয়ে সম্মান প্রদর্শন করেন এ সময় ফকির আলমগীরে সাথে মুক্তিযোদ্ধের গানে কণ্ঠ মেলান মুক্তিযোদ্ধারা।
শনিবার (২৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় চাষাঢ়া গোল চত্ত্বর থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়ে প্রধান সড়ক হয়ে প্রেসক্লাব ঘুরে চাষাঢ়া শহীদ মিনারে এসে সমাপ্ত করে। শোভাযাত্রায় নারায়াণগঞ্জের বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী, সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী, শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামীলীগের জেলা ও মহানগরের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এর আগে চাষাঢ়ায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
শোভাযাত্রা শেষে ইসদাইরে শামসুজ্জোহা স্টেডিয়ামে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠান ও চলচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সেলিম ওসমান বলেন, আজকের দিনে মানুষ অডিওতে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া ৭মার্চের ভাষণ শুনেও রক্ত গরম হয়ে যায়, দেশপ্রেমে উদ্বৃত্ত হয়। একবার চিন্তা করে দেখুন ৭মার্চের ভাষন আমরা যারা সারাসারি কাছ থেকে শুনেছি তখন আমাদের কি হয়েছে। তখন আমাদের যুদ্ধে যাওয়ার জন্য বাবার অনুমতির প্রয়োজন হয় নাই। একজন স্থানের তার মায়ের অনুমতির প্রয়োজন হয় নাই। সেই দিন আমরা যারা যুদ্ধে গিয়ে ছিলাম এদের মধ্যে আমরা যারা জীবিত হয়ে ফিরেছি তারা সবাই গাজী হয়েছি। এখন মাত্র হাতে গুনা কয়েকজন জীবিত আছে তাও চলে যাবে। কিন্তু আজকে ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষনকে যে সম্মান দিয়েছেন এরজন্য আমরা ইউনেস্কোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আর এ সম্মানের মধ্য দিয়ে ওই ভাষনটি সারা পৃথিবীতে অমরা হয়ে থাকবে।
এ ব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কমান্ডার শাহজাহান ভূইয়া জুলহাস জানান, আজকে এই দিনে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম বঙ্গবন্ধুর এই আহবানে আমরা মুক্তিযুদ্ধে গিয়ে ছিলেন। সেই ভাষণ আজকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। স্বীকৃতি লাভের এই আনন্দ উদযাপনের দিনে আমাদেরকেও সম্মান জানানোয় আমরা আরো বেশি আনন্দিত।
শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য হোসেনে আরা বাবলী, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসক রাব্বী মিয়া, জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক, , নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কর্মাস এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, মহানগর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী খোকন সাহা, সদর উপজেলার নির্বার্হী কর্মকর্তা তাহমিনা বিনতে শেখ, বিকেএমইএ এর সহ সভাপতি(অর্থ) জিএম ফারুক, পরিচালক ফারুক বিন ইউসুফ পাপ্পু, শহর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।
মালার মাথায় হাত রেখে কুশল বিনিময় করলেন সেলিম ওসমান
যুব মহিলালীগের কমিটি নিয়ে মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহমুদা মালার শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে বক্তব্য, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অডিও প্রকাশ সহ নানা ইস্যুতে বেশ কয়েকমাস ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ছড়িয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাল্টাপাল্টি স্ট্যাটাস, বিভিন্ন সভায় নানা বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় উঠে এসে ছিল মালা। এতো ঘটনার পর বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সহ শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত আনিসুর রহমান দিপুকেও শামীম ওসমান এবং সেলিম ওসমানের সাথে একই সভা মঞ্চে দেখা গেছে। কিন্তু মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদা মালার দেখা মেলেনি সেই সভা গুলোতে। তবে শনিবার ২৫ নভেম্বর সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠানে এসে মুখোমুখি হয়েছে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান ও মাহমুদা মালা।
সকাল সাড়ে ১০টায় চাষাঢ়া এসে পৌছেন সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান। যেখানে আগে থেকে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে মিছিল নিয়ে শোভা যাত্রায় দিয়ে ছিলেন মহানগর আওয়ামীলীগে সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহমুদা মালা। সেলিম ওসমান গাড়ি থেকে নেমে সামনের দিকে হাটা শুরু করলে মালার সাথে মুখোমুখি দেখা হয়। এ সময় সেলিম ওসমান মালার মাথায় হাত রেখে তার সাথে কথা বলেন। তার মাথায় হাত রেখে তার সাথে কুশল বিনিময় করেন। মালাও তাঁর সাথে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় পাশেই উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামীলীগে সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা। এ সময় তিনি দুজনকেই উদ্দেশ্য করে বলেন অতীতের ঝগড়া বিবাদের কথা ভুলে গিয়ে সকল উন্নয়ন কাজে অংশ গ্রহণ এবং সকলকে সহযোগীতা করার আহবান রাখেন।
এ ব্যাপারে সেলিম ওসমান জানান, এক সাথে কাজ করতে গেলে ঝগড়া বিবাদ হতেই পারে। এই ঝগড়া বিবাদ ধরে রাখলে উন্নয়ন কাজ বাঁধা গ্রস্থ হয়। আর মালা এখনো অনেক ছোট। সে ভুল করতে পারে। এরজন্য সে গুলো ধরে রাখলে চলবে না। আমি চাই সবাই অতীতের ঝগড়া বিবাদ ভুলে গিয়ে নারায়ণগঞ্জের উন্নয়নের স্বার্থে একত্রে কাজ করুক।
এ ব্যাপারে মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহমুদা মালা সেলিম ওসমানের সাথে সাক্ষাত এবং মাথায় হাত রেখে কথা বলার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
