বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
আওয়ামী লীগের মন্ত্রী নন তারা, প্রভাবশালী নেতাও নন। হেভিওয়েট নেতাদের মতো তারা জাতীয় নেতাও নন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার তারা অত্যন্ত আস্থাভাজন এবং বিশ্বস্ত। তারা কিছু পাক না পাক, শেখ হাসিনার সঙ্গে সম্পর্কের কারণেই তারা আওয়ামী লীগে সম্মানিত এবং নেতাকর্মীদের প্রিয়ভাজন। আওয়ামী লীগের তৃনমূলের কাছে তারা অনুকরণীয় এবং আদর্শ। সত্যিকার আওয়ামী লীগ বলতে তাদেরকেই বোঝানো হয়। এদের কয়েকজনকে নিয়েই এই প্রতিবেদন:
সাহারা খাতুন: আওয়ামী লীগের দু:সময়ের বন্ধু হিসেবেই তিনি অধিক পরিচিত। সাহারা খাতুন সবচেয়ে বড় যে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তা হলো ওয়ান ইলেভেনের সময়। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা যখন গ্রেপ্তার হয়েছিলেন, তখন প্রথম টেলিফোনটি করেছিলেন সাহারা খাতুনকেই। সাহারা খাতুন ওই রাতেই সুধাসদনে চলে এসেছিলেন। এই সাহারা খাতুন আওয়ামী লীগে ছিলেন একেবারে অবহেলিত। ১৯৯১ এবং ১৯৯৬ এর নির্বাচনে তিনি মনোনয়নই পাননি। তারপরও তিনি হাল ছাড়েননি, করেননি কোন প্রতিবাদ। কোন হতাশা তাকে স্পর্শ করেনি, বরং নেত্রীর একান্ত একজন বিশ্বস্ত কর্মী হিসেবে তিনি আন্দোলন সংগ্রামে দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু প্রত্যেক রাজনীতিবিদের জীবনে একটি পরীক্ষা আসে, সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার উপরই তার রাজনৈতিক জীবনের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে। সাহারা খাতুন তেমন জনপ্রিয় নেতা নন। আওয়ামী লীগে তিনি কোন ক্যারিশম্যাটিক বক্তাও নন। কিন্তু শেখ হাসিনার বিশ্বস্ততার কারণে এবং তার প্রতি আনুগত্য এবং আওয়ামী লীগের প্রতি বিশ্বস্ততার কারণে তিনি সর্বজন শ্রদ্ধেও।
শামীম ওসমান: নেতাকর্মীদের কাছে তিনি যতটা জনপ্রিয়, ঠিক ততটাই বিতর্কিত সাধারণ মানুষের কাছে। তাঁর সম্বন্ধে যত না সত্য তারচেয়ে কল্পিত কল্পনার ফানুস অনেক বড়। কিন্তু শামিম ওসমানের ব্যাপারে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা একটা কথা বলেন যে, বিশ্বাসে অটল। শেখ হাসিনার প্রতি তাঁর আস্থা, আনুগত্য, বিশ্বাসের তুলনা নেই। শেখ হাসিনার প্রশ্নে তিনি কখনও আপোষ করেননি। এ কারণে নানা বিতর্ক মাথায় নিয়েও আওয়ামী লীগের তৃণমূলের কাছে আস্থাভাজন নেতার নাম শামিম ওসমান।
আবদুল মান্নান খান: আবদুল মান্নান খান ছাত্র ইউনিয়ন থেকে আসা আওয়ামী লীগার। একারণে আওয়ামী লীগের তিনি অনেকটাই অপাংক্তেয়। তাঁকে অনেকেই কমিউনিস্ট বলেও সম্বোধন করেন। যে যাই বলুক না কেনো শেখ হাসিনার আস্থাভাজন এবং বিশ্বস্ত একজন ব্যাক্তির নাম হলো আবদুল মান্নান খান। আবদুল মান্নান খান ২০০৭ সালের ওয়ান ইলেভেনের সময় বিশ্বস্ততার সবচেয়ে বড় প্রমাণ স্থাপন করেছিলেন। যখন সংস্কারের স্রোতে আওয়ামী লীগের অনেক সিনিয়র নেতারা গা ভাসিয়ে ছিলেন ঠিক সেই সময় আবদুল মান্নান খান শেখ হাসিনার উপর অটুট আস্থা রেখেছিলেন। তারপরও নানা বিতর্ক এবং দলের নেতাকর্মীদের কাছে আস্থা হারালেও শেখ হাসিনার প্রতি তাঁর আনুগত্য এবং বিশ্বস্ততার কারণে এখনও তিনি আওয়ামী লীগের একজন আস্থার প্রতীক।
কাজী জাফরুল্লাহ: আওয়ামী লীগ যখন বিপুল বিজয় অর্জন করে তখনও যে মুষ্টিমেয় কয়েকজন পরাজিত হয় তারমধ্যে একজন হলেন কাজী জাফরুল্লাহ। স্থানীয় লোকজনের কাছেও তাঁর জনপ্রিয়তা নেই। সাধারণ মানুষের কাছে তিনি অপুরোধিত ব্যক্তি বা ক্যারিশমাটিক নেতা নন। তারপরও আওয়ামী লীগ সভাপতির একজন আস্থাভাজন, বিশ্বস্ত ব্যক্তি হিসেবে কাজী জাফরুল্লাহ রয়েছেন। শেখ হাসিনার প্রতি বিশ্বাস এবং আনুগত্যে তিনি কখনও ফেল করেননি।
কর্নেল (অব:) ফারুক খান: কর্নেল অব. ফারুক খানও কোন জনপ্রিয় নেতা নন। সাধারণ মানুষের মধ্যে তাঁর কোন জনপ্রিয়তার চিহ্নও দেখা যায় না। কিন্তু শুধুমাত্র শেখ হাসিনার প্রতি তাঁর নিরঙ্কুশ আস্থা, আনুগত্যই তাঁকে এই পর্যায়ে নিয়েছে বলে জানা গেছে। একজন রাজনৈতিক নেতার জন্য যেমন জনপ্রিয়তা দরকার, যেমন দরকার সাধারণ মানুষের মন জয় করা তেমনি দরকার হলো নেতৃত্বের প্রতি বিশ্বাস, আস্থা। নেতৃত্বের প্রতি বিশ্বাস, আস্থা না থাকলে যত জনপ্রিয় নেতাই হোক না কেন তিনি কালের গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারেন। আর এইসমস্ত নেতৃবৃন্দ যারা দলের নেতৃবৃন্দের প্রতি অটুট বিশ্বাস, আনুগত্য রেখেছেন, দলের নেতৃত্বের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি তাঁরা জনপ্রিয় না হোক ইতিহাসে তাঁদের নাম লেখা থাকবে এটা নিশ্চিত।(সূত্র-বাংলা ইনসাইডার)
