বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
বন্দর উপজেলার মদনপুর স্ট্যান্ডের চাঁদাবাজীকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে গেল কয়েক মাসে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ও তান্ডবে স্থাণীয় এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হওয়ায় মূল কারণ চাঁদাবাজীকে আখ্যায়িত করলেও এর পিছনে রয়েছে অজানা নানান কথা। বিশ্বস্ত সূত্র মোতাবেক ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভূক্তভোগীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, মদনপুর-জয়দেবপুর মহাসড়কের পাশে ও স্থাণীয় খলিল মেম্বারের বাড়ীর ঠিক উল্টোদিকে সরকারি জায়গা লিজ নেয়া আছে নাম করে বিভিন্ন খুচরা দোকানদার, কনফেকশনারী সহ বিভিন্ন দোকান থেকে অগ্রীম ও জামানত বাবদ কয়েক কোটি টাকা জমা নেয় খলিল মেম্বার।
সে অনুযায়ী প্রাথমিকভাবে তারা দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচলনা করতে থাকে। রাস্তা প্রশস্ত করার প্রয়োজনে সরকার রেলওয়ের জমি ব্যবহার করবে বিধায় কয়েক দফা মদনপুরের রাস্তার পাশে সকল দোকানপাটা অবৈধ আখ্যা দিয়ে ভেঙ্গে দেয় সওজ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু জামানত দেয়া ব্যবসায়ীরা নিরুপায় বিধায় কয়েকদিন পর পর দোকান তুললেও অন্যদিক দিয়ে সওজ কর্তৃপক্ষ এসে দোকানগুলো ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিচ্ছে। এতকিছুর পরও তারা খলিলের কাছ থেকে তাদের জামানতস্বরূপ অর্থ ফেরৎ নিতে পারেনি।
তাছাড়া মদনপুরে সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে চাঁদাবাজী করতে একটি গ্রুপ খলিলের নেতৃত্বে গড়ে উঠে এবং এ নিয়ে চাঁদাবাজীতে সক্রিয় কয়েকটি গ্রুপের সাথে অন্তদ্বন্দ গড়ে উঠে ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত ১৮ নভেম্বর মদনপুরে খলিলের উপর অতর্কিত হামলা হয়, যেখানে প্রতিপক্ষ হিসেবে আমির বাহিনীকে জড়ানো হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়। খলিলের কাছ থেকে জামানতকৃত অর্থ ফেরত নিতে ব্যর্থ হওয়া ভূক্তভোগী ব্যবসায়ীরাও তার উপর আক্রমণ করতে পারে বলে আশংকা করছেন অনেকে।
উক্ত ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয় কিন্তু আমির বা তার সহযোগীরা এ ঘটনায় কতটুকু জড়িত সেটা প্রশ্ন অনেকের। গত শনিবার মদনপুর স্ট্যান্ড সংলগ্ন চাঁনপুরে বিভিন্ন ওয়ারেন্টের আসামীদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালায় এবং খলিল বাহিনীর ২জন সক্রিয় সদস্য দিপু ও সুজনকে গ্রেফতার করলে সেই বাহিনীর অন্য সহযোগীরা পুলিশকে ঘিরে ধরে এবং টেটা, বল্লম ও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। তারা পুলিশের ২টি গাড়ী ভাংচুর চালায়।
ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ফাঁকে আসামি দিপু ও সুজনকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা। তখন সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং উক্ত সংঘর্ষের ঘটনায় ১ যুবকের মৃত্যু ও ৭পুলিশ সহ অন্তত ৩০জন আহত হয়। উক্ত ঘটনায় এস আই আহাম্মদ আলী বাদী হয়ে ২৪জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরও ৩০০ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করে এবং এই মামলায় আমির ও তার সহযোগীদের নাম আসে।
এ ঘটনায় খলিল বাহিনী পুলিশের উপর তান্ডব চালিয়ে আসামী ছিনতাই, পুলিশের গাড়ী ভাংচুর ও ব্যাপক সংঘর্ষে জড়ায় কিন্তু সেখানে আমির বা তার সহযোগীদের কোন সম্পৃক্ততা খুজে পায়নি স্থাণীয়রা।

