বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গ্যাসের লিকেজের আগুনের বিস্ফোরণে মা ও ছেলে দগ্ধ হয়েছে। রবিবার (১২ মার্চ) রাতে সদর উপজেলার মাসদাইর এলাকার এম এস টাওয়ারের ৬ষ্ঠ তলায় এই ঘটনা ঘটে। নারায়ণগঞ্জ ও ফতুল্লা ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিটে আধাঘন্টার প্রচেষ্টায় ওই আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ সহকারি পরিচালক ফখর উদ্দিন আহমেদ।
দগ্ধরা হলেন, ফতুল্লার মাসদাইর এলাকার ফটো কপির দোকানী মাসুদ পাটোয়ারীর স্ত্রী কুলসুম বেগম ও তাঁর তিন বছরের ছেলে মোহাম্মদ খালিদ।
দগ্ধদের স্বজন সাকিনা জানান, মাসুদ ভাই দোকানে কাজ করছিল। তার স্ত্রী আর সন্তান বাসায় ছিলেন। হঠ্যাৎ একটি বিস্ফোরণের শব্দ হয়। তারপর তাদের ঘরের সব লন্ডভন্ড হয়ে যায়। বিস্ফোরণের মাসুদ ভাইয়ের স্ত্রী ও ছেলে গুরুত্বর আহত হয়েছেন। তার স্ত্রী ও সন্তানকে দগ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে। ।
প্রত্যক্ষদর্শী আল আমিন জানান, হঠ্যাৎ একটি বিকট শব্দে কেপে উঠে পুরো বিল্ডিং। বিকট শব্দ শুনে আমরা দৌড়ে ঘটনাস্থলে যাই। গিয়ে দেখি মাসুদের ফ্লাটে আগুনের ধোয়া বের হচ্ছে। আমরা স্থানীয়রা মিলে আগুন নিভানোর চেষ্টা করি এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেই। পরে স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আসে। এ ঘটনায় মাসুদের স্ত্রী ও ছেলে আহত হয়। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী আতাউর রহমান জানান, মামুনের মালিকালীন এম এস টাওয়ারের ১০ তলা ভবনের ছয় তলার একটি ফ্ল্যাটে হঠাৎ বিকট শব্দ হয়। মুহুর্তের মধ্যে ওই রুমে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ভবনের অন্য বাসিন্দারা মা ও ছেলেকে দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। স্থানীয়রা আগুন নেভাতে না পেরে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসে ছয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স এর উপ-সহকারি পরিচালক ফখর উদ্দিন আহমেদ জানান, ১০ তলা বিশিষ্ট বিল্ডিং ষষ্ঠ তলার ৬/এ ফ্ল্যাটের ওই ঘরে বিস্ফোরণের আলামত পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারনা করা যাচ্ছে গ্যাস লাইনের সংযোগ থাকায় তার লিকেজ থেকে গ্যাস জমে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। খবর পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে মন্ডল ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ও ফতুল্লা ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট আসে। ফায়ার সার্ভিসের মোট ৬ টি ইউনিটের আধা ঘন্টায় চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রনে করা হয়। এ ঘটনায় ফ্লাটের থাকা মা ও ছেলে দগ্ধ হয়েছেন। তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে এ ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ও বিস্ফোরণের আসল করান জানা যাবে।

