বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
আমি আজকে আপনাদের সম্মুখে গতকাল প্রথম আলো এবং যুগের চিন্তা ও আরো কয়েকটি স্থানীয় পত্রিকায় নিখোঁজ সাদমান সাকির বাবার ওমর খালেদ এপন একটি মানব বন্ধনে আমাকে জড়িয়ে যে মিথ্যা বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রনোদীত বক্তব্য প্রদান করিয়াছে তৎসম্পর্কে আমার অবস্থান পরিষ্কার করার জন্য উক্ত বিষয়ে কিছু বক্তব্য উপস্থাপন করছি। প্রথমতঃ পত্রিকাতে প্রকাশিত সংবাদটিতে একটি শিশু অপহরণের অভিযোগ আনা হয়েছে। শিশুটির নাম সাদমান সাকি। শিশুটির বাবা সৈয়দ ওমর খালেদ ওরফে এপন বিগত ১৩/১২/২০১৭ ইং তারিখে নারায়ণগঞ্জ মডেল থানায় শিশু নির্যাতন ও দমন আইন ২০০০ সংশোধনী (০৩) এর ৭/৩০ ধারায় একটি অভিযোগ দায়ের করে যে, বিগত ১/১২/১৭ইং তারিখে দুপুর আনুমানিক ১:৩০ ঘটিকায় তাহার ছেলে সাদমান সাকি তাহার বাসার সামনে তাহার ভাতিজা তাসিমের সাথে খেলাধুলা করিতেছিল। ঐ সময় সাকির বাবা সৈয়দ ওমর খালেদ ওরফে এপন বাসায় ছিলেন। ঐ সময় বেলা আনুমানিক ১:৩০ মিনিটে ওমর খালেদ এপন এর ভাই সৈয়দ সাদিম আহমেদ তাহার চেলে তাসিম কে বাসায় নিয়ে যাওয়ার সময় এপনের ছেলেকেও তাহার বাসায় দিয়া যায়। আনুমানিক বেলা ১:৫০ মিনিটের সময় বাসা হইতে বাহির হইয়া তাহার ছেলেক না দেখিতে পাইয়া অনেক খুজাখুজি করিয়া নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করে। যাহার মামলা নং-৩১, তারিখ- ১৩/১২/২০১৭। আপনাদের অবগতির জন্য অভিযোগের কপি আপনাদের প্রদান করিয়াছি। এজাহার পাইয়া নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা তদন্ত করে। নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ০২ জন তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই মোঃ রুস্তম আলী ও এস.আই মোঃ শামীম হোসেন এবং পরবর্তীতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টিগেশন পি.বি.আই এর কর্মকর্তা মোঃ আশরাফুল আলম তদন্ত করেন। তদন্তকারী পি.বি.আই কর্মকর্তা তাহার তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করেন যে, নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সন্দিগ্ধ আসামী জিল্লুর রহমান, সোহেল আহম্ম অররা ও আব্দুর রহমান তপনকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে কোন সাক্ষ্য প্রমান না পাওয়ায় পুলিশ উক্ত মামলায় চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করে। যাহার নং- ৩৭, তারিখ- ১২/০৬/২০১৮।
অভিযোগকারী সৈয়দ ওমর খালেদ তাহার দায়েরকৃত অভিযোগে কোথাও আমার নাম বা আমার সংশ্লিষ্টতা উল্লেখ করে নাই। এমনকি সন্দিগ্ধ ০৩ জন আসামী যাদেরকে আদালত হইতে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল তারাও কোথাও আমার সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে কোন কিছু উল্লেখ করে নাই। গ্রেফতার কৃত আসামী সোহেল আহম্মেদ অররা, পিতা- মৃত জয়নাল আবেদীন কে রিমান্ড চাওয়ার সময় তাহার ফরোয়াডিংয়ে উল্লেখ করা হয় যে, উক্ত আসামী ০৯/০১২/২০১৭ইং তারিখে তাহার ব্যবহৃত মোবাইল নং- ০১৬৩৩৩৬৭৬৩০ নম্বর হইতে অভিযোগকারী ওমর খালেদের মোবাইল নং ০১৭১৮৭৪৫৪১৩ ও ০১৮৬২৪০০৩৮৬ নম্বরে ফোন করিয়া ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ) টাকা দিলে তাহার ছেলেকে ফেরত দিবে বলিয়া বলে। এবং অপহৃত শিশু সাদমান সাকির বাবা ওমর খালেদ এপন ঐদিনই অর্থাৎ ০৯/১২/২০১৭ইং তারিখে আসামীর দেওয়া মোবাইল নং ০১৮৩৬৯৫৯৯২৪ তে ৪,৫০০/- (চার হাজার পাঁচশত) টাকা বিকাশের মাধ্যমে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু পরবর্তীতে উক্ত মামলায় চূড়ান্ত রিপোর্ট দেওয়ায় আসামীরা খালাস পায়।
