বিজয় বার্তা ২৪ ডট কম
ব্রাক্ষণবাড়িয়ার নাসিরনগর ও হবিগঞ্জ মাধবপুরে সংখ্যালঘুদের উপর হামলাকারীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নারায়ণঞ্জ হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ।
নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের যৌথ্য উদ্যোগে শুক্রবার (৪ নভেম্বর) সকালে শহরের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে এই প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে তারা এই দাবি জানান।
শহরের প্রধান প্রধান সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জেলা ও মহানগর ও অন্যান্য সংগঠনগুলো।
জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি কমান্ডার গোপিনাথ দাসের সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি শংকর সাহা, সাধারণ সম্পাদক সুজন সাহা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কমলেশ সাহা, মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক উত্তম কুমার সাহা, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রদ্বিপ দাস, মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি লিটন চন্দ্র পাল, সাধারণ সম্পাদক নিমাই দে, ফতুল্লা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রঞ্জিত মন্ডল, বন্দর পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি শঙ্কর কুমার সাহা, সাধারণ সম্পাদক শ্যামল চন্দ্র বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক রিপন দাস, সিদ্ধিরগঞ্জ পূজা উদ্যাপন পরিষদের আহবায়ক শিশির ঘোষ অমর, জাগো হিন্দু পরিষদের জেলা সভাপতি কৃষ্ণ দাস কাজল, সহ-সভাপতি অজয় সূত্র দর, সাধারণ সম্পাদক সুজন দাস, সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী পপি রাণী দাস সহ আরো অনেকে।
এ সময়ে মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন এর নেতৃত্বে সংহতি প্রকাশ করে বিশাল মিছিল নিয়ে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিলে যোগদান করেন।
জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি শংকর সাহা বলেন, এই সরকার অসম্প্রদায়িক সরকার। কোন সম্প্রদায়িককারীকে প্রশয় দেন না। সে এলাকার স্থানীয় সাংসদের নির্দেশেই হামলা চালিয়ে প্রতিমা মন্ডপ ও সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ভাংচুর চালায়। আওয়ামীলীগের মধ্যে কিছু হাইব্রিড নেতা রয়েছে যারা দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। বর্তমান সরকার শেখ হাসিনা তার পরিবারের সকল সদস্যকে হারিয়েছে। আমরাও আমাদের আপন জনদেরকে হারিয়েছি। বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা স্বাধীন তাই এই সরকারের কাছে আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে স্বাধীন বিচারের দাবী জানান।
মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন বলেন, এদেশে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্যবদ্ধ হয়ে বসবাস করছি। কিন্তু একটি কুচক্রী মহল এদেশে ভাবমূর্তি নষ্ট করতে সংখ্যালঘুদের উপর নির্মম নির্যাতন চালাচ্ছে। বাংলাদেশে প্রতিনিয়তই সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন চলছে। কয়েকদিন আগে নাসিরনগরে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলা ও প্রতিমা ভাংচুর করা হয়েছে। আজ সকালে সেই স্থানে চারটি ঘরে আগুন লাগানো হয়েছে। তিনি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রশাসনে কাছে সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে বিচারের দাবী জানান এবং এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি লিটন চন্দ পাল বলেন, দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর চলমান এইসব বর্বর হত্যাকান্ড অনতিবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তা না হলে দিনে দিনে এদেশে সংখ্যালঘু সংখ্যা কম যাবে। দেশব্যাপী সংখ্যালঘু খুন ছাড়াও তাদের ওপর নানারকম নির্যাতন, জোরপূর্বক ধর্মান্তরকরণ, জমিজমা দখল, লুটপাট, মন্দির ও ঘরবাড়ি ভাঙচুরসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি নির্যাতনে আমরা ভীত। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।
সভাপতির বক্তব্যে কমান্ডার গোপিনাথ দাস বলেন, দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর চলমান বর্বর হত্যাকান্ড অনতিবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। দেশে হিন্দুরা জীবনযাপন করতে ভয় পাচ্ছে। যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিলো এবং সকল ধর্মের মানুষ নিরাপধে বসবাস করবে এ চেতনায় সবাই মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো। কিন্তু ইদানিং অপ্রতিরোধ্য সংখ্যালঘুদেরকে গুপ্ত হত্যা, মন্দির, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়ার ভয়ে জীবন বাঁচানোর জন্য তারা দেশান্তর হতে বাধ্য হচ্ছে। সংখ্যালঘুদের জন্মভূমি বাংলাদেশ। বাংলাদেশেই নিশ্চিন্তে-নিরাপদে একজন নাগররিক হিসেবে বেঁচে থাকতে চায় তারা। বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের তাদের নিজের জন্মভূমি বাংলাদেশে নিরাপধে থাকার সমস্ত ব্যবস্থা সরকারকে গ্রহণ করতে হবে এবং চলমান সংখ্যালঘু নির্যাতন বর্বরোচিত জঙ্গি হামলার মাধ্যমে হত্যাকান্ড বন্ধ করতে সরকারকে কাজ করতে হবে।