আমার প্রশ্ন আসামী ধরা পরার পরও টাকা চাওয়ার পরও এবং আসামীর নম্বরে টাকা বিকাশ করার পরও কিভাবে উক্ত মামলার আসামীরা খালাস পায়। নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা মামলায় চূড়ান্ত রিপোর্টে দাখিল হওয়ার পূর্বে মামলাটি আরো অধিক তদন্তের জন্য পি.বি.আই এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। পি.বি.আই এর উপ পুলিশ পরিদর্শক মোঃ আশলাফুল আলম আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং মোট ৭ জন স্বাক্ষীর জবানবন্দী লিপিবদ্ধ করে এবং চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করে বিগত ১২/০৬/২০১৮ইং তারিখে। চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিলের দীর্ঘ প্রায় ০৪ মাস পরে নিখো শিশুর পিতা সৈয়দ ওমর খালেদ এপন আমার বিরুদ্ধে অযাচিত ভাবে আমাকে হেয় করার জন্য এবং আমার সুনাম ক্ষুন্ন করার অসৎ উদ্দেশ্যে একটি মানব বন্ধন করে। উক্ত মানববন্ধনে তাহার পুত্র নিখোজের বিষয়ে আমাকে দায়ী করে। প্রথম মানব বন্ধনের সময় সৈয়দ ওমর খালেদ এপন তাহার বক্তব্যে বলেছিল যে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে নির্বাচন থেকে সড়ে দাড়াতে তাহাকে নাকি আমি হুমকী প্রদান করেছিলাম এবং নির্বাচন থেকে সড়ে না দাড়িয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করায় তাহার ছেলে সাদমান সাকিকে আমি অপহরণ করি। প্রকৃত অবস্থা আপনারা জানেন, নাসিক ১৬নং ওয়ার্ডে মোট ০৭ জন প্রতিদ্বন্ধী নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে এবং নির্বাচন হয় বিগত ২২/১২/২০১৬ইং তারিখে। উক্ত নির্বাচনে আমি ৪৮৩৪ ভোট প্রাপ্ত হইয়া কাউন্সিলর নির্বাচিত হই। আর ওমর খালেদ এপন ভোট প্রাপ্ত হয় মাত্র ১২০টি এবং তাহার জামানত বাতিল হয়। তার সাথে কীভাবে আমার শত্রুতা তা আমার বোধগম্য নয়। যদি তার সাথে আমার শত্রুতাই থাকে তাহলে তার অভিযোগের প্রথমেইতো আমার নাম থাকার কথা ১০ মাস পরে কেন? উক্ত মানব বন্ধনের পরদিন সংবাদ দৈনিক যুগের চিন্তা পত্রিকায় প্রকাশিত হইলে আমি এপনের ঐ তথ্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাই এবং তার বিরুদ্ধে নাঃগঞ্জ সদর মডেল থানা একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। যাহার নং- ৬৩০, তারিখ- ১৭/১০/২০১৮ইং এখানে বিশেষ ভাবে আমি উল্লেখ করতে চাই যেইদিন ওমর খালেদ এপন প্রথম আমার বিরুদ্ধে মানব বন্ধন করে। ঐদিন মানববন্ধনের পর একজন সাংবাদিক বন্ধু তদন্তকারী কর্মকর্তা জনা শামীম হোসেনকে উক্ত ঘটনা এবং আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তদন্তকারী কর্মকর্তা শামীম হোসেন যা বলেছে তাহার অডিও রেকর্ড আমার কাছে আছে। যাহার কপি আপনাদেরকে দিলাম এবং তাহার বক্তব্য আপনাদেরকে শুনাচ্ছি। তদন্তকারী কর্মকর্তার বক্তব্যে দায়ী কে শুনুন।
প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুগণ আপনারা ঘটনা বিস্তারিত ভাবে তদন্ত করিয়া সঠিকভাবে তথ্য সংগ্রহ করিয়া যাহাতে কোন অহেতুক নিরীহ মানুশ হয়রানির শিকার না হয় এবং তাহাদের সুনাম ক্ষুন্ন না হয় তৎসম্পর্কে সঠিক সংবাদ প্রকাশ করার জন্য বিনীত ভাবে অনুরোধ করছি। আমি একজন জনপ্রতিনিধি হিসাবে এবং সচেতন নাগরিক হিসাবে নিখোচ শিশু সাদমান সাকি উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের নিকট আকুল আবেদন জানাচ্ছি পাশাপাশি এই জঘন্য কাজে সংশ্লিষ্ট জড়িতরেদ আইনের আওতায় আনিয় কঠোর শাস্তির দাবী করছি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ হোসিয়ারী এসোসিয়েশন এর সহ-সভাপতি মো. কবির হোসেন, সহ-সভাপতি (এসোসিয়েট) মো. নাসির শেখ, পরিচালক (জেনারেল) আতাউর রহমান, মহানগর কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান লিটন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাফায়েত আলম সানি, আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

